গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তাল মনিপুর! শনিবার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী?
মণিপুরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি ঘোষণা করলেন মণিপুরের মুখ্যসচিব পুনিত গোয়েল।
মণিপুর সফরে ইম্ফল এবং চুরাচান্দপুর— দুই জায়গায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। পুনিত জানিয়েছেন, শনিবার মোদী বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ আইজ়ল থেকে মণিপুর যাবেন। প্রথমেই তিনি চুরাচান্দপুর পৌঁছোবেন। সংঘর্ষ-পর্বে ঘরছাড়াদের সঙ্গে দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী। শুনবেন তাঁদের অভাব অভিযোগ। শুধু তা-ই নয়, চুরাচান্দপুরে একটি জনসভা করার কথাও রয়েছে তাঁর। তবে তার আগে কিছু উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর করবেন মোদী। চুরাচান্দপুর থেকে ইম্ফলে যাবেন তিনি। সেখানেও ঘরছাড়াদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। মণিপুরের মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, শনিবার মোদীর ৭,৩০০ কোটি টাকার প্রকল্পের শিলান্যাস করার কথা। একই সঙ্গে ১,২০০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন হবে তাঁর হাত দিয়ে।

দু’বছরের বেশি সময় ধরে গোষ্ঠী-সংঘর্ষে উত্তপ্ত মণিপুর। গত ৩ মে, ২০২৩ থেকে মণিপুরে হিংসার ঘটনা ঘটেছে বার বার। মেইতেই এবং কুকি জনজাতির সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির মধ্যে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। গত দু’বছরে মণিপুরে গোষ্ঠীহিংসায় ২৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ৫৭,০০০ জন বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাঁদের থাকার জন্য ২৮০টিরও বেশি ত্রাণশিবির তৈরি করেছে মণিপুর সরকার। তেমনই কয়েকটি ত্রাণশিবির ঘুরে দেখার কথা মোদীর।
মণিপুরের অশান্তির মাঝেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন বীরেন সিংহ। বর্তমানে মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি রয়েছে। কিন্তু এই দু’বছরে অশান্ত মণিপুর নিয়ে প্রায় ‘নীরব’ই ছিলেন মোদী। বিরোধীরা বার বার দাবি করেছে, কেন প্রধানমন্ত্রী মণিপুর যাচ্ছেন না? কেন তিনি মণিপুর নিয়ে কোনও কথা বলছেন না?
মোদীকে মণিপুরে যাওয়ার জন্য বার বার আহ্বান জানিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এত দিনে মোদীর মণিপুর যাওয়া নিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘‘দীর্ঘ দিন সেখানে সমস্যা চলছে। তবে উনি (প্রধানমন্ত্রী) এখন যাচ্ছেন, তাও ভাল।’’ তবে রাহুল মনে করেন, ‘‘এখন এটা কোনও বড় ব্যাপার নয়। এখন আসল বিষয় ভোটচুরি।’’

