কলকাতা 

ন্যায় সংহিতা আইন এখনই কার্যকর করা উচিত নয় বলে মোদিকে চিঠি দিয়ে জানালেন মমতা

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : গত বছর ডিসেম্বর মাসে বিরোধীশূন্য সংসদে তিনটি বিল পাস করা হয়। পুরনো ফৌজদারি আইনের পরিবর্তে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা ও ভারতীয় সাক্ষ্য বিল পাশ করায় কেন্দ্র। এই তিন আইনকে একসঙ্গে ন্যায় সংহিতা (Nyaya Sanhita) বলা হয়। এই ফৌজদারি আইন কার্যকর হলে রাষ্ট্র কার্যত পুলিশ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। নরেন্দ্র মোদি সরকার সেই সময় মূলত বিরোধীদের লক্ষ্য করে এই আইন তৈরি করেছিলেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গতকাল হঠাৎই নবান্ন ের দেখা করেন কেন্দ্রের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম। দুই নেতার মধ্যে গোপন বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিরোধিতা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি লিখবেন দেশের প্রধানমন্ত্রীকে। এই আইন পয়লা জুলাই থেকে দেশজুড়ে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই আইন কার্যকর হলে কার্যত পুলিশের হাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা দেয়া হবে।

Advertisement

ইডি এর ক্ষেত্রে যেভাবে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ঠিক একইভাবে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আইনে পুলিশকে বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছে কেন্দ্রের শাসক দল।  ফলে পুলিশ ইচ্ছা করলে যে কোন ব্যক্তিকে কোনরকম নোটিশ ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারে। এতে একজন স্বাধীন দেশের নাগরিকের মৌলিক অধিকার যে বিপন্ন হবে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। আর এ নিয়ে তীব্র আপত্তি রয়েছে বিরোধীদের। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নরেন্দ্র মোদীকে এই পরিস্থিতিতে এখনই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আইন কার্যকর না করতে অনুরোধ করেছেন।

শুরু থেকেই তৃণমূল নেত্রী এই আইন কার্যকরে আপত্তি জানিয়ে এসেছেন। এরাজ্যের শাসকদলের বক্তব্য, দণ্ড সংহিতা আইন যেসময়ে পাশ হয় তখন অধিকাংশ সাংসদ সাসপেন্ড ছিলেন। যথাযথভাবে আলোচনাও হয়নি এই আইন নিয়ে। এই আইন যদি কার্যকর হয়, তাহলে পুলিশি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে। তাছাড়াও এই আইনে বেশ কিছু গলদ থাকতে পারে। অসঙ্গতি থাকতে পারে আইনের নানা ধারায়। এদিন মোদিকে (Narendra Modi) লেখা চিঠিতেও সেই আপত্তির কথা পুনরায় জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার সাফ কথা, নৈতিকভাবেও এই আইন কার্যকর করা উচিত নয় সরকারের। অন্তত ১ জুলাই এই আইন কার্যকর না করে সময়সীমা খানিকটা হলেও পিছিয়ে দেওয়া উচিত।

মমতার সাফ কথা, “ওই তিন আইন স্বৈরাচারী মানসিকতা থেকে পাশ করানো হয়েছিল। গণতন্ত্রের কালো দিনে আইনটি তৈরি হয়েছিল। আমার মনে হয় এবার এই আইনটি পুনরায় খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।” মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “ওই তিন আইন নতুন করে সংসদে পেশ করতে হবে। ওই আইনগুলি সেসময় দ্রুততার সঙ্গে পাশ করানো হয়েছিল। এবার ওই আইনের অনেক ধারাতেই আপত্তি জানানো হবে। সেটা হলে, নতুন জনপ্রতিনিধিরাও আইনগুলি খতিয়ে দেখার সুযোগ পাবেন।” আগামী দিনে রাজ্যে এই ন্যায় সংহিতা কার্যকরের ক্ষেত্রে রাজ্য আপত্তি জানাবে কিনা, সেটা স্পষ্ট করেননি মুখ্যমন্ত্রী।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ