কলকাতা 

সংখ্যালঘুদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান মমতার, গাজা নিয়ে নীরব কেন তৃনমূল ? প্রশ্ন সংখ্যালঘু সমাজের

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক :  ঐক্যবদ্ধ থাকুন কোনোভাবেই বিভক্ত হবেন না বিভক্ত হলে বিজেপির সুবিধা হবে। আজ বুধবার বাবরি মসজিদের শহীদ দিবসে তৃণমূল সংখ্যালঘু্ সেলের আয়োজিত এক সভায় মোবাইল বার্তায় এই কথাগুলি বললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এখন ভাইপোর বিবাহ উপলক্ষে উত্তরবঙ্গে রয়েছেন। সেখান থেকে পাঠানো এক মোবাইল বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন,‘‘অনেক কুৎসা হচ্ছে। তাতে কান দেবেন না। আপনারা বিভক্ত হলে বিজেপির লাভ। আজকে শপথ নেওয়ার দিন। ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দিন।’’

প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়েছিল। সেই দিনটিকে মনে রেখেই তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেল মেয়ো রোডে স‌ংহতি সমাবেশ করেছে বুধবার। কিন্তু উত্তরবঙ্গ সফরের জন্য মমতা সশরীরে সেই সভায় আসেননি। তিনি ফোনে বক্তৃতা করেন। রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মাইকের সামনে সেই ফোন ধরে মমতার কথা শোনান সমাবেশে আসা জনতাকে।

তিন রাজ্যের ভোটের ফল নিয়ে মমতা বলেন, ‘‘ভোট ভাগাভাগির কারণে ওখানে বিজেপি জিতে গিয়েছে। ওটা বিজেপির জয় নয়। একত্রিত থাকলে বিজেপিকে হারানো সম্ভব। বাংলা চায় বিজেপির পরাজয়। বাংলা চেয়ারের জন্য নয়, মানুষকে বাঁচানোর জন্য লড়াই করবে। আবার খেলা হবে। বিজেপিকে হটাও, বিভেদ দূর করো।’’

সেই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের মধ্যে যাতে কেউ বিভাজন না করতে পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক করেছেন মমতা। তৃণমূল নেত্রী মমতা বলেন, ‘‘ধর্মস্থানকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু কেউ কেউ ধর্মস্থানের নাম করে ভুল বোঝাচ্ছে।’’ রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, নাম না করলেও মমতা আসলে নিশানা করতে চেয়েছেন ফুরফুরা শরিফের পিরজাদা তথা আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকে। নওশাদ বেশ কয়েক দিন ধরেই বলছেন, তাঁর দল চাইলে তিনি ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে লড়বেন। আবার পিরজাদা আব্বাস সিদ্দিকিও সম্প্রতি বলেছেন, তিনি ডায়মন্ড হারবারে প্রার্থী দেবেন।

তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেল ৩১ বছর আগে শহীদ হয়ে যাওয়া বাবরি মসজিদ নিয়ে সংহতি দিবস পালন করছে এটা যেমন সঠিক বিষয় তেমনি ইসরাইলি আক্রমণে ফিলিস্তিনের নিরীহ জনতার উপরে যে নির্বিচারে বোমা বর্ষণ করছে তা তা নিয়ে তৃণমূলের নীরবতা, এ রাজ্যের সংখ্যালঘু সমাজকে আহত করেছে এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

এ কথা বলতে দ্বিধা নেই বামেরা যদি ক্ষমতায় থাকতেন তাহলে গাজায় নির্বিচারে বোমা বর্ষণ নিয়ে তারা দিনের পর দিন মিটিং মিছিল করে আমেরিকা তথ্য কেন্দ্র এবং আমেরিকার উপ দূতবাস ব্যতিব্যস্ত করে তুলতো। কিন্তু দুঃখের হলেও সত্য বিজেপি যেমন এই বিষয়টিতে মাথা ঘামাইনি কেমন ভাবে তৃণমূল কংগ্রেস ও গাঁজা নিয়ে নীরব কেন সেটা জানতে চাই এই রাজ্যের সংখ্যালঘু সমাজ।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ