দেশ 

সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের জন্য অমিত শাহের নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা ও পদত্যাগ দাবি করল এসডিপিআই 

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : সোস্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়ার জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ইয়াসমিন ফারুকি ১ জুন ২০২৫, কলকাতায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কর্তৃক প্রদত্ত এক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। উক্ত বক্তব্যে অমিত শাহ অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর বিরোধিতা করছেন মুসলিম ভোটব্যাংককে তুষ্ট করার জন্য। এ ধরনের মন্তব্য শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করে না, বরং ভারতীয় মুসলিমদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং একটি সম্প্রদায়কে ভিত্তিহীনভাবে সন্দেহের চোখে দেখা হয়।

এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য গুলো ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে শত্রুতা বৃদ্ধি করে এবং ভারতের সংবিধানে নির্ধারিত একতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার মূলে আঘাত হানে। ফলে, এই মন্তব্যের জন্য অমিত শাহকে অবিলম্বে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। প্রকৃতপক্ষে, অমিত শাহ যেভাবে মুসলিমদের উপস্থাপন করেছেন, তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়—ভারতীয় মুসলিমরা ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর বিরোধিতা করেননি; বরং এই অভিযান সর্বস্তরের মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। পাকিস্তানের প্রতি সহানুভূতির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, দুরভিসন্ধিমূলক ও একটি গোষ্ঠীকে কালিমালিপ্ত করার প্রচেষ্টা মাত্র—যে গোষ্ঠী বরাবরই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থেকেছে।

Advertisement

অমিত শাহের এই মন্তব্য ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩(এ) ধারার পরিপন্থী বলে বিবেচিত হতে পারে, যা বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ও বিদ্বেষমূলক মনোভাব ছড়ানোকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। যদিও এই মন্তব্য নির্বাচন চলাকালীন সময়ে দেওয়া হয়নি, তবুও এটি নির্বাচন আচরণবিধির মূল চেতনাকে লঙ্ঘন করে এবং ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

আমরা দাবি জানাচ্ছি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যেন তাঁর দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। একই সঙ্গে আমরা তাঁর পদত্যাগ দাবি করছি এবং এই ধরনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিভঙ্গের জন্য যথাযথ আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।

আমরা বিভাজনমূলক ও সাম্প্রদায়িক বক্তব্য বন্ধ করার দাবি জানাই। পাশাপাশি, আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন নির্বাচনের পূর্বপর্বে রাজনৈতিক বক্তৃতা ও প্রচার-প্রচারণার ভাষা কঠোরভাবে নজরদারি করে এবং নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানায়—তারা যেন ধর্মীয় বিভাজনের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা যেকোনো ধরণের ঘৃণার রাজনীতিকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ