শিশুদের পোলিওকর্মসূচিতে সচেতনতার বার্তা দিতে আসরে কর্মাধ্যক্ষ ও স্বাস্থ্য আধিকারিক
চকশাসন সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে পোলিও টিকা কর্মসূচি
নিজস্ব প্রতিবেদক, বারাসাত : সারা বিশ্ব জুড়ে পোলিও টিকাদান ও পোলিও নির্মূল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই প্রতি বছর ২৪ অক্টোবর দিনটি পালিত হয় বিশ্ব পোলিও দিবস হিসেবে। পোলিও নির্মূল করতে বিশ্বের অগ্রগতিকে স্মরণ করতেই পালিত হয় দিনটি।
প্রতি বছর বিশ্ব পোলিও দিবসের একটি নির্দিষ্ট থিম থাকে। এবছরের থিম হল মা ও শিশুদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যত গঠন।পোলিও ভাইরাস প্রধানত তিন রকমের। এর যেকোন রকমের ভাইরাসের আক্রমণই ভয়াবহ। এই ভাইরাস বেঁচে থাকে জলেও মলে। জল আর রোগীর মল থেকে ভাইরাস ঢুকে পড়ে সুস্থ শিশুর দেহে। বয়স্ক মানুষের এ রোগ যে হয় না তা নয়,তবে সংখ্যায় খুবই অল্প। শিশুর দেহে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কম বলে তারা পোলিও ভাইরাস এ আক্রান্ত হয় তাড়াতাড়ি। পোলিও ভাইরাস খাদ্য বা জল বাহিত হয়ে প্রথমে অন্ত্রে আশ্রয় নেয়। সেখানে মূল বিস্তারের পর দেহের স্নায়ুতন্ত্রের আঘাত হানে। আক্রান্ত অঙ্গ শীর্ণকায় হয়ে পঙ্গু হয়ে যায়। এই পঙ্গুত্বকে সুস্থ অবস্থায় আর ফিরিয়ে আনা যায় না।
পৃথিবীর ১৪৫ টি দেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডাকে সাড়া দিয়ে পালস পোলিও টিকাকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টে প্রকাশিত যে, ১৪০ টি দেশ বিগত কয়েক বছর এই পোলিও রোগ নির্মূল করেছে। ভারতের শিশুর চিকিৎসা সংস্থা বা ইন্ডিয়ান একাডেমি অব পেডিয়াট্রির উদ্যোগে পালস পোলিও টিকাকরণ এর কাজ শুরু হয় ২ অক্টোবর ১৯৯৪।ভারতে পোলিও রোগ নির্মূল হয়নি। কারণ অশিক্ষা, অজ্ঞতা, অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের ফলে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত সব শিশুকে টিকাকরনের শামিল করা সম্ভব হয়নি।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় রবিবার পালস পোলিও টিকাকরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। উঃ ২৪ পরগনা জেলার স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনস্থ কর্মীদের দ্বারা বারাসাত -২ নং ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক এর তত্ত্বাবধানে শাসনের চকশাসন সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে পালস পোলিও কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের পোলিও টিকা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার পাশাপাশি আগত অভিভাবক অভিভাবিকাদের স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতার বার্তা দেয় উঃ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের বন ও ভূমি স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ একেএম ফারহাদ। তিনি বলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে অত্যন্ত সুন্দরভাবে কাজ পরিচালিত হচ্ছে। উঃ ২৪ পরগনা জেলাজুড়ে জেলাশাসক শ্রী শরদ কুমার দ্বিবেদী, জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্রী নারায়ন গোস্বামী, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সমুদ্র সেনগুপ্তের তত্ত্বাবোধনে মসৃণ ভাবে কর্মসূচি রূপায়িত হচ্ছে। শাসন সহ জেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর উন্নয়নে যেভাবে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের সাথে সাথে স্বাস্থ্যপরিষেবা ত্বরান্বিত হচ্ছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক শ্রী সুরিত মল্লিক বলেন ব্লকের প্রতিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং বুথে বুথে ক্যাম্প করে টিকাকরণ কর্মসূচি প্রদান করা হচ্ছে। এলাকার মানুষের মধ্যে টিকাকরণ সুফল নিয়ে প্রচার কর্মসূচি এবং বিভিন্ন রকমের সংক্রামক রোগ বিষয়ক সচেতনতা করা হয়। উক্ত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন শাসন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মৌসুমী ঘোষ, জনপ্রতিনিধি ফেরদৌসী বিবি,সাবিনা বিবি, স্বাস্থ্যকর্মী গীতা সরকার, পার্বতী কর্মকার,আশাকর্মী শিপ্রা মন্ডল,সঙ্গীতা কবিরাজ ঢালী,চন্দনা বিশ্বাস, মিতালী রয় প্রমুখ।


