বিরোধী অনৈক্যের জেরে, মিল্কীপুর বিধানসভার উপনির্বাচনে বিশাল জয় বিজেপির?
বাংলার জনরব ডেস্ক : উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত মিল্কিপুর বিধানসভা নির্বাচনে বিরাট ব্যবধানে জয়ী হল গেরুয়া শিবির। সমাজবাদী পার্টির অজিতেশ প্রসাদকে প্রায় ৬০ হাজার ব্যবধানে হারাল বিজেপি।

লোকসভা ভোটে অপ্রত্যাশিতভাবে বিজেপিকে হারতে হয়েছিল ফৈজাবাদে। ওই লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যেই পড়ে রামজন্মভূমি অযোধ্যা। ফৈজাবাদে বিজেপি প্রার্থী লাল্লু সিংকে হারিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন অবধেশ প্রসাদ। সাংসদ হওয়ার আগে ফৈজাবাদেরই অন্তর্গত মিল্কিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন অবধেশ। খোদ রামজন্মভূমিতেই এই হার গোটা দেশে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী ভাবমূর্তিকে ধাক্কা দেয়।

সাংসদ হিসাবে শপথ গ্রহণ করার পর মিল্কিপুরের বিধায়ক পদ ছাড়তে হয় অবধেশকে। ওই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের প্রয়োজন পড়ে। বিজেপি অযোধ্যার হারের বদলা নেওয়ার জন্য এই মিল্কিপুর কেন্দ্রকেই পাখির চোখ করেছিল। বদলা নিতে বদ্ধপরিকর ছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। অবধেশ প্রসাদের ছেড়ে যাওয়া বিধানসভার উপনির্বাচনে জিততে কোমর বেঁধে আসরে নামেন তিনি। প্রেস্টিজ ফাইটে জিততে মরিয়া ছিলেন অখিলেশ যাদবও। তিনি প্রার্থী করেন অবদেশ প্রসাদেরই ছেলে অজিতেশ প্রসাদকে। প্রচারে দুই পক্ষই নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে ঝাঁপায়। সামান্য একটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের জন্য একাধিকবার প্রচারে যান খোদ মুখ্যমন্ত্রী। প্রচারে খামতি রাখেননি অখিলেশ যাদবও। তিনিও নিজে মিল্কিপুর চষে ফেলেন।
ফলপ্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রভানু পাসওয়ান প্রায় ৬০ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছেন। অর্থাৎ অবধেশ প্রসাদ একেবারে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে নিজেরই ছেলেকে জেতাতে পারলেন না। দিল্লি এবং উত্তর প্রদেশের মিল্কিপুর বিধানসভার উপনির্বাচন প্রমাণ করেছে যে বিরোধী দল গুলির মধ্যে ঐক্য জরুরি। সাম্প্রতিককালে যে কয়েকটি বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধীদলের পরাজয় হয়েছে তার নেপথ্যে রয়েছে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে অনৈক্য। দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে যদি আপ এবং কংগ্রেস জোট হত তাহলে দিল্লি বিধানসভার ফলাফল যে উল্টে যেত তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। একইভাবে উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির যদি বিধানসভা উপ নির্বাচনে জোট হত তাহলে সেক্ষেত্রে ফলাফল অন্য হতে পারত।

