প্রচ্ছদ 

দল বহিষ্কার করলে নতুন দল করে নিজের সাংগঠনিক শক্তির পরিচয় দেবেন হুমায়ুন

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবিরকে শোকজ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এতে তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি। বরং তিনি বলেছেন দলের যেমন ক্ষমতা আছে স্বাধীনতা আছে আমাকে শোকজ করার তেমনি আমারও উত্তর দেওয়ার স্বাধীনতা আছে। একই সঙ্গে তিনি এও বলেছেন কয়েক বছর আগেই দল আমাকে নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বহিষ্কার করেছে ছয় বছরের জন্য আবার সেই দলে আইপ্যাকের পরামর্শে দলে ফিরিয়ে দিয়েছিল। অর্থাৎ আমার জনপ্রিয়তা আছে বলেই দল বাধ্য হয়েছিল আমাকে ফিরিয়ে নিতে হুমায়ুন কবির এই ভাষাতে আক্রমণ করলেন তৃণমূল নেতৃত্বকে।

আসলে হুমায়ুন কবির সাংগঠনিকভাবে একজন যোগ্য নেতা হিসাবে মুর্শিদাবাদের পরিচিত। অধীর চৌধুরী এজন্যই হুমায়ুনকে বিধানসভায় পাঠিয়েছিলেন কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসাবে। আর এই হুমায়ুনকে মন্ত্রীর প্রলোভন দেখিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে এনেছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি বিশ্বস্ত হুমায়ুন কবির সেদিন তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ দিলেও কংগ্রেসের বিধায়ক হিসাবে পদত্যাগ করেছিলেন। আয়রাম গয়ারাম রাজনীতির যুগে হুমায়ুন কবির অবশ্যই ব্যতিক্রমী চরিত্র।

Advertisement

শনিবার সকালে শোকজের চিঠি পাওয়ার পর হুমায়ুন কোভিদ ঠান্ডা মাথায় স্পষ্ট সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন তিনি দলের শোকজের জবাব তৈরি করে রেখেছেন উত্তর দেবেন কিন্তু দল যদি তাকে বহিষ্কার করে সে ক্ষেত্রে নতুন দল তৈরি করবেন মুর্শিদাবাদের মানুষের সিদ্ধান্ত নেবে তারা তৃণমূলের সঙ্গে থাকবে না আমার সঙ্গে থাকবে। হুমায়ুন কবিরের এই হুঁশিয়ারির পর বেশ খানিকটা চাপে পড়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

এমনিতেই মুর্শিদাবাদ জুড়ে তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থা খুবই খারাপ। এই পরিস্থিতিতে হুমায়ুন কবিরের মত দক্ষ সংগঠনিক নেতা দলত্যাগ করলে বা বহিষ্কৃত হলে তার প্রভাব যে সমগ্র বাংলা জুড়ে পড়বে সে ব্যাপারে সন্দেহ থাকার কোন অবকাশ নেই। আর এরপরেও রয়েছে হুমায়ুন কবির একজন বাঙালি মুসলমান এই রাজ্যের বাঙালি মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এই মুহূর্তে তৃণমূল কংগ্রেস খুব ভালো অবস্থানে নেই এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতৃত্ব খাল কেটে যে কুমির আনার চেষ্টা করছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

সকলের চিঠির কথা শোনার পর হুমায়ুনের প্রতিক্রিয়া ‘‘দলের স্বাধীনতা আছে যে কোনও কর্মীকে শো-কজ় করার। আর আমারও তা মোকাবিলা করার পূর্ণ স্বাধীনতা আছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ন্যায়-নীতি, বিবেক বিক্রি করে মুখ্যমন্ত্রী কেন, কারও চাটুকারিতা করব না।’’ তিনি বলেন, ‘‘বাড়ি ফিরে শো-কজ়ের উত্তর দেব।’’ তিনি জানান, শো-কজ়ের চিঠি তাঁর ছেলে গোলাম আজাদ, যিনি তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তিনি ‘রিসিভ’ করছেন। হুমায়ুনের কথায়, ‘‘কী প্রশ্ন হবে জানি। তাই উত্তরও আমার কম্পিউটারে সাজানো আছে। রেডি (তৈরি) করে পাঠিয়ে দেব।’’ শো-কজ় নিয়ে তিনি যে ‘চিন্তিত’ নন, সেটা বোঝাতে হুমায়ুন বলেন, ‘‘আগেও ছ’বছর অকারণে সাসপেন্ড করেছিল। তার পর আইপ্যাকের মাধ্যমে আমাকে ফিরিয়ে আনা হয়। মানুষ সঙ্গে ছিল বলেই দল আমার প্রয়োজন বোধ করেছে। আগামিদিনে দল সেটা আরও ভাল ভাবে বুঝবে।’’ উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মন্তব্যের জন্য সাসপেন্ড হন হুমায়ুন।

কংগ্রেস, তৃণমূল এবং বিজেপি ঘুরে তৃণমূলে ফেরা হুমায়ুন কেন নতুন দল তৈরির কথা ভাবছেন? ভরতপুরের বিধায়কের জবাব, ‘‘নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে বুঝিয়ে দেব মানুষ কাদের সঙ্গে আছে। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এক সময় কংগ্রেসের সাংসদ ছিলেন। তার পর তিনি যোগ্য সম্মান পাননি বলে মুকুল রায়কে নিয়ে তৃণমূল তৈরি করেছিলেন। এটা তো অন্যায় কিছু নয়।’’

পঞ্চায়েত ভোটে ‘হিংসা’ নিয়েও দলের সমালোচনা করতে শোনা গিয়েছে হুমায়ুনকে। তিনি বলেন, ‘‘পঞ্চায়েতে এত হিংসা, মুর্শিদাবাদে এত মৃত্যু— বিধায়ক হিসাবে দুঃখ লাগে, লজ্জা হয়। দলের কোনও পদে যেহেতু আমি নেই, তাই বলারও কিছু নেই। আর আমায় বিধায়ক দল করেনি। মানুষ করেছে।’’

আক্ষরিক অর্থে বাঙালি মুসলিম একজন বিধায়ক হওয়ার কারণে হুমায়ুন কবির তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে তাহলে তার প্রভাব যে সমগ্র রাজ্যজুড়ে পড়বে এ বিষয়ে সন্ধান নেই। হুমায়ুন কবিরের প্রতি দলের এই অবস্থা মুর্শিদাবাদ এর সাধারণ মানুষের কাছেও খুব একটা ভালো সংকেত নয়। ৮০ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত জেলায় কেন হুমায়ুন কবিরদের মতো নেতাদের গুরুত্ব দেয়া হবে না সেই প্রশ্নটা জেলাতে বড় হয়ে উঠেছে। এবার দেখা যাক হুমায়ুন ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত কি সিদ্ধান্ত নেয়?

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ