আন্তর্জাতিক 

ভেস্তে গেল ইরান ও আমেরিকার ঐতিহাসিক শান্তি বৈঠক! নেপথ্যে রহস্য?

শেয়ার করুন

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সংলাপ শেষে ইরান তার পরমাণু প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় আসতে চায়নি বলে দাবি করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার টানা আলোচনার পর ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা নতুন করে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনকে সামনে নিয়ে এসেছে।

ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানের কাছ থেকে একটি সুস্পষ্ট এবং ইতিবাচক অঙ্গীকার প্রত্যাশা করছিল। সেই অঙ্গীকারের কেন্দ্রবিন্দু ছিল—ইরান কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না এবং এমন কোনো প্রযুক্তি বা উপকরণ অনুসন্ধান করবে না, যা তাদের দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সক্ষমতা এনে দিতে পারে। তবে এই বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

Advertisement

তিনি আরও বলেন, মূল প্রশ্ন হলো—ইরান কি দীর্ঘমেয়াদে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সত্যিকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখাচ্ছে কি না। শুধু বর্তমান বা আগামী দুই বছরের জন্য নয়, বরং স্থায়ীভাবে এই প্রতিশ্রুতি থাকা জরুরি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এখনো তেমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেখতে পায়নি, যদিও ভবিষ্যতে এই অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন ভ্যান্স।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নকে কেন্দ্র করে গত দুই দশক ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছে। এই বিরোধ নিরসনে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন সংলাপ চালায় দুই দেশ। তবে সেই আলোচনাও কোনো ধরনের চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার ঠিক পরদিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক সামরিক অভিযান শুরু করে, যা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।

পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠলে কূটনৈতিক উদ্যোগে ফিরে আসার চেষ্টা শুরু হয়। উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই ঘোষণার মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার পথ তৈরি হয় এবং দুই দেশ আবারও সংলাপে বসতে সম্মত হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা মুখোমুখি বৈঠকে বসেন। আন্তর্জাতিক মহল এই বৈঠককে একটি সম্ভাব্য ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে দেখছিল, যেখানে দীর্ঘদিনের বিরোধের সমাধান হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছিল।

তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় কোনো চুক্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার যে আশা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়ে গেল।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথ্যসূত্র : সিএনএন


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ