সমর বাগচী স্মরণানুষ্ঠান : তিনি ছিলেন মানুষের জন্য মুক্তি নির্ভর বিজ্ঞান চর্চার এক ক্লান্তিহীন যোদ্ধা
শর্মিষ্ঠা লাহিড়ী : গত ২০জুলাই,২০২৩ বৃহস্পতিবার ,প্রয়াত হয়েছেন বিজ্ঞান পথের ক্লান্তিহীন পদাতিক সর্বজন শ্রদ্ধেয় সমর বাগচি মশাই। তাঁর স্মরণে দক্ষিণ কলকাতার উত্তম মঞ্চে এক শ্রদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল বাগচি পরিবারের সদস্যরা। সান্ধ্য স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানের শুরুতেই দৃশ্যপটে ফুটে ওঠে তাঁর ছবি ও সঙ্গে ভেসে আসে সেই পরিচিত কন্ঠস্বর –আমি এক একানব্বই বছরের তরুণ। নিজেকে তরুণ ভাবার এই আকুতির মধ্য দিয়েই প্রকাশ পেয়েছে সমর বাবুর অদম্য কর্মস্পৃহা ও জীবন প্রিয়তা।মুক্ত চিন্তা ও যুক্তিনির্ভর বিজ্ঞান চর্চাকে কী ভাবে আম মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় বি আই টি এম কে সঙ্গে নিয়ে তিনি তাঁর কর্মজীবনে সেই চেষ্টাই করে গেছেন নিরলসভাবে।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সেই কথাই জানালেন সমর বাবুর একসময়ের সহকারী মানুষজনেরা । এদিনের অনুষ্ঠানে বারে বারেই ছবি ও টুকরো টুকরো সংলাপের মাধ্যমে মানুষটির বহুমাত্রিক কর্মজীবনের কথা তুলে ধরা হয়েছে যা উপস্থিত মানুষজনকে স্মৃতি মেদুর করে তোলে। এমন প্রাণবান মানুষের প্রয়াণের ঘটনাকে কেউ যেন মেনে নিতে পারছিলেন না। এদিনের অনুষ্ঠানের সঞ্চলনার দায়িত্ব পালন করেন সমর বাবুর পুত্রসম জামাতা সুপ্রিয় সান্যাল। তাঁর কাছেই জানা গেল কী ভাবে আশি বছর বয়সে পৌঁছে সমর বাবু অদম্য উৎসাহে শিখেছিলেন কম্পিউটার চালনা ও মুঠোফোনের বহুবিধ ব্যবহার। সমর বাবু বিশ্বাস করতেন সময়ের সাথে হাত মিলিয়ে চলতে না পারলে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তিনি ছিলেন এক অফুরন্ত প্রেরণার উৎস। অনুষ্ঠানের নানা পর্যায়ের বক্তারা সেই কথাই জানালেন বারবার। সমর বাবু ছিলেন এক আদ্যন্ত পারিবারিক মানুষ তবে কেবল রক্ত সম্পর্কের সীমানায় তাঁর পরিবার বাঁধা ছিলনা। সকলেই সশ্রদ্ধ চিত্তে সেই কথা ব্যক্ত করেছেন।


সমর বাবু রবীন্দ্র সংগীতের বড় অনুরাগী ছিলেন। তাই শ্রদ্ধানুষ্ঠানে শ্রদ্ধা জানাতে বেছে নেওয়া হয়েছিল রবীন্দ্রনাথের গান ও আবৃত্তিকেই। সৈকত শেখরেশ্বর রায় ও জয়তী চক্রবর্তীর পাঠ এবং সঙ্গীত পরিবেশন সমগ্র অনুষ্ঠানের মর্যাদা বাড়িয়েছে। একজন ক্লান্তিহীন মানুষের স্মরণ অনুষ্ঠান হয়তো এমনই হয়।

তাই তাঁর মহাপ্রস্থান হয়তো শোকের নয়, এক উদযাপনের অবসর হয়ে উঠেছিল এদিনের সন্ধ্যায়। অনুষ্ঠানের শেষেও যেন নিয়ত অনুরণিত হচ্ছিল তাঁর জীবনের মূলমন্ত্র
চরৈবেতি চরৈবেতি
এগিয়ে চলো, এগিয়ে চলো।

