নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে এবার প্রশ্ন তুললেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি! কোন পথে ভারতের গণতন্ত্র?
সেখ ইবাদুল ইসলাম : পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই সমগ্র দেশেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেছে। কয়েকদিন আগে দেশের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ পরাকল প্রভাকর বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তামিলনাড়ু বিধানসভার নির্বাচনকে নিয়ে। এই নির্বাচনে নাকি মধ্যরাতে চার শতাংশ ভোট অতিরিক্ত পড়েছিল আর তা নিয়ে বিতর্ক বাধে। আর পশ্চিমবাংলার এসআইআর নিয়ে যা হচ্ছে তা সকলের কাছে দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়েছে। দেশের শীর্ষ আদালতে পশ্চিমবাংলার প্রান্তিক মানুষেরা যাদের ভোট বাতিল হয়েছে তারা এখনো পর্যন্ত সুবিচার পায়নি। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সুপ্রিম কোর্টের মহিলা বিচারপতি বি ভি নাগরত্ন চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির এই মন্তব্য ঘিরে দেশ জুড়ে আলোড়ন পড়ে গেছে।
তিনি আজ বিহারের পটনায় একটি অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে এমন কথা বললেন, যা এই মুহূর্তে কাকতালীয় মনে হলেও আসলে ভয়ংকর প্রাসঙ্গিক। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন যদি রাজনৈতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার করে,তা হলে গণতন্ত্রের ভিতটাই নড়ে যায়।

উল্লেখ্য, তাঁর এই কথাটা বলার দিনেই ভোট-বাংলায় ভোটার তালিকা নিয়ে টানাটানি চলছে। প্রশ্ন উঠছে স্বচ্ছতা নিয়ে। মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মালদহ থেকে একের পর এক সমালোচনার বাণে বিদ্ধ করেছেন নির্বাচন কমিশনকে।
বিচারপতির নাগরত্নার বক্তব্য, একটি দেশ ঠিক ততটাই স্বাধীন, যতটা স্বাধীন তার প্রতিষ্ঠানগুলো। নির্বাচন কমিশন, ক্যাগ বা অর্থ কমিশনের উপর বাইরের প্রভাব যত কম, গণতন্ত্র তত সুস্থ। তিনি আরও বলেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সাংবিধানিক কাঠামো তৈরিই হয়েছে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কথাটি তিনি বললেন সেটি হল– যে সংস্থা ভোট পরিচালনা করে, সেই সংস্থা যদি ভোটে অংশগ্রহণকারীদের উপর কোনও ভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অনিবার্য। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সরাসরি কারও নাম না করেও তিনি অনেক কিছু বললেন। এবং ঠারেঠোরে বর্তমানে নির্বাচন কমিশন যে ভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেই দিকেই ইঙ্গিত করেছেন তিনি।
বিচারপতি নাগরত্নের মতে, নির্বাচন নিছক একটি সাময়িক মুহূর্ত নয়, একটি ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই শান্তিপূর্ণ ভাবে ক্ষমতার হাতবদল হয়। সেই ব্যবস্থা যদি প্রশ্নের মুখে পড়ে, তাহলে ফলাফল যাই হোক, জনমানসে একটা অবিশ্বাস থেকে যায়।
এবার বাংলার ভোটার তালিকা বিতর্ক সেই অবিশ্বাসের বীজ বুনে দিয়েছে কি না, সেটা সময় বলবে। উল্লেখ্য, বিচারপতি বি ভি নাগরত্ন ২০২৭ সালেই ভারতের প্রধান বিচারপতি হওয়ার দাবিদার। সেক্ষেত্রে দেশের ইতিহাসে তিনিই হবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি। তাই তাঁর প্রতিটি মন্তব্যই এখন বিশেষ তাত্পর্যের। নজরকাড়া এবং উল্লেখযোগ্য।

