অন্যান্য কলকাতা 

বিধানসভায় হুমায়ুন কবিরের দাবি রাজ্যের মুসলিমদের সম্পর্কে তৃণমূলের অবস্থান স্পষ্ট

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বুলবুল চৌধুরী: মমতা সরকারের প্রাণ পাখি হল এই রাজ্যের সংখ্যালঘু বাঙালি মুসলিমরা। একথা বলতে কোথাও দ্বিধা নেই ২০২১ এ তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসার পর মমতা সরকার এই রাজ্যের বাঙালি মুসলিম সম্প্রদায়কে অবজ্ঞা করেছে অবহেলা করেছে। এ কথা আমরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলার জনরবে বলে আসছিলাম। কিন্তু তৃণমূল নেতৃত্ব এবং তাদের ঘনিষ্ঠ সংবাদ মাধ্যমগুলি কোনদিনই স্বীকার করতে চাইনি এই রাজ্যের সংখ্যালঘুরা মমতা সরকারের আমলে বঞ্চিত হয়েছে।

আমরা ব্যক্তিগতভাবে মমতা সরকারের বিরোধী নই! আমরা চাই যারা মমতার সরকারের প্রাণ পাখি হয়ে এই সরকারকে জীবন দিয়ে রক্ষা করছে,তাদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছু করুক। আপনারা লক্ষ্য করলে দেখবেন প্রতিটি নির্বাচনে জান মালের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এ রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়। সদ্য সমাপ্ত পঞ্চায়েত নির্বাচনেও আমরা দেখেছি যে ৫৩ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে সিংহভাগই মুসলিম সম্প্রদায়। আবার তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদেরও অধিকাংশই মুসলিম সম্প্রদায়ের। কিন্তু দুঃখের হলেও সত্য এ রাজ্যের বাঙালি মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য মমতা সরকার এখনো পর্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

পশ্চিম বাংলার মাত্র ৬১৪ টি সরকার অনুমোদিত মাদ্রাসা রয়েছে সেখানে শিক্ষক নেই। শিক্ষক দেয়ার প্রয়োজনীয়তা মনে করে না সরকার। যে মাদ্রাসাগুলিতে ছাত্র সংখ্যা বেশি সেই মাদ্রাসার গুলিতে শিক্ষক সংখ্যা এতটাই কম যে মাদ্রাসা চালানো দুষ্কর হয়ে পড়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের আধিকারিকরা সব জেনেও নিরব দর্শকের ভূমিকা গ্রহণ করেছেন। সরকার দাবি করে থাকে ১৬৯ টি সরকারি মাদ্রাসায় কম্পিউটার দেওয়া হয়েছে। দেওয়া হয়েছে দামী কম্পিউটার দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক দেওয়া হয়নি কোটি কোটি টাকা খরচা করে কম্পিউটার দেয়া হয়েছে কম্পিউটারগুলো মাদ্রাসার অভ্যন্তরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে জনগণের টাকা নষ্ট হচ্ছে। নিরব সংখ্যালঘু দফতর সংখ্যালঘু আধিকারিকরা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সকল মানুষকে সংখ্যালঘু দফতরের দায়িত্ব দিয়েছেন তাদেরই ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই আজ মাদ্রাসা গুলো শিক্ষার অভাবে ধুঁকছে।। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উচিত অবিলম্বে যোগ্য মানুষকে যোগ্য দায়িত্ব দেওয়া । সৎ আদর্শবান সংখ্যালঘু সমাজ সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল এমন মানুষদের যদি দায়িত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না দেন তাহলে আগামী দিনে সংকটে পড়বে তৃণমূল কংগ্রেস।

অন্যদিকে এতদিন ধরে যে অভিযোগটা বাংলার জনরব করে আসছিল এই রাজ্যের বাঙালি মুসলিমরা বঞ্চিত। তা গত শুক্রবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবির কার্যত বোমা ফাটিয়ে দিলেন। এই রাজ্যের অধিকাংশ মানুষই জানতেন না লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে যে অর্থ দেয়া হয় তা তফসিলি জাতি এবং উপজাতি সম্প্রদায়ের মহিলাদের জন্য এক হাজার টাকা আর অন্য সম্প্রদায়ের মহিলাদের জন্য ৫০০ টাকা। সংবিধানে যে সম অধিকারের কথা বলা হয়েছে তাতে সরকারের এই সিদ্ধান্তে ব্যাহত হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে।

হুমায়ুন কবিরের এই বক্তব্য বিধানসভায় সম্প্রচার হওয়ার পরে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা উত্তর দিতে গিয়ে যা বলেছেন তাতে মমতা সরকারকে যে আরো বিপাকে ফেলেছেন তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। এই রাজ্যের তফসিলি জাতি উপজাতি মহিলাদের সঙ্গে মুসলিম মহিলাদের আর্থিক সামাজিক ক্ষেত্রে প্রায় সমান শুধু সমান নয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুসলিম মেয়েরা তফসিলি জাতিদের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে এ কথা স্বীকার করেননি শশী পাঁজা। বরং তিনি জাত পাতের কথা তুলে এনে তৃণমূল বিধায়কের বক্তব্যকে নস্যাৎ করতে চেয়েছেন এতে আরও বিপাকে পড়তে চলেছে মমতা সরকার।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে সত্যিই এই রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় পিছিয়ে গেছে অনেকটাই।হুমায়ুন কবিরের এই বক্তব্য বিধানসভায় পেশ হওয়ার পর তা নিয়ে যেভাবে তার ব্যাখ্যা দিতে শুরু করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব তাতে আর যাই হোক এ রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক যে মমতার হাতছাড়া হবে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। এই অবস্থায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করছি। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেশের অন্যতম ধর্মনিপেক্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে মানুষ মনে করে। তাঁর আমলেই যদি বিভেদের রাজনীতি হয় তা নিয়ে অবশ্যই প্রশ্ন উঠবে তো বটেই।

সব মিলিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আমাদের পরামর্শ। এ রাজ্যের বাঙালি মুসলিমরা সত্যিই আপনার আমলে অনেকটাই ব্রাত্য। সমীক্ষা করলে দেখা যাবে আরো পিছিয়ে গেছে। বামফ্রন্টের আমলে যে অবস্থান ছিল সংখ্যালঘু মুসলিমদের তার তুলনায় অনেকটাই পিছিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে। তাই দ্রুত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ ধর্ম পালন করতে হবে। যদি  রামের আদর্শই বিশ্বাসী হন তিনি। রামচন্দ্র তাঁর রাজত্বে সব নাগরিককে সমান চোখে দেখেছিলেন। এমনকি জনতার চাপে তিনি তাঁর স্ত্রী সীতার অগ্নিপরীক্ষা নিয়েছিলেন। তাই মমতার কাছে এখন বড় প্রশ্ন এই রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের মেয়েদের কে লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে এক হাজার টাকা দিতে পারেন কি পারেন না?


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ