গাজা থেকে হামাসকে মুক্ত করে নতুন জামানা তৈরি করার বার্তা ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী, সম্ভব হবে কী?
বাংলার জনরব ডেস্ক : দুই মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দিয়ে হামাস যতই মানবিকতা দেখাক না কেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু শুক্রবারে জানিয়ে দিয়েছেন হামাসকে শেষ না করা পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলবে। অর্থাৎ গাজায় হামলা অব্যাহত থাকবে।
বিশ্ব ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথম একটি যুদ্ধ হচ্ছে যেখানে পানীয় জলবিদ্যুৎ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আতাবশ্যকীয় জিনিসপত্রকে বন্ধ করে দিয়ে। বিশ্বের অন্যতম খোলা আকাশের নিচে বড় জেলখানায় গাজায় এখন সাধারণ মানুষ কার্যত অসহায় জীবন যাপন করছে। প্রতিমুহূর্তে ইসরাইলি হামলায় ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছে গাজার বাসিন্দারা।

ইসরায়েলের তরফেও ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, খুব শীঘ্রই তারা স্থলপথে হামলা চালাতে চলেছে গাজ়ার উত্তরাংশে। অন্য দিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, হামাসের সঙ্গে তিন দফায় যুদ্ধের পর তারা গাজ়া ভূখণ্ডে ‘নতুন জমানা’ তৈরি করতে চায়।
এই নতুন জমানা কেন হবে, তা স্পষ্ট না হলেও, সেটা যে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে বাদ দিয়েই হবে, তা তেল আভিভের কথায় স্পষ্ট। শুক্রবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োহাব গ্যালান্ত পার্লামেন্টের বিদেশ এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে জানান, গাজ়ায় ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ হামাসের পরিকাঠামো ধ্বংস করতে বহু সময় লাগতে পারে। কিন্তু হামাসকে হারিয়ে তাঁরা সেখানে ‘নতুন জমানা’ তৈরি করতে চান। এই নতুন জমানা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য জরুরি বলে জানিয়েছেন তিনি।
ইসরাইল সরকারের এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ইসরাইল ফিলিস্তিন যুদ্ধকে আরো বেশি দীর্ঘস্থায়ী যে করবে তার বলার অপেক্ষা রাখে না। আবার ইসরাইলের এই সিদ্ধান্তের ফলে আরব দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেলে তাতে যে ইসরাইলেরই বিপদ বাড়বে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। তবে বর্তমানে ইসরাইল সরকার যা করছে তা আগামী দিনে নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনতে চলেছে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।

