দেশ 

Sukhbir Singh Badal : পাঞ্জাবের প্রাক্তন উপ মুখ্যমন্ত্রী ও অকালি দলের নেতা সুখবীর সিং বাদলকে লক্ষ্য করে গুলি স্বর্ণমন্দিরের সামনে, গ্রেফতার অভিযুক্ত

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : বুধবার পাঞ্জাবের প্রাক্তন উপ মুখ্যমন্ত্রী ও অকালী দলের নেতা সুখবীর সিং বাদলকে লক্ষ্য করে গুলি চালালো এক যুবক ঘটনাটি ঘটেছে অমৃতসর স্বর্ণমন্দিরের সামনে। তবে তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন গুলি তাকে লাগেনি। বুধবার অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরের বাইরে সুখবীর যখন অকাল তখতের দেওয়া শাস্তি অনুযায়ী দ্বাররক্ষীর কাজ করছিলেন, তখন নারাইন চৌরা নামে এক বব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনালের প্রাক্তন জঙ্গি তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। সূত্রে জানা গিয়েছে, শিরোমণি অকালি দল নেতা সুখবীর নিরাপদেই আছেন। তবে ইতিমধ্যে আততায়ীকে গ্রেফতার করে জেরা করছে পুলিশ। সাতসকালে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো অশান্ত হয়ে ওঠে পবিত্র তীর্থস্থান চত্বর।

মঙ্গলবারই শিখ সম্প্রদায়ের শীর্ষ ধর্মীয় কমিটি অকাল তখতের শাস্তির বিধান মেনে অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির সাফ করেছিলেন শিরোমণি অকালি দল নেতা, পাঞ্জাবের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী সুখবীর।

Advertisement

হুইলচেয়ারে বসা সুখবীর বাদল এদিন শাস্তিবিধানের লেখা গলায় ঝুলিয়ে ঝাঁটা হাতে মন্দির সাফসুতরো করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী। কিন্তু তার চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এমন হামলা যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের নাম নারায়ণ সিংহ চৌরা। অমৃতসর থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দূরের গুরুদাসপুর জেলার বাসিন্দা তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, বুধবার সকালে স্বর্ণমন্দিরে ঢুকছিলেন সুখবীর। সেই সময়েই ধীর পায়ে তাঁর দিকে এগিয়ে আসেন ওই যুবক। এর পরেই আচমকা জামার ভিতরে লুকিয়ে রাখা আগ্নেয়াস্ত্রটি বের করে অকালি প্রধানকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দেন। ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুখবীরের উপর হামলার নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

২০১৫ সালে উপমুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন প্রভাব খাটিয়ে ডেরা সাচ্চা সৌদার প্রধান গুরমিত রামরহিমকে ‘অন্যায় ভাবে’ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে সুখবীরকে দোষী সাব্যস্ত করে ‘সাজা’ শুনিয়েছিল অকাল তখ্‌ত। শিখ ধর্মাবলম্বীদের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠানের সেই আদেশ শিরোধার্য করে মঙ্গলবারের পর বুধবার সকালেও ‘সাজা’ খাটতে ভাঙা পায়ে হুইলচেয়ারে চেপে অমৃতসর স্বর্ণমন্দিরে পৌঁছে যান সুখবীর। অকাল তখ্‌ত-এর নির্দেশ অনুযায়ী, ‘সেবাদার’ হয়ে গুরুদ্বারের রান্নাঘর এবং শৌচালয় পরিষ্কার করার কথা ছিল তাঁর।

অভিযোগ, ২০১২-১৭ সালে পঞ্জাবে অকালি দল-বিজেপি জোট ক্ষমতায় থাকাকালীন গুরমিত রামরহিমকে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন সুখবীর। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি অকাল তখ্‌তের জাঠেদার জ্ঞানী রঘুবীর সিংহের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের ‘বিচারসভা’ বসে। সোমবার বিচারসভা সুখবীরকে ‘তঙ্খাইয়া’ (ধর্ম অবমাননাকারী) ঘোষণা করে। এর পরেই সুখবীর-সহ অন্যান্য অকালি নেতাকে গুরুদ্বারের শৌচালয়, রান্নাঘর সাফাই করার ‘সাজা’ শোনানো হয়।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ