দেশ 

ইসরাইল-ইরান সংঘাত নিয়ে কেন্দ্রের মৌন অবস্থানকে নীতি বিরুদ্ধ ও ‘কাপুরুষোচিত’ বলে অভিহিত করলেন সোনিয়া গান্ধী

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : ইসরাইল-ইরান সংঘাতে এখনও কমবেশি নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে ভারত সরকার। শুধু শান্তির বার্তা ছাড়া মোদি সরকার কারও পক্ষ নিয়েই কোনওরকম বার্তা দেয়নি। কিন্তু কেন্দ্রের এই মৌন অবস্থানকে ‘নীতি বিরুদ্ধ’ এবং ‘কাপুরুষোচিত’ বলে তোপ দেগে দিলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী। সোনিয়া সাফ বলে দিলেন, “ইসরাইল ইরানের সাধারণ জনগণের উপর যে হামলা চালাচ্ছে সেটা একতরফা ও আইনবিরুদ্ধ। ভারত সরকারের উচিত এ নিয়ে নীরবতা ভঙ্গ করা।”

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আবহে সরকার নীরব থাকলেও কংগ্রেস যে ইরানের পক্ষে সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন সোনিয়া। কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন দ্য হিন্দু পত্রিকায় লেখা একটি প্রবন্ধে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, “ইরান আমাদের পুরনো বন্ধু। শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কই নয়, ইরানের সঙ্গে আমাদের সাংস্কৃতিক যোগও রয়েছে।” সোনিয়া মনে করিয়েছেন, “অতীতে একাধিকবার কাশ্মীর ইস্যুতে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান।” এই লড়াইয়ে কংগ্রেস যে ইরানেরই পাশে সেটা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন সোনিয়া। কংগ্রেস নেত্রীর দাবি, কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারেরও উচিত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিরক্ষার জন্য সরব হওয়া।

ইসরাইল প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে নিষ্ঠুর দেগে দিয়ে কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রীর বক্তব্য, “ইসরাইল যেভাবে ইরানে হামলা চালিয়েছে সেটা ইরানের সার্বভৌমত্বে আঘাত। এটা বেআইনি, একতরফা এবং আঞ্চলিক শান্তি বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা। কংগ্রেস এই হামলার নিন্দা করছে। ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে যখন কথাবার্তা শুরু হচ্ছিল, তখন হামলা কেন?” সোনিয়ার দাবি, মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান তুলসী গাবার্ডই জানিয়েছেন, ইরান কোনওরকম পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না। ২০০৩ সালে সেই চেষ্টা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেই সেটার অনুমতিও দেননি। তারপরও ইরানে কেন ইসরাইল হামলা চালাল, প্রশ্ন তুলছেন সোনিয়া। আর শুধু ইরান নয়, ইসরাইল যেভাবে গাজা ভুখণ্ডে লাগাতার ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছে, সেটারও তীব্র নিন্দা করেছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী।

এরপরই মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ভারত সরকারের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন সোনিয়া। তিনি বলেন, “গাজা এবং ইরানের এই মানবিক সংকটে নয়াদিল্লির নীরবতা আমাদের নৈতিক এবং কূটনৈতিক ঐতিহ্যের পরিপন্থী। এতে শুধুই মধ্যপ্রাচ্যে ভারত কণ্ঠস্বর হারাবে তাই নয়, এটা আমাদের নৈতিকতার সঙ্গেও আপস করা।” যদিও কংগ্রেস সভানেত্রী বলছেন, “এখনও দেরি হয়ে যায়নি। নয়াদিল্লির উচিত এখনই মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে অবস্থান বদলানো।”


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ