নিউজক্লিক এফআইআর-এর মাধ্যমে কৃষক আন্দোলনের উপর নতুন করে আক্রমণের জন্য বিজেপি-আরএসএস নেতৃত্বাধীন মোদী সরকারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করবে এসকেএম
দিল্লি, ৮ই অক্টোবর, 2023: নিউজক্লিক মিডিয়া হাউসসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেলের দায়ের করা এফআইআর-এ সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা (এস কে এম) নেতৃত্বাধীন দিল্লির ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনের বিরুদ্ধে আরোপিত কুরুচিপূর্ণ অভিযোগ সম্পর্কে জানতে পেরে এসকেএম হতবাক। কৃষক আন্দোলনের বিরুদ্ধে এফআইআর-এ করা সমস্ত অভিযোগকে এসকেএম সুস্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছে এবং সর্বৈব মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানাচ্ছে, এবং দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রকাশ করছে যে:
১) অবৈধ বিদেশী অর্থের সাহায্যে “দেশের সম্প্রদায়ের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহ এবং পরিষেবাগুলি ব্যাহত করা, সম্পত্তির ক্ষতি এবং ধ্বংস করা, ভারতীয় অর্থনীতির বিশাল ক্ষতিসাধন করা, অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা সমস্যা সৃষ্টি করা”–র উদ্দেশ্যে কৃষক আন্দোলন করা হয়েছিল, দায়ের করা এফ আই এর–এ উল্লেখিত এই মিথ্যা অভিযোগ এসকেএম স্পষ্টতই অস্বীকার করছে। বিজেপি সরকারের কৃষক-বিরোধী এবং কর্পোরেট-পন্থী আইন ও নীতির বিরুদ্ধে, এসকেএম-এর নেতৃত্বে, জাতির অন্নদাতা কৃষকরা, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিল। কৃষকদের দ্বারা কোনো সরবরাহ ব্যাহত হয়নি। কৃষকরা কোনো সম্পত্তির ক্ষতি করেনি। কৃষকদের দ্বারা অর্থনীতির কোনো ক্ষতি হয়নি। কৃষকদের জন্য কোনো আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি হয়নি। দেশের রাজধানীতে পৌঁছে কৃষকদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ আটকানোর জন্য কাঁটাতারের বেড়া, জলকামান ব্যবহার, লাঠিচার্জ এবং রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে কৃষকদের হিংসাত্মকভাবে বাধা দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারই দেশের জনগণ এবং কৃষকদের জন্য চরম অসুবিধা তৈরি করেছিল। গ্রীষ্মের প্রখর রোদ, মুষলধারে বৃষ্টি এবং হিমশীতল শীতে দীর্ঘ ১৩ মাস ধরে প্রতিবাদে বসে থাকতে হয়েছে কৃষকদের। কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপি-আরএসএস জোট লখিমপুর খেরিতে চলন্ত যানবাহনের নীচে পিষে চার কৃষক এবং একজন সাংবাদিককে হত্যা করে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি করেছিল। এই হামলার নেপথ্যে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও তার ছেলে। এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী দোষী মন্ত্রীকে অপসারণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করেননি। মোদী সরকারের দমন-পীড়নের মোকাবিলায় লখিমপুর খেরির কৃষক সহ ৭৩৫ জন কৃষককে প্রাণ দিতে হয়েছে। সরকার নিজেই সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করেছে। সরকারই তার বন্ধু পুঁজিপতিদের সাথে ষড়যন্ত্র করে খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খল দখল করে, জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা এবং জাতীয় অর্থনীতি ধ্বংস করেছে। পিএম কেয়ার ফান্ডে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং গৌতম আদানি তার ব্যবসায়ে চীন থেকে অর্থ পেয়েছে। কৃষকদের বিপুল কষ্ট স্বীকার এবং মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমে কৃষক আন্দোলন সফল হয়েছিল। আন্দোলনটি বিদেশি অর্থমদতপুস্ট এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসম্পন্ন এমন অভিযোগ করে এ ধরনের আত্মত্যাগকে ছোট করা সরকারের ঔদ্ধত্য, অজ্ঞতা ও গণবিরোধী মানসিকতার পরিচায়ক।

২) বিদেশী শোষক সহ বড় কর্পোরেটদের হাতে ভারতীয় কৃষিকে তুলে দেওয়ার সরকারের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে, দেশপ্রেম বোধ সম্পন্ন এবং ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনের গুরুত্ব কমিয়ে দেখাবার বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রচেষ্টার দৃঢ়ভাবে নিন্দা করেছে এসকেএম। এটি উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক যে ৩টি কালো কৃষি আইন দ্বারা চুক্তি চাষের মাধ্যমে দেশের ফসলের প্যাটার্ন, মান্ডির উপর মান্ডি আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সম্পর্কিত আইন সংশোধনের মাধ্যমে, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং খাদ্য সরবরাহ ও বিতরণের ওপর কর্পোরেটদের আইনি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হয়েছিল, এবং সরকারী ক্রয়, সমর্থন মূল্য এবং পিডিএস রেশন নিরাপত্তা তুলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। এ কারণেই আইনগুলো ছিল জনবিরোধী এবং এর বিরোধীতায় কৃষক আন্দোলন ছিল উচ্চ মাত্রার জাতীয়তাবাদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ।এই এফআইআরটি কৃষক আন্দোলনকে বহিরাগত আর্থিক মদতপুস্ট দেখাবার একটি ধূর্ত এবং ঘৃণ্য পরিকল্পনা, যা কৃষক আন্দোলন দ্বারা আন্দোলন চলাকালীনই দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, এবং যার সামনে মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি-আরএসএস সরকার ঝুঁকতে এবং এই বানানো অভিযোগ তুলে নিতে বাধ্য হয়েছিল। ভারতীয় কৃষি শুধুমাত্র ১৪২ কোটি মানুষকে খাদ্য নিরাপত্তা দেয় না, ৯০ কোটি গ্রামীণ লোকের জীবন ধারণের উপায়ও, যার গুরুত্ব করোনা মহামারীর সময় সবাই দেখেছিল।
৩) যেহেতু দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে, এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মতো পরিচিত কৃষক বিরোধী নেতাদের দ্বারা পরিচালিত, এটা আশ্চর্যজনক নয় যে কৃষক আন্দোলনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে, যদিও মিথ্যার রকমটি বিস্ময়কর।
৪) এসকেএম বুঝতে পেরেছে যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার এখনও ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর অবধি চলা দিল্লির সীমান্তে কৃষকদের দৃঢ়, গণতান্ত্রিক এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মুখে ৩টি কালো কৃষি আইন প্রত্যাহার করার অপমানের জ্বালা ভুলতে পারছে না, তাই ক্রমাগত কৃষক আন্দোলনকে কলঙ্কিত করে এবং কৃষক বিরোধী গল্প ছড়িয়ে কৃষকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করবে।
যদিও এসকেএম তার সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই নিউজক্লিকের মতো স্বাধীন মিডিয়া হাউসগুলির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছে এবং এই জনবিরোধী বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার সম্পর্কে সত্য লিখতে এবং প্রকাশ করার সাহস রাখেন এবং রাষ্ট্রযন্ত্র ও ক্ষমতার অবৈধ অপব্যবহার করে মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তাদের কণ্ঠকে স্তব্ধ ও শ্বাসরুদ্ধ করতে সরকারের ঘৃণ্য প্রচেষ্টার নিন্দা জানিয়েছে এবং এমন অনেক সাংবাদিকের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে, এসকেএম আবারও নিউজক্লিক এবং স্বাধীন মিডিয়ার সকল অংশের প্রতি সংহতি ও সমর্থন জানাচ্ছে এবং পুনর্ব্যক্ত করছে যে সব শ্রেণীর নাগরিক অধিকার এবং তাদের যাতে এই সরকার দ্বারা পদদলিত হতে না হয়, এসকেএম তা নিশ্চিত করবে।
নিউজক্লিক এফআইআর-এর মাধ্যমে কৃষক আন্দোলনের উপর নতুন করে আক্রমণের জন্য এসকেএম এই বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘোষণা করেছে। প্রতিটি রাজ্যের রাজধানীত, জেলা সদর দফতর, তহসিল সদর দফতরে নিউজক্লিক এফআইআর-এ কৃষকদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা এবং উদ্ভট অভিযোগগুলি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে ব্যাপক প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজিত হবে। কৃষক আন্দোলনের বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ অবিলম্বে প্রত্যাহার করার জন্য এসকেএম নেতাদের প্রতিনিধি দল ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী এবং দিল্লি পুলিশের কমিশনারের কাছে ডেপুটেশন জমা দেবে, যা ব্যর্থ হলে সব কর্তৃপক্ষের দপ্তরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে।

