মালদহে পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষকদের মারধরের ঘটনায় ৯ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল, দুই প্রধান শিক্ষককে শোকজ করল উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ
বিশেষ প্রতিনিধি : গতকাল ইংরেজি পরীক্ষার দিন উচ্চমধ্যমিক পরীক্ষা দিতে গিয়ে শিক্ষকদের উপর চড়াও হয়েছিলেন যে নয়জন কীর্তিমান পরীক্ষার্থী তাদের সকলের পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। এরা সকলেই মালদাহের কালিয়াচক তিন নম্বর ব্লকের কামারিতলা হাই মাদ্রাসার ছাত্র। এদের পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল বৈষ্ণবনগর এলাকার চামাগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়। ইংরেজি পরীক্ষার দিন সংসদের নির্দেশিকা অনুসারে পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি চালাতে গিয়ে আক্রান্ত হয় ছয় শিক্ষক।
এই ঘটনায় শিক্ষক সমাজের মধ্যে অশান্তি দেখা যায়। শিক্ষকরা সিদ্ধান্ত নেয় এরপর থেকে তারা আর ছাত্রদের বা পরীক্ষার্থীদের কোনরকম তল্লাশি করবে না। কিন্তু গতকালই উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি জানিয়েছিলেন রিপোর্ট তলব করা হয়েছে রিপোর্টের পর কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই রিপোর্ট পাওয়ার পরেই আজ বৃহস্পতিবার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জিত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন ওই চিহ্নিত নয়জন পরীক্ষার্থীকে বাতিল করা হয়েছে একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।


এদিন উত্তর দিনাজপুরের কর্ণজোড়ার সার্কিটের সাতটি স্কুল পরিদর্শন করেন চিরঞ্জিত ভট্টাচার্য। তারপর সাংবাদিক সম্মেলন করে কড়া শাস্তির কথা জানান তিনি। অভিযুক্ত পড়ুয়াদের পাশাপাশি দুই স্কুলকেও কঠিন সাজার মুখে পড়তে হচ্ছে। চিরঞ্জিত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, মালদহের কালিয়াচক ৩ ব্লকের চামাগ্রাম হাই স্কুলে শিক্ষকদের মারধরের ঘটনায় জড়িত কামরিটোলা হাই মাদ্রাসার ৯ জন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল করা হবে। সেইসঙ্গে দুই স্কুলের প্রধানশিক্ষকদের শোকজ করা হচ্ছে। তবে আপাতত পরীক্ষা দিতে পারবে বাকি পড়ুয়ারা। কিন্তু যদি দেখা যায়, তাদের মধ্যে আরও কেউ শিক্ষকদের মারধরের ঘটনায় যুক্ত, তাহলে তাদেরও পরীক্ষা বাতিল করা হবে।
এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাসংসদ সভাপতি আরও জানান, এবছরও যদিও পরীক্ষার শেষদিনে পড়ুয়ারা যদি পরীক্ষাকেন্দ্রে ভাঙচুর করে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে স্কুলকে। পরীক্ষার্থীদের স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ডেকে পাঠিয়ে ক্ষয়ক্ষতির হিসেব দেওয়া হবে। সেই স্কুলের থেকেই ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। যেমনটা গতবছর মালদহের স্কুলের সঙ্গে করা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, পরীক্ষায় বসার আগে পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি চালানোর অভিযোগে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের হাতে আক্রান্ত হন বৈষ্ণবনগরের চামাগ্রাম হাই স্কুলের শিক্ষকরা। হামলায় ওই স্কুলের মোট ছয়জন শিক্ষক জখম হয়েছেন। সব থেকে বড় কথা, এই ঘটনা যখন চলছে, সেসময় খোদ রাজ্যের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা পরিষদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জেলাতেই উপস্থিত ছিলেন। তখনই তিনি কড়া বার্তা দিয়ে রেখেছিলেন। এবার তা বাস্তবায়ন করলেন।

