কলকাতা 

অযথা মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে, জ্ঞানেশ কুমারকে পঞ্চম চিঠিতে অভিযোগ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : পঞ্চম চিঠিটি লিখে ফেললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে। সময়ের বিচারে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দুটো চিঠি দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। ওই চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন,ভোটারদের অনেকে কাগজ জমা দিয়েছেন। তার পরেও তাঁদের নাম কাটা হচ্ছে। এসআইআরের শুনানিতে ভোটাররা নথি জমা দিলেও কোনও রসিদ বা প্রমাণ দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর আরও অভিযোগ, কমিশনের তরফে পরে বলা হচ্ছে, ভোটারের কাগজ পাওয়া যায়নি। অথবা রেকর্ডে নেই। এই অজুহাতে ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর।

২০০২ সালের ভোটার তালিকা ‘ডিজিটাইজ়ড’ করতে গিয়েও ভুলভ্রান্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ২০০২ সালের তালিকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-র সাহায্যে ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়েছে। এর ফলে ভোটারদের নামের বানান, বয়স, পিতার নাম, সম্পর্ক, লিঙ্গপরিচয় চিহ্নিতকরণে ভুল হচ্ছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর বক্তব্য, এই সমস্ত ভোটারের ক্ষেত্রেই তথ্যগত ভ্রান্তি বা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কথা বলছে কমিশন।

Advertisement

এসআইআর নিয়ে জ্ঞানেশকে লেখা পঞ্চম চিঠিতেও মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, অযথা মানুষকে হয়রান করছে কমিশন। তাঁর বক্তব্য, সামান্য বানান ভুলের জন্যও নোটিস দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা খুব ছোট, যা অফিসে বসেই ঠিক করা যায়। তার বদলে মানুষকে শুনানির জন্য নোটিস পাঠিয়ে ডেকে নিয়ে গিয়ে সময় এবং টাকা নষ্ট করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন নিজেদের পুরনো নির্দেশই মানছে না বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “এর আগে কমিশন বলেছিল, পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে না-মিললে ভোটারকে নোটিস দেওয়া হবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, যাঁদের সব তথ্য মিলেছে, তাঁদেরকেও নোটিস পাঠানো হচ্ছে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর আর্জি, অযথা হয়রানি বন্ধ করতে, মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করতে ভুল পদ্ধতি অবিলম্বে সংশোধন করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ভোটার তালিকা সংশোধন করা দরকার, কিন্তু প্রকৃত ভোটারদের বাদ দিয়ে নয়।

গত শনিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন যে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় সংবেদনশীলতার অভাব রয়েছে। কমিশন যে ভাবে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করছে, তাতে তিনি স্তম্ভিত এবং বিরক্ত বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার টাইপ করা চিঠির শেষে তিনি হাতে দু’লাইন লিখে দেন। সেখানে মমতা লিখেছিলেন, ‘‘আমরা মনে হয় এই চিঠির উত্তর পাব না। তবে আমার কর্তব্য, বিষয়গুলি আপনার কাছে তুলে ধরা।’’

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ