কলকাতা 

বিচারের দাবিতে স্লোগান দেওয়ার অপরাধে ৯ জন চিকিৎসকের জামিন চেয়ে হাইকোর্টে জুনিয়র চিকিৎসকরা! আগামীকাল শুনানি

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : দক্ষিণ কলকাতা একটি পুজো মণ্ডপের হাজির হয়ে জুনিয়র ডাক্তাররা নির্যাতিতার বিচারের দাবিতে শ্লোগান দিয়ে ছিলেন তারপরেই তাদেরকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। পুজো মন্ডপের সামনে মিটারের দাবিতে স্লোগান দিলে গ্রেফতার করা কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কার উপর আবার জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে অথচ পার্ক স্ট্রিট থানার এস আই এর বিরুদ্ধে মহিলা ভলেন্টিয়ার কে নির্যাতনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে জামিন দেওয়া হয়। শুধুমাত্র পুজো মণ্ডপে দাঁড়িয়ে, নির্যাতিতার বিচার চেয়ে স্লোগান দেয়ার অপরাধে জুনিয়র চিকিৎসকদের ৯ জনকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজত দিয়েছে নিম্ন আদালত।

নিম্ন আদালতে এই নির্দেশের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই নজন জুনিয়র চিকিৎসক।আদালত ওই আবেদনে সাড়া দিয়েছে। শুক্রবার দুর্গাপুজোর নবমীর দিন দুপুরে বিচারপতি শম্পা সরকারের এজলাসে ওই মামলার শুনানির সম্ভাবনা। হাই কোর্টের একটি সূত্রে খবর, দুপুর ২টো নাগাদ শুরু হবে শুনানি।

Advertisement

বৃহস্পতিবার সপ্তমীতে ‘ত্রিধারা সম্মিলনী’ মণ্ডপে জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনকে সমর্থন করে স্লোগান দেন জনা কয়েক দর্শনার্থী। সেখান থেকে ন’জনকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে তাঁদের গ্রেফতার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার আলিপুর আদালত ওই ন’জনের এক সপ্তাহের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন আসানসোলের কুলটির বাসিন্দা সুজয় মণ্ডল, কলকাতার দমদমের বাসিন্দা উত্তরণ সাহা রায়, ট্যাংরার বাসিন্দা কুশল কর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুরের বাসিন্দা জহর সরকার এবং সাগ্নিক মুখোপাধ্যায়, পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দা নাদিম হাজারি, হাসনাবাদের বাসিন্দা ঋতব্রত মল্লিক, উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহের বাসিন্দা চন্দ্রচূড় চৌধুরী এবং রহড়ার বাসিন্দা দৃপ্তমান ঘোষ।

ধর্মতলায় ১০ দফা দাবি নিয়ে অনশন এবং বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন জুনিয়র ডাক্তারেরা। এই আবহে পুলিশের চিঠি পৌঁছে গিয়েছে অনশনকারীদের হাতে। বুধবার রাতে অনশন মঞ্চে যান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এবং অপর্ণা সেন।

শেষ পর্যন্ত ন’জনকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয় নিম্ন আদালত। ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ধৃতদের পরিবার। শুক্রবার দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয় হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের কাছে। সেই অনুমতি দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ