দেশ 

ফের সংকটের মুখে হিমাচল প্রদেশের কংগ্রেস সরকার!

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভার নির্বাচনের সময় ৬ জন কংগ্রেস বিধায়ক ক্রসিং ভোট দিয়েছিল এর ফলে হিমাচল প্রদেশে একটি মাত্র রাজ্য সভার আসনের জেতার সবরকম সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও হেরে যায় কংগ্রেস প্রার্থী আইনজীবী অভিষেক মনুসিংভি। তারপর ওই বিদ্রোহী ছয় কংগ্রেস সদস্যকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় হিমাচল প্রদেশের স্পিকার।

ওই ছয় সদস্যের বহিষ্কারের পর আবার গতকাল সন্ধ্যেবেলা সংকট তৈরি হয়েছে বলে সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে। সংবাদ সংস্থা এনআই জানিয়েছে যে আরো পাঁচজন কংগ্রেসের বিধায়ক উত্তরাখণ্ডে বিজেপি শাসিত রাজ্যে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। ফলে হলে হিমাচল প্রদেশের সুখু সরকারের সংকট আরো বাড়লো বলে মনে করা হচ্ছে। এমনিতেই ৬ জন কংগ্রেস সদস্যকে বহিষ্কার করার পর কংগ্রেসের সদস্য সংখ্যা হিমাচল বিধানসভায় কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪ অন্যদিকে বিজেপির নিজস্ব বিধায়ক রয়েছে ২৫ জন আর নির্দল তিনজন সব মিলিয়ে 28 জন। এরপরেও আরো পাঁচজন কংগ্রেস বিধায়ক যদি বেরিয়ে যায় তাহলে কংগ্রেসের সদস্য সংখ্যা কমে দাঁড়াচ্ছে ২৯ যদিও এরপরেও সরকার টিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Advertisement

সংবাদ সংস্থা এএনআই জানাচ্ছে, বিজেপি শাসিত আর এক রাজ্য হরিয়ানার নম্বর প্লেটযুক্ত একটি বাসে করে শনিবার সকালে ওই বিধায়কেরা উত্তরাখণ্ডের হৃষিকেশে একটি বিলাসবহুল হোটেলে গিয়েছেন। ওই হোটেলে কয়েক জন বিজেপি নেতাকেও দেখা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার দিল্লি গিয়ে কংগ্রেস শীর্ষনেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলার পরে সুখু বিদ্রোহী ছ’জন বিধায়ককে ফিরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘‘যদি কেউ নিজের দোষ বুঝতে পারে তবে সেই ব্যক্তি আরও একটি সুযোগ পাওয়ার যোগ্য।’’ কিন্তু বিদ্রোহীদের বিজেপির ‘আশ্রয়ে’ যাওয়া কার্যত সমঝোতার সম্ভাবনায় ইতি টেনে দিল বলে মনে করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে বিক্রমাদিত্য দিল্লি গিয়ে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খড়্গের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বলে সূত্রের খবর। তার পরে তিনি জানিয়েছিলেন, বিদ্রোহীদের সঙ্গে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু তাতে যে ‘কাজ’ হয়নি, তা শনিবারের ঘটনা থেকে স্পষ্ট। ৬৮ আসনের হিমাচল বিধানসভায় কংগ্রেসের আসনসংখ্যা ছিল ৪০। এ ছাড়া তিন জন নির্দল বিধায়ক সুখু সরকারকে সমর্থন করছিলেন। কিন্তু ছ’জন বিদ্রোহীর মতোই তাঁরাও রাজ্যসভা ভোটে বিজেপি প্রার্থীকে ভোট দিয়েছিলেন।

আর যাই হোক লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের আরেকটি রাজ্যকে যেনতেন প্রকারের ক্ষমতা দখল করার চেষ্টা করছে বিজেপি এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কংগ্রেস হাই কমান্ডের ভূমিকা নিয়ে তারা এমন কোন সদর্থক ভূমিকা কেন নিতে পারছেন না যার ফলে অন্তত কংগ্রেস দল ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পায়।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ