আন্তর্জাতিক 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও ইরান পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে আবার যুদ্ধ হলে পরিনতি হবে ভয়ংকর

শেয়ার করুন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একতরফা ভাবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও ইরান থেমে নেই। ইরান পরিষ্কারভাবে বলেছে,আবার যুদ্ধ শুরু হলে ‘শত্রুর বাকি সম্পদ চূর্ণবিচূর্ণ’  দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও বার্তা সংস্থাগুলোর খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তবে ইরানের সামরিক বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত। তাঁর ভাষায়, “আমাদের বাহিনী ১০০ শতাংশ প্রস্তুত এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম।”

Advertisement

তিনি আরও জানান, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আগ্রাসন হলে পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী হামলা চালানো হবে। এই সতর্কবার্তায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি থাকলেও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতে কোনো শিথিলতা নেই।

এই বক্তব্য এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণার পর। ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবে একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তেহরান একটি ‘একীভূত প্রস্তাব’ না দেওয়া পর্যন্ত এই অবস্থা চলবে।

এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী তাদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে। দেশটির মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে বলা হয়েছে, সংঘাত আবার শুরু হলে ‘শত্রুর অবশিষ্ট সব সম্পদে ধ্বংসাত্মক আঘাত’ হানা হবে। তারা এটিকে একটি ‘নীরব যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

আইআরজিসি আরও বলেছে, যুদ্ধবিরতির সময়েও শত্রুপক্ষের তৎপরতা নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। যেকোনো অস্বাভাবিক পদক্ষেপের দ্রুত জবাব দেওয়া হবে বলেও তারা জানিয়েছে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিও জোরদার রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হলেও দুই দেশের মধ্যে আস্থার ঘাটতি এখনো রয়ে গেছে। একদিকে আলোচনা চলার ইঙ্গিত, অন্যদিকে সামরিক হুঁশিয়ারি—এই দ্বৈত পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

 

 

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ