কলকাতা 

লোকসভা ভোটের প্রস্তুতি, তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসে গুচ্ছ কর্মসূচি ঘাসফুল শিবিরের

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : সোমবার নতুন বছরের প্রথম দিন। একই সঙ্গে এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের ২৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস। ১৯৯৮ সালের এই দিনের তৃণমূলের জন্ম দিয়েছিলেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন বছরেই লোকসভা নির্বাচন। লক্ষ্য এবার দিল্লির মসনদেও পরিবর্তন আনা।তাই দলের প্রতিষ্ঠা দিবসেই এদিন রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে আওয়াজ উঠছে, ‘নয়া বছরে বদল চাই, বিজেপির হাতে দেশ নিরাপদ নয়।’ আর এদিন দলের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে সকাল সকাল এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন তৃণমূল নেত্রী। এদিন মমতা ব্যানার্জি লেখেন, মা – মাটি – মানুষের সেবায় ১৯৯৮ সালের পয়লা জানুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেসের পথচলা শুরু হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেস পরিবার আজ অগণিত মানুষের আশীর্বাদ ভালোবাসা- দোয়ায় পরিপূর্ণ। আপনাদের অকুণ্ঠ সমর্থনকে পাথেয় করেই বৃহত্‍ গণতান্ত্রিক দেশের প্রত্যেকটি মানুষের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবো আমরা। কোনরকম অপশক্তির কাছে মাথা নত নয়, সকল রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেই সাধারণ মানুষের জন্য আমাদের সংগ্রাম আজীবন চলবে।

এদিন শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Abhishek Banerjee)। এদিন অভিষেক লেখেন, প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। রাজ্য তথা দেশবাসীর উন্নয়নের স্বার্থে মা-মাটি-মানুষ সর্বদা নিয়োজিত। তৃণমূল কংগ্রেস পরিবারের সকল কর্মীর আত্মত্যাগ এবং নিরলস প্রচেষ্টাকে আমার কুর্ণিশ। তাঁরাই আমাদের দলের মেরুদণ্ড। নতুন বছরে নব-উদ্যমে আগামীর লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হন। সকল ক্লেদ, বিষাদ, গ্লানি মুছে যাক সুখের পরশে।

রাজ্যের পৌর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিম নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি লড়াই সংগ্রামের ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেনাপতিত্বে মানুষের জন্য লড়াই জারি থাকবে।

প্রতি বছরই দলের প্রতিষ্ঠা দিবসের দিনটিকে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করে থাকে বাংলার শাসক দল, এদিনও রাজ্যের প্রতিটি জেলায়, প্রতিটি ব্লকে, প্রতিটি শহরে, প্রতিটি গ্রামে একাধিক কর্মসূচি রয়েছে বাংলার শাসক দলের। সোমবার সকালে তৃণমূল ভবনে দলীয় পতাকা উত্তোলন করবেন, দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। এছাড়াও রাজ্যজুড়ে দিনভর সামাজিক একাধিক কর্মসূচিকংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে সফল রাজনৈতিক দল গড়ে তোলার নজির দেশে খুব একটা নেই। মমতা সেই ব্যতিক্রমী চরিত্র, যিনি কংগ্রেসের ভরা বাজারে কংগ্রেস ছেড়ে বেড়িয়ে এসে তৃণমূলের জন্ম দিয়েছেন। বাম জমানার অত্যাচারিত, নিপীড়িত, বঞ্চিত, অসহায় মানুষদের মুখে বোল দিয়েছেন। ৩৪ বছরের অপদার্থ, অকর্মণ্য, অচলায়তনকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে পরিবর্তন এনেছেন। বাংলার ক্ষমতায় এনেছেন তৃণমূল কংগ্রেস। লক্ষ্য এবার দিল্লির মসনদেও পরিবর্তন আনা। তাই দলের প্রতিষ্ঠা দিবসেই এদিন রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে আওয়াজ উঠবে, ‘নয়া বছরে বদল চাই, বিজেপির হাতে দেশ নিরাপদ নয়।’এদিন থেকে গোটা জানুয়ারি মাসব্যাপী ঠাসা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে তৃণমূলের পক্ষ থেকে। ১২ জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন, ২৩ জানুয়ারি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনে সুভাষ উত্‍সব পালন করবে জোড়াফুল শিবির।একই সঙ্গে নতুন বছরেই লোকসভা নির্বাচন। তাই এদিন থেকে লোকসভা ভোটের প্রস্তুতিও পুরোদমে নেমে পড়ার সংকল্প নেন তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা। ইতিমধ্যে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আওয়াজ তুলেছেন, ‘বিজেপি হটাও, দেশ বাঁচাও’।

সেই স্লোগানের সঙ্গে সুর মিলিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব বলবেন, বিজেপির হাতে দেশ নিরাপদ নয়। তৃণমূল ভবনে নতুন বছরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার, সাংসদ দোলা সেন, শান্তনু সেন, তৃণমূল নেতা মনিষ গুপ্তা, মাদ্রাসা শিক্ষক সংগঠনের রাজ্য সভাপতি একেএম ফারহাদ,ছাত্র পরিষদের সভাপতি তৃনাঙ্কুর ভট্টাচার্য, বাবু বক্সী,সুবীর মজুমদার বিজলী রহমান, ফরিদ খান প্রমুখ।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ