কলকাতা জেলা 

শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে আহত বামপন্থী ছাত্রনেতার বাবা তৃণমূলের নেতা!

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : পশ্চিমবাংলার ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে নতুন আরেকটি ঐতিহাসিক ঘটনা গতকাল শনিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ঘটেছে। ব্রাত্য বসুর সামনে দাঁড়িয়ে যে ছেলেটি সবচেয়ে বেশি সরব হয়েছিলেন শাসক দল এবং শিক্ষা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে সেই ছেলেটির বাবা হাওড়া জেলার তৃণমূলের নেতা। শিক্ষামন্ত্রীকে যেভাবে চাপে রাখার জন্য গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েছিলেন এসএফআই নেতা অভিনব বসু তা এক কথায় অভিনবত্ব বলা যেতে পারে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের প্রথম বর্ষের পড়ুয়া বলে জানা গেছে। বাবা অমৃত বসু হাওড়া জেলার সাঁকরাইল এলাকার তৃণমূল নেতা। বাবা অবশ্য তৃণমূল নেতার মতোই কথা বলেছেন তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন যে তার ছেলের সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই। গতকাল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় যা ঘটেছে তা নিন্দনীয়। কোন ছাত্র এই ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে না। ছেলের সঙ্গে মতাদর্শগত পার্থক্য তো আছেই বিগত কয়েক বছর ধরে সে বাড়িতেও আসে না।

জানা গেছে,শনিবার ওয়েবকুপার বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের বিক্ষোভের মুখে পড়েন ব্রাত্য। তাঁকে ঘিরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও দেন এসএফআই, আইসা, ডিএসএফের সদস্যেরা। তা থেকেই অশান্তির সূত্রপাত। দফায় দফায় উত্তেজনা তৈরি হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চত্বরে। অভিযোগ, ব্রাত্যের গাড়ির চাকার হাওয়া খুলে দেন বিক্ষোভকারী পড়ুয়ারা। শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির পাশাপাশি তাঁর পাইলট কারে ভাঙচুর চালানোরও অভিযোগ ওঠে। ব্রাত্য আহতও হন। বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের পাল্টা অভিযোগ, মন্ত্রীর গাড়ি এক ছাত্রকে চাপা দিয়েছে। তিনি আহত হয়েছেন। পড়ুয়াদের দাবি, ওই ছাত্র যাদবপুরের কেপিসি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও, তাঁর বাঁ চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা সহপাঠীদের। সেই অশান্তির মধ্যেই জখম হন অভিনব। তাঁর পায়ের উপর দিয়ে তৃণমূল সমর্থিত অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্রের গাড়ির চাকা চলে গিয়েছে বলে অভিযোগ।

Advertisement

এই ঘটনা নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিনবের বাবা অমৃত। তিনি বলেন, ‘‘প্রথমেই বলে রাখি, গোটা ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। ছেলের সঙ্গে মতাদর্শগত মিল নেই আমার। ও তো বাড়িতেও আসে না। করোনাকালে যাদবপুরে ভর্তি হয়। সেখানে মেসে থেকে পড়াশোনা করে। বাড়ি থেকে টাকাপয়সাও নেয় না। স্কলারশিপের টাকায় ও নিজের খরচ চালায়। ছেলের সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্কই নেই।’’

অমৃতের সংযোজন, ‘‘যাদবপুরের ভর্তি হওয়ার পরেই অভিনব রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়। যাদবপুরের ঘটনায় দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিত। আমার ছেলে জড়িত থাকলে শাস্তি হওয়া উচিত।’’


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ