কলকাতা 

শোকজ হুমায়ুন কবির ! মুর্শিদাবাদে সংকটে পড়বে তৃনমূল?

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবিরকে শোকজ করল তৃণমূল রাজ্য নেতৃত্ব। গত পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে যেভাবে হুমায়ুন দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মন্তব্য করছিলেন তাতে এটাই স্পষ্ট হয়েছিল শাস্তির খাঁড়া আসতে চলেছে। তাই স্বাভাবিক নিয়মেই হুমায়ুন কবির যে শাস্তি পাবেন তা নিয়ে কোন সন্দেহ ছিল না তবে কবে পাবেন সেটাই ছিল সাধারণ মানুষের প্রশ্ন। কিন্তু যে প্রশ্নকে সামনে রেখেই হুমায়ুন কবির শাস্তির মুখোমুখি হলেন তার খেসারত তৃণমূল নেতৃত্বকে যে দিতে হবে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

মুর্শিদাবাদের মত আশি শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীর জেলায় কেন শাওনি সিংহ রায়ের মতো একজন নেত্রী সবার উপরে ছড়ি ঘোরাবেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠাটাই স্বাভাবিক। সেই প্রশ্নটাই হুমায়ুন কবির গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তুলেছিলেন। আসলে আমরা আগেই বলেছি যে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে বিজেপির কিছু লোক রয়েছে যারা চেষ্টা করছে এই রাজ্যে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার। তারা ক্রমাগত সাংগঠনিক শক্তিতে যে সকল মুসলিম নেতা রয়েছেন তাদেরকে দুর্বল করে দিতে, এই বিষয়টি খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছেন মুর্শিদাবাদ এর ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবির। ফলে তিনি দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন আর তার খেসারত হিসাবে দল যে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সেটা নিশ্চিত ছিল।

শনিবার মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের সভাপতি শাওনি সিংহ রায় জানিয়েছেন, তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বের তরফে হুমায়ুনকে শো-কজ় করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিধানসভার অন্দরে নিজের বক্তৃতায় নাম না করলেও পঞ্চায়েত ভোট সংক্রান্ত বিষয়ে হুমায়ুনের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। তিনি বলেছিলেন, ‘‘মুর্শিদাবাদ জেলার রেজিনগরে আমাদের দলের এক জন আছেন, যিনি মাঝেমধ্যেই হুঙ্কার দেন। গুন্ডামি করেন। আমাদের দলে থাকলেও কিন্তু তাঁর কাজকর্মকে সমর্থন করি না।’’ তার পরেই হুমায়ুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে জল্পনা শুরু হয় বিধানসভায় শাসকদলের অন্দরে। শনিবার তৃণমূলের রাজ্য সভাপতির স্বাক্ষর করা শো-কজ়ের চিঠি পান হুমায়ুন। এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “আমাকে সাত দিনের মধ্যে দল উত্তর দিতে বলেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই দলকে জবাব দেব। তার পর দল যা সিদ্ধান্ত নেবে।”

প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রীর এ হেন মন্তব্যের আগেই গত মঙ্গলবার বিধায়ক হুমায়ুন বিধানসভার কোন কোন পদে রয়েছেন, সেই বিষয়ে জানতে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী ফোন করেছিলেন বিধানসভায় দলের উপ মুখ্যসচেতক তথা বর্ষীয়ান বিধায়ক তাপস রায়কে। বর্তমানে বিধানসভার দু’টি স্থায়ী (স্ট্যান্ডিং) কমিটিতে রয়েছেন মুর্শিদাবাদের হুমায়ুন। ‘পেপার লেড স্ট্যান্ডিং কমিটি’-র চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বিদ্যুৎ দফতরের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবেও কাজ করছেন। সে কথা দলের রাজ্য সভাপতিকে জানিয়েও দিয়েছেন তাপস।

হুমায়ুন অবশ্য বলেছিলেন, ‘‘দলের প্রতীকে বিধায়ক হয়েছি। আর বিধায়ক হয়েছি বলেই বিধানসভার কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দল যদি কোনও ব্যবস্থা নিতে চায়, তা হলে নিতেই পারে। কমিটির দায়িত্ব থেকেও সরাতে পারে। অন্য যে কোনও ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতেই পারে।’’ তার পরেই শো-কজ় করা হল তাঁকে।

হুমায়ুনের বিরুদ্ধে তৃণমূল নেতৃত্ব এর আগেও ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে তা ৮ বছর আগে। ২০১১ সালে কংগ্রেসের হয়ে রেজিনগর থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন হুমায়ুন।

এমনকি, নিজের অনুগামীদের পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূলের প্রার্থী না করতে পেরে নির্দল হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেন। দলের নির্দেশ অমান্য করায় হুমায়ুনকে সতর্কও করা হয়েছিল। কিন্তু হুমায়ুন সংযত না হওয়ায় তাঁকে শেষমেশ ফের শো-কজ় করা হল বলেই জানাচ্ছে তৃণমূলের একটি সূত্র।

তবে এ কথা ঠিক হুমায়ুন কবির মূলত কংগ্রেসের লোক। তিনি প্রথম কংগ্রেসের বিধায়ক হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন পরের তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মন্ত্রিত্বের লোক দেখিয়ে হুমায়ুনকে দলে নেয়া হয়। মন্ত্রী করা হয় কিন্তু সেবার তিনি বিধানসভার সদস্য পদে ইস্তফা দিয়ে তৃণমূলের যোগ দিয়েছিলেন উপ নির্বাচনে তিনি হেরে যান। এরপর তিনি আবার কংগ্রেসে ফিরে যান কিন্তু সেই কংগ্রেস থেকে কেন তৃণমূলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়েছিলেন সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। যে মানুষটি অন্যায় করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষায় যে মানুষটি এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করে সেই মানুষটিকে কেন তৃণমূল কংগ্রেস বারবার দলে নিচ্ছেন সেই প্রশ্নের উত্তর কিন্তু জননেত্রী দিচ্ছেন না। সুতরাং হুমায়ুন কবিরের মধ্যে কোথাও একটা রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলেই তাকে তৃণমূল কংগ্রেস নিয়েছিল। আজ তাকে শোকজ করা হয়েছে কিন্তু এটা মানতে হবে হুমায়ুন কবির যদি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে যান তাতে মুর্শিদাবাদে ক্ষতি হবে তৃণমূলের।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ