জেলা 

শিক্ষকরা যখন শিক্ষার্থী : দিনাজপুরের বেস আন-নূর মডেল স্কুলে দুদিনের শিক্ষক কর্মশালা

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক : কেউ চার্ট পেপারে ভগ্নাংশ শেখানো যায় কীভাবে তা আঁকছেন, কেউ নাম্বার লাইনে যোগ-বিয়োগ শেখাতে ক্যালেন্ডারের সংখ্যা কেটে বসাচ্ছেন। আবার কেউ বা থার্মোকল কেটে ত্রিভুজ-বর্গক্ষেত্র ইত্যাদি দিয়ে পিথাগোরাসের উপপাদ্য শেখানোর তোড়জোড় করছেন। এই চিত্র অবশ্যই শিক্ষকদের। ব্যস্ত শিক্ষকরা মাথা খাটিয়ে বের করছেন কীভাবে তাঁদের পাঠদান আরো বেশি আনন্দময় করে তোলা যায়, ছাত্রদের জন্য তা আরো বেশি কার্যকর হয়।

সরকারের সাহায্যপ্রাপ্ত নয় এমন ২৭টি স্কুল থেকে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা অংশগ্রহণ করেছিলেন দুদিনের কর্মশালায়। দক্ষিণ দিনাজপুরের বেস আন-নূর মডেল স্কুলে বছরের শেষে আয়োজিত হয়েছিল নির্বাচিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে এক্সক্লুসিভ এডুকেশনাল ওয়ার্কশপ ফর আন-এডেড স্কুল টিচার্স ২০২৩।

Advertisement

এই কর্মশালায় প্রশিক্ষণ দিতে দিল্লি থেকে উড়ে এসেছিলেন বিশিষ্ট কৃষি বিজ্ঞানী অধ্যাপক মতিয়ার রহমান খান, এছাড়াও ছিলেন স্বনামধন্য লেখক ও সাংবাদিক মিলন দত্ত, বিশিষ্ট বিজ্ঞান গবেষক ও শিক্ষক ড. কমল কৃষ্ণ দাস এবং সাংবাদিক ও গণিত শিক্ষক নায়ীমুল হক। তাঁরা বললেন, শিক্ষাদান একটি চলমান প্রক্রিয়া, এর কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি-প্রক্রিয়া থাকে না। শিক্ষার্থীদের মনে কৌতুহল সৃষ্টি করাই আমাদের সব থেকে বড় কাজ। ‘কেন’ আর ‘কীভাবে’ – এই প্রশ্ন শৈশবে যাদের মধ্যে আসে, নিশ্চিত ভাবে তারা বড় হয়। আমরা শিক্ষকরা যেন কখনোই না বলে দিই, কোনো অংক বা সমস্যার সমাধান কেবলমাত্র নির্দিষ্ট পদ্ধতিতেই করতে হবে। ওদেরকে চিন্তা করতে দিতে হবে, ওদের ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে, ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে শেখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে শিক্ষকদের, অভিভাবকদেরও।

দুদিনের এই কর্মশালায় পারস্পরিক আলোচনার বিষয়গুলি ছিল, ভাষায় দক্ষতা কীভাবে সৃষ্টি হয়, প্রকৃতি থেকে বিজ্ঞান, অংকের মজা –সবার জন্য-সর্বত্র, এছাড়াও ছিল বিদ্যালয় ও শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ, ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক সম্পর্ক ইত্যাদি। উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকারাও লিখে জানান কর্মশালায় এসে তাঁদের দুদিনের প্রাপ্ত অভিজ্ঞতার কথা। সে সব নিয়ে আবার সরস মন্তব্য করেন মিলন দত্ত। সকলে তৃপ্ত হন, সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আনোয়ার হোসেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মযজ্ঞে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন তাঁদেরকে হার্দিক অভিবাদন জানান গঙ্গারামপুর মহকুমা প্রশাসক পি. প্রমোথ, মহকুমা ক্রীড়া পরিষদের অন্যতম সদস্য বিভূতিভূষণ চক্রবর্তী, স্পেশাল এডুকেটর পুলকেশ রায় প্রমুখ।

অতিথি সহ সকল অংশগ্রহণকারী শিক্ষক শিক্ষিকাদের জন্য সার্বিক আয়োজনের নিখুঁত ব্যবস্থাপনায় ছিলেন আয়োজক সংস্থা নর্থ ইস্টার্ন ইংলিশ অ্যাকাডেমির সম্পাদক ও বিশিষ্ট শিক্ষক রাসনাউল আলম।

জেলার বুকে প্রথম আয়োজিত এরকম শিক্ষক কর্মশালা সফল করার জন্য যাঁরা যেভাবে সহযোগিতা দান করেছেন, প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানিয়ে বেস আন-নূর মডেল স্কুলের সম্পাদক বিশিষ্ট সমাজকর্মী খাদেমুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কর্মশালা আবারও আয়োজন করা হবে, এছাড়াও একযোগে সমস্ত প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে আসন্ন নতুন বছরে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, মেধা অন্বেষণ, হাতে কলমে বিজ্ঞান-এর মতো সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম আয়োজন করা হবে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ