বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং, এবার কী কংগ্রেস মুখি ক্যাপ্টেন?
বাংলার জনরব ডেস্ক : পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং এবার কি বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসের যোগ দিতে চলেছেন। আজ থেকে পাঁচ বছর আগে তিনি পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হিসেব কংগ্রেসের ছিলেন কিন্তু বিধানসভা ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রীর পর থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়ার পর তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। শনিবার জাতীয় এক টিভি চ্যানেলকে দেওয়ার সাক্ষাৎকারে প্রবীণ এই নেতা বলেছেন, ‘‘আমি গত ৬০ বছর ধরে পঞ্জাবে রাজনীতি করছি। কিন্তু বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি নেতৃত্ব আমার কোনও মতামত নেওয়ারই প্রয়োজন মনে করেন না।’’
সাক্ষাৎকারে অমরিন্দর বলেন, ‘‘আমি এবং আমার সহকর্মীরা পঞ্জাবের নির্বাচনী রাজনীতিতে ৬০ বছর কাটিয়েছি। আমরা পঞ্জাবকে বেশ কয়েকটি অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যেতে দেখেছি। আমরা কিছু কাজ করেছি। আমরা শুধু আশা করি, বিজেপি আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে আসা মতামত চাইবে এবং তার মূল্য দেবে।” তাঁর বিজেপি ছাড়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ভারতীয় সেনার অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেনের (যে নামে তিনি পঞ্জাব রাজনীতিতেও পরিচিত) তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, ‘‘রাজনৈতিক দলগুলি পরিবর্তিত হতে থাকে। বদলায় নেতাদের অবস্থান। তবে এখনই বিজেপি ছেড়ে যাওয়ার কথা আমি বিবেচনা করছি না।’’
আগামী বছরের গোড়াতেই উত্তরপ্রদেশ ও পঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে দুই রাজ্যেই গাঁধী পরিবারের একদা ঘনিষ্ঠ কয়েক জন নেতানেত্রী ফের কংগ্রেসে ফিরতে পারেন বলে জল্পনা রয়েছে। পঞ্জাবের ক্যাপ্টেন অমরিন্দর ছাড়াও পঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি সুনীল ঝাখর, উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী রীতা বহুগুণা জোশী ও রায়বরেলীর বিজেপি বিধায়ক অদিতি সিংহ নাম রয়েছে এই তালিকায়। সম্প্রতি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী জানিয়েছিলেন, ‘আঙ্কল’ অমরিন্দর তাঁর প্রিয় বিজেপি নেতা! সম্প্রতি কংগ্রেস হাইকমান্ড বিভিন্ন রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত এআইসিসি সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে বেশ কিছু রদবদল করেছে। পঞ্জাবের ভার দেওয়া হয়েছে রাজস্থানের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী সচিন পাইলটকে। কংগ্রেসে থাকাকালীন অমরিন্দরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল সচিনের।
পঞ্জাব কংগ্রেসে অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে মুখ্যমন্ত্রিত্ব থেকে অমরিন্দরকে সরিয়েছিল দলের শীর্ষনেতৃত্ব। এর পর সে বছরেরই নভেম্বরে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গাঁধীকে সাত পাতার চিঠি লিখে দল ছাড়ার ঘোষণা করেন তিনি। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পঞ্জাবের বিধানসভা ভোটের আগের নয়া দল ‘পঞ্জাব লোক কংগ্রেস’ গড়ে বিজেপির সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছিলেন অমরিন্দর। কিন্তু বিধানসভা ভোটে একটি আসনেও জিততে পারেনি তাঁর দল। এমনকি, পটীয়ালার রাজ পরিবারের সন্তান তাঁর পুরনো আসনে হেরে গিয়েছিলেন। তবে সেই ভোটে আম আদমি পার্টি (আপ)-এর কাছে হেরে পঞ্জাবের ক্ষমতা খুইয়েছিল কংগ্রেসও।

