ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ড বিষয়ে নরেন্দ্র মোদির নীরবতা একটি গুরুতর ভুল!
বিশেষ প্রতিনিধি : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের কথিত যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খমেনির হত্যাকাণ্ডের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভারত সরকারের নীরবতার তীব্র সমালোচনা করেছেন এসডিপিআই-এর জাতীয় সহ-সভাপতি এম কে ফাইজি। এই হত্যাকাণ্ড পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা তীব্রতর করেছে, পাল্টা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে—যার ফলে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত ভারতীয় প্রবাসীদের নিরাপত্তা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ভারতের সরকারি প্রতিক্রিয়া সাধারণ সংযম প্রদর্শনের আহ্বানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে; এতে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি উল্লেখ বা ঘটনার গুরুত্বের স্বীকৃতি নেই। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগের এই মুহূর্তে এমন দূরত্ব বজায় রাখা ভারতের নৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে এবং সার্বভৌমত্ব, নিরপেক্ষতা ও বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি দেশের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে গভীর কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও আঞ্চলিক ভারসাম্য বিপন্ন করতে পারে—এমন পরিস্থিতিতে ভারতের অস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণের সুযোগ নেই।

অতএব, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে যে তারা একটি স্পষ্ট ও নীতিনিষ্ঠ অবস্থান প্রকাশ করুক, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করুক এবং উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করুক। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ন্যায়, সংলাপ ও শান্তির মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে সময়োপযোগী ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত জরুরি।

