প্রচ্ছদ 

আদালতের রায় অমান্য করে মানবাধিকারের লঙ্ঘন— সোনালী খাতুনদের অবিলম্বে দেশে ফেরাতে হবে : ডাঃ কামাল বাসিরুজ্জামান 

শেয়ার করুন

২৫ অক্টোবর ২০২৫, কলকাতা : কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সোনালী খাতুন ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে থাকা ছ’জন ভারতীয় নাগরিককে চার সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফেরানোর সময়সীমা শেষ হলেও এখনও তাঁদের ফেরানোর কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। এটি এক গভীর মানবিক ও সাংবিধানিক লঙ্ঘন। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করে কেন্দ্র আজ সংবিধান ও মানবাধিকারের প্রতি উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে।

এসডিপিআই মনে করে, সোনালী খাতুনরা কোনও বিদেশি নন — তাঁরা ভারতেরই নাগরিক, যা আদালতও স্বীকৃতি দিয়েছে। অথচ তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ বলে তকমা দিয়ে জোর করে বিদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এমন ঘটনার মধ্যে দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বৈষম্যমূলক ও অন্যায্য মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে দেশছাড়া করা শুধু আইনবিরোধী নয়, এটি মানবতার পরিপন্থীও।

Advertisement

 

তৃণমূলের সাংসদ সামিরুল ইসলাম এ বিষয়ে সরব হওয়ায় আমরা তাঁকে স্বাগত জানাই। তবে এটি কোনও দলীয় রাজনীতির বিষয় নয় — এটি একান্তভাবে ভারতীয় নাগরিকত্ব ও মানবাধিকারের প্রশ্ন। আদালতের রায়কে সম্মান জানিয়ে কেন্দ্রের উচিত অবিলম্বে সোনালী খাতুন ও অন্যদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে সুস্পষ্ট নীতি গ্রহণ করা। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের উচিত দেশব্যাপী যেভাবে বাঙালি বিদ্বেষ বেড়ে চলেছে সরকারি ভাবে তা প্রতিহত করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

 

এসডিপিআই কেন্দ্র সরকারের কাছে জোরালোভাবে দাবি জানাচ্ছে—

১. আদালতের নির্দেশ দ্রুত কার্যকর করে ছ’জন ভারতীয় নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।

২. দায়িত্বপ্রাপ্ত দফতরগুলির গাফিলতির জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা হোক।

৩. নাগরিকত্বের প্রশ্নে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সংবিধানের মূল চেতনা বজায় রাখা হোক।

৪ . এসআইআর-এর নামে বাঙালিদের বেনাগরিক করার ষড়যন্ত্র বন্ধ করা হোক।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ