দেশ 

ভূপেশ বাঘেলকে কোন টাকা আমি দিইনি, ইডি আমাকে ফাঁসিয়েছে : অসীম দাস

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক  : কেন্দ্রের এজেন্সি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টর এবার অস্বস্তিতে পড়েছে। যাকে সাক্ষী দেখিয়ে ছত্রিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ এনেছিলেন সেই ব্যক্তি এখন সরাসরি অভিযোগ করেছেন তাকে দিয়ে জোর করে একটি কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়া হয়েছিল। শুধু অভিযোগ নয় তিনি এ বিষয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের ডাইরেক্টর কে চিঠি লিখে বলেছেন যে তিনি ইংরেজি ভাষা ভালো জানেন না তাই একটি ইংরেজীতে বয়ান লিখে তাতে জোর করে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছিল ইডি হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে।

অসীম দাস নামে ওই ব্যক্তির এই অভিযোগ প্রকাশে আসার পর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। সেই সঙ্গে কেন্দ্র সরকার এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সি দুজনে অস্বস্তিতে পড়েছে। ছত্রিশগড় বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের অভিযোগ এনে মুখ্যমন্ত্রীর ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে কংগ্রেস দাবি করেছে। কংগ্রেসের আরো দাবি যে তারা প্রথম থেকেই বলে আসছিল তাদের মুখ্যমন্ত্রী স্বচ্ছতার সঙ্গে সব কাজ করেছেন। কিন্তু বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ছত্রিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ এনেছিল।

Advertisement

আসলে মহাদেব অ্যাপ (Mahadev App) কাণ্ডে কিছুদিন আগেই অসীম দাস নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে ইডি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, এই অসীম দাসই বাঘেল-সহ কংগ্রেসের অন্যান্য নেতাদের কাছে টাকা পৌঁছে দিতেন। অসীম দাসের লিখিতও বয়ানও ছিল ইডির কাছে। ভোট মেটার পর সেই অসীম দাসই ভোলবদলে বলছেন, তাঁকে ফাঁসানো হয়েছিল, তিনি কাউকে কোনও টাকা পৌঁছে দেননি।

জেল থেকেই ইডির (ED) ডিরেক্টরকে চিঠি লিখেছেন অসীম দাস। তিনি বলছেন, ভুপেশ বাঘেলকে টাকা পৌঁছে দিয়েছেন, এই ধরনের কোনও অভিযোগ তিনি করেননি। তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। ইংরেজি ভাষায় লেখা একটি জবানবন্দিতে জোর করে সই করিয়ে নেওয়া হয়েছে। অসীমের দাবি, ইংরাজি ভাষাটা ভালো না জানায়, ওই জবানবন্দিতে কী লেখা হয়েছিল, সেটা তিনি প্রথমে বুঝতে পারেননি। অসীম দাসের দাবি, মহাদেব অ্যাপের শীর্ষ কর্তা শুভম সোনি তাঁর বন্ধু। সেই তাঁকে বলেছিল ছত্তিশগড়ে ব্যবসা করার জন্য টাকা পাঠাবে। তার পর তিনি ফোন পেয়ে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নিজের গাড়িটি রেখে দেন। সেখানেই অন্য কেউ এসে টাকা দিয়ে যায়। সেই টাকা নিয়ে হোটেলে যেতেই তিনি দেখেন ইডি কর্তারা তাঁর ঘরে হাজির। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে।

কংগ্রেস (Congress) বলছে, অসীম দাসের এই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি প্রকাশ্যে আসায় এটা স্পষ্ট যে ভোটের আগে ভুপেশ বাঘেলকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিল ইডি। সবটাই করা হয়েছিল কংগ্রেসকে ফাঁসানোর জন্য যাতে ভোটে এর প্রভাব পড়ে। ভোট মেটার সেটা স্পষ্ট হয়ে গেল।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ