রাহুল গান্ধীই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী? I.N.D.I.A-র হয়ে ঘোষণা তেজস্বী যাদবের! কেন এই বার্তা?
বাংলার জনরব ডেস্ক : রাহুল গান্ধী দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী বলে জানিয়ে দিলেন বিহারের রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী যাদব। মনে করা হচ্ছে, লোকসভা খুব তাড়াতাড়ি ভেঙে দিতে পারে মোদি সরকার কারণ ভোট চুরির যে অভিযোগ উঠেছে তা থেকে পরিত্রাণ পেতে নতুন করে জনা দেশ নেওয়ার কথা ভাবতে পারেন নরেন্দ্র মোদি। তাই আগে থেকেই ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হলো যে তাদের পছন্দের প্রার্থী রাহুল গান্ধী। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাহুলই বিরোধী শিবিরের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হবেন বলে জানালেন তিনি। আর তাতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিরোধী শিবিরের অন্যরা রাহুলের পদপ্রার্থী হওয়া মেনে নেবেন কি না, উঠছে প্রশ্ন। (Bihar Voter Adhikar Rally)।
আগে বিহারে ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধন ঘিরে যে বিতর্ক ও বিবাদ মাথাচাড়া দেয়, তা আন্দোলনের রূপ ধারণ করেছে। আর এই আন্দোলনের একেবারে অগ্রভাগে রয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল। নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি একজোটে ‘ভোটচুরি’ করছে বলে অভিযোগ করেছেন রাহুল। শুধু অভিযোগ তুলেই থেমে থাকেননি, অনিয়মের দস্তাবেজও তুলে ধরেছেন গোটা দেশের সামনে। বিহারে এই মুহূর্তে ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’য় নেতৃত্বও দিচ্ছেন তিনি। (Tejashwi Yadav on Rahul Gandhi)

আর সেই আবহেই রাহুলকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করার কথা জানালেন তেজস্বী। তাঁর বক্তব্য, “বিহার থেকে ‘খটারা’ সরকারকে উপড়ে ফেলুন। আমরা তরুণ প্রজন্ম, আমাদের চিন্তাভাবনা নতুন। আমরা নতুন বিহার তৈরি করব। ধর্ম-বর্ণ সকলকে নিয়ে চলব আমরা। বেকারত্ম থেকে মুক্তি চাই আমরা। মোদিজি আমাদের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা করেছেন। রাহুল গাঁধীকে ধন্যবাদ। মানুষকে সচেতন করছেন উনি। এবার বিহারে NDA সরকারকে উপড়ে ফেলব। আর পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনে রাহুল গাঁধীকে প্রধানমন্ত্রী করার কাজ করব আমরা।”
I.N.D.I.A শিবিরের অন্যরা এ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি এখনও পর্যন্ত। কিন্তু তেজস্বীর এই ঘোষণা ঘিরে জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। তিনি রাহুলের নাম ঘোষণা করলেও, বিরোধী শিবিরের বাকিরা এতে রাজি হবেন কি না, উঠছে প্রশ্ন। কারণ এর আগে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেই রাহুলকে সামনে রেখে লড়ার ক্ষেত্রে আপত্তি ছিল অন্যদের। ২০১৪, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের ব্যর্থতা, একের পর এক রাজ্যে কংগ্রেসের ভরাডুবিকে সামনে রেখে রাহুলের নেতৃত্বগুণ নিয়েও প্রশ্ন তোলে অনেকে। পরিবর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মল্লিকার্জুন খড়গে এমনকি সেই সময় I.N.D.I.A শিবিরে শামিল থাকা নীতীশকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করার সপক্ষে ভোট পড়ে।
কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলেছে। লোকসভায় প্রধান বিরোধী দল হিসেবেই শুধুমাত্র উঠে আসেনি কংগ্রেস, রাহুল ওয়েনাড এবং রায়বরেলী, দুই কেন্দ্র থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হন। এমনকি লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে যেভাবে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দেখা গিয়েছে রাহুলকে, ‘ভোটচুরি’ নিয়ে কমিশন এবং সরকারকে লাগাতার যেভাবে আক্রমণ করছেন তিনি, তাতে রাহুলের ডাকে দিল্লিতে একছাদের নীচে জড়োও হন বিরোধী শিবিরের ছোট-বড় নেতারা। তাহলে কি I.N.D.I.A শিবিরে রাহুলকে নিয়ে সমীকরণ বদলে গিয়েছে? তেজস্বীর মন্তব্যে বাড়ছে জল্পনা। তবে রাহুল বা কংগ্রেস তেজস্বীর এই মন্তব্য়ে কোনও রকম প্রতিক্রিয়া জানায়নি এখনও পর্যন্ত। অন্য বিরোধী দলগুলিও কোনও মন্তব্য করেনি।

