কলকাতা 

ডাকাতির ঘটনায় অভিযুক্ত কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল আড়াই বছর জেলে থাকার পরেও জামিন দিল না হাইকোর্ট! এ প্রসঙ্গে আদালত কী বলল?

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : আড়াই বছর ধরে জেলে থাকার পরেও জামিন পেলেন না কলকাতা পুলিশের এক কনস্টেবল। ইকবালপুর থানায় কর্মরত ওই কনস্টেবল ডাকাতির ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। সেই মামলাতে টানা ৯০৯ দিন তিনি বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। এই মামলা আলিপুর আদালতে চলছে দীর্ঘদিন জামিন না পাওয়ার কারণে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই অভিযুক্ত কনস্টেবল। হাই কোর্ট জানিয়েছে, অভিযুক্ত ওই পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে তদন্তে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ মিলেছে। ফলে প্রায় আড়াই বছর ধরে জেলে থাকলেও এখনই তাঁকে জামিন দেওয়ার পক্ষপাতী নয় আদালত। সব দিক বিবেচনা করে অভিযুক্তের জামিনের আর্জি খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট।

শুক্রবার হাই কোর্টের বিচারপতি পার্থসারথি সেনের অবকাশকালীন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি ছিল। পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। অবকাশকালীন বেঞ্চ জানিয়েছে, নিম্ন আদালতে (আলিপুর আদালতে) বিচার প্রক্রিয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় এখনই জামিন দেওয়া যাবে না অভিযুক্তকে। আলিপুর আদালতকে দ্রুত এই মামলায় বিচারের কাজ শেষ করার জন্যও বলেছে হাই কোর্ট।

Advertisement

বস্তুত, ওই একই ঘটনায় একবালপুর থানার তৎকালীন এক সিনিয়র কনস্টেবলও গ্রেফতার হয়েছিলেন। এর আগে ওই সিনিয়র কনস্টেবলেরও জামিনের আবেদন বাতিল করে দিয়েছিল হাই কোর্ট। ওই সময়ে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি অপূর্ব সিংহ রায়ের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল, পুলিশের এমন কাজে আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের ভরসা কমে যাবে। আইনের রক্ষকের বিরুদ্ধে যখন আইন ভাঙার এবং অপরাধ করার অভিযোগ ওঠে, তা খুবই দুঃখজনক। একজন পুলিশকর্মীর উচিত জনগণের সেবক হিসাবে কাজ করা। জনগণকে রক্ষা করবেন, এটিই তাঁর দায়িত্ব এবং কর্তব্য।

ঘটনাটি ২০২২ সালের ২ নভেম্বরের। কলকাতার ময়ূরভঞ্জ রোডের ধারে একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, সেখানে একটি হোটেলের ঘর থেকে ৩৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা খোয়া যায়। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একবালপুর থানার সিনিয়র কনস্টেবল এবং অপর এক কনস্টেবলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সিনিয়র কনস্টেবলের জামিনের আবেদন আগেই খারিজ হয়ে যায়। অন্য জন জামিন চেয়ে অবকাশকালীন বেঞ্চে আবেদন জানান। মামলায় ওই কনস্টেবলের বক্তব্য, ঘটনার দিন সকাল ১০টায় সিনিয়র কনস্টেবলের নির্দেশে তিনি ময়ূরভঞ্জ এলাকার ওই হোটেলে যান। ঘটনার বিষয়ে কিছু জানতেন না। সিনিয়র কনস্টেবলের কথায় হোটেল রুমের বাইরে পাহারা দিচ্ছিলেন। ৯০৯ দিন জেলে রয়েছেন, এ বার জামিন দেওয়া হোক। হাই কোর্ট সেই আবেদনে সাড়া দিল না।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ