আসন পুনর্বিন্যাসে ষড়যন্ত্র দেখছে বিরোধীরা! মমতা-সহ ৭ মুখ্যমন্ত্রীকে একসঙ্গে লড়াইয়ের বার্তা স্ট্যালিনের
বাংলার জনরব ডেস্ক : লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে দক্ষিণ ভারতে রাজ্যগুলির সাংসদ সংখ্যা অনেকটাই কমে যেতে পারে। কারণ এই আসন পুনর্বিন্যাস হবে জনসংখ্যার অনুপাতে। দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি জনসংখ্যার অনুপাতে অনেকটাই কম। জন্মহার নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি ভালো ভূমিকা পালন করেছে। এর ফলে লোকসভায় অনেকটা আসন কমে যেতে পারে।এবার সেই ইস্যু নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একপ্রকার ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করে দিলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিন। তবে তিনি একা নন, এই লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও অন্তত ৭ মুখ্যমন্ত্রীকে পাশে চাইছেন স্ট্যালিন। এর মধ্যে বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও রয়েছেন। চিঠি দিয়ে মমতা-সহ সাত মুখ্যমন্ত্রীকে কেন্দ্রের সম্ভাব্য আসন পুনর্বিন্যাস নীতির বিরোধিতায় একজোট হওয়ার বার্তা দিয়েছেন স্ট্যালিন।
সব কিছু ঠিক থাকলে খুব তাড়াতাড়িই লোকসভার আসনের পুনর্বিন্যাস করবে কেন্দ্র। সংসদের নতুন ভবন উদ্বোধনের দিনই সেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কংগ্রেস তথা অন্য বিরোধীদের আশঙ্কা, ক্ষমতাকে ব্যবহার করে নিজেদের সুবিধামতো আসন পুনর্বিন্যাস করে নেবে বিজেপি। আসলে জনসংখ্যার ভিত্তিতে যদি নতুন আসন বণ্টন করা হয় তাহলে দক্ষিণ ভারত বা পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলির তুলনায় গোবলয়ের রাজ্যগুলিতে আসন সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। কারণ গোবলয়ের রাজ্যগুলিতে আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা বেশি। বিরোধীরা মনে করছে, বিহার, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্য যেখানে কিনা বিজেপি অত্যন্ত শক্তিশালী, সেখানে অনেক বাড়বে আসনসংখ্যা। পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরলের (Kerala) মতো রাজ্যে তুলনায় লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়বে অনেক কম।

এই আশঙ্কা থেকেই স্ট্যালিন অবিজেপি রাজ্যগুলিকে একত্রিত করতে চাইছেন। লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ডাক দিয়ে তিনি সাত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। সেই তালিকায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি যেমন আছেন, তেমনই আছেন এনডিএ জোটভুক্ত অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু, আবার বিজেপি শাসিত ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝিকেও। এছাড়াও এই রাজ্যগুলির বিভিন্ন দলের প্রধানদেরও চিঠি দিয়েছেন স্ট্যালিন। তাঁর চিঠি গিয়েছে কয়েকজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। আসলে স্ট্যালিন চাইছেন, দলমত নির্বিশেষে রাজ্যের স্বার্থে সবার লড়াই করতে এগিয়ে আসা উচিত।

