জেলা 

হাওড়ার বাইনান গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করল বাম কংগ্রেস আইএসএফ জোট

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের সাফল্য সবচেয়ে বড় হয়ে ধরা পড়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং হাওড়া জেলায়। এখানে ভোটের আগেই ভোট হয়ে গিয়েছিল। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অনেক আসন জিতে যায় শাসক দল। যদিও শাসক দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন কোন বিরোধী দলকে নমিনেশন পত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হবে না।

কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় এই দুই জেলার জনমত কিন্তু সরকার বিরোধী বলা যেতে পারে বা শাসকদল বিরোধী। এই দুই জেলার যেসব এলাকায় বিরোধীরা রুখে দাঁড়িয়ে ভোট করাতে পেরেছে সেখানেই তৃণমূল কংগ্রেস পরাস্ত হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তি মগরাহাট কুলপি কাকদ্বীপ এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েত এলাকায় ভালো ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছে বলে সংবাদ পাওয়া গেছে।

Advertisement

অন্যদিকে হাওড়া জেলাতেও একই পরম্পরা বজায় রয়েছে যেখানে সাধারন মানুষ রুখে দাঁড়াতে পেরেছে সেখানে পরিবর্তন এসেছে। আর এই পরিবর্তনের আবহাওয়া থেকে এটাই স্পষ্ট হয়েছে আগামী লোকসভা কিংবা বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বড় সংকটে পড়তে চলেছে। যেমন ধরা যাক বাগনান থানার বাইনান গ্রাম। এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অর্থাৎ বাঙালি মুসলমান। হাওড়া জেলার তৃণমূলের জনসমর্থন বা সবুজ ঝড়ে যখন সবকিছু কাত হয়ে গেছে, ঠিক তখনই মাথা উঁচু করে নিজের অস্তিত্বকে জাহির করছে বাইনান। সংখ্যালঘু প্রধান এই বাইনান গ্রামে পঞ্চায়েত নির্বাচনে ১৭ টি আসন জোট পেয়ে পঞ্চায়েত দখল করতে চলেছে অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ১১ টি আসন।

উল্লেখ্য বাইনান গ্রাম পঞ্চায়েতকে তৃণমূল মুক্ত করার নেপথ্যে বড় ভূমিকা নিয়েছেন সদ্য তৃণমূল ত্যাগ করে কংগ্রেসে যোগ দেওয়া হাফিজুর রহমান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের হাওড়া জেলা সংখ্যালঘু সেলের কার্যনির্বাহী সভাপতি পদে ছিলেন। তৃণমূল নেতৃত্বের অসহযোগিতা এবং নানা কাজকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনের ঠিক আগে হাফিজুর সাহেব কংগ্রেসের যোগ দিয়েছিলেন। যদিও হাফিজুর রহমান সাহেব কংগ্রেস রাজনীতির সঙ্গেই দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তিনি যুবক কংগ্রেস করতেন এবং যুব কংগ্রেসের হাওড়া জেলার সাধারণ সম্পাদক পদেও ছিলেন। এ হেন একজন সংগঠককে তৃণমূল কংগ্রেস ধরে রাখতে না পারার কারণে বাইনান সহ হাওড়া জেলার সংখ্যালঘু এলাকাতে তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থন হারাচ্ছে। আগামী লোকসভা নির্বাচনে উলুবেরিয়া লোকসভা কেন্দ্র তৃণমূল কংগ্রেস দখলে রাখতে পারবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

সুতরাং এই এলাকার বাঙালি মুসলমান সমাজ যে তৃণমূল কংগ্রেসকে ব্রাত্য করেছে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। ভোট যদি সুষ্ঠু এবং অবাধ করাতে পারতেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাহলে হয়তো আরো বেশি খারাপ ফল হতো তৃণমূলের কাছে। কিন্তু তাতে আর যাই হোক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা গর্ব করে বলতে পারতেন আমরা ভোট করিয়েছি ভোট করে হেরেছি।

সাধারণ মানুষের সহানুভূতি আগামী লোকসভা কিংবা বিধানসভায় পেতো। কিন্তু যেভাবে ভোট করানো হয়েছে তাতে যে এ রাজ্যের সংখ্যালঘু সমাজ কিংবা তৃণমূল কংগ্রেসের কমিটেড ভোট ব্যাংক হাতছাড়া হতে চলেছে সে ব্যাপারে কারো কোন সন্দেহ থাকার কথা নয়। পঞ্চায়েত ভোটের পর তৃণমূল নেতৃত্ব যদি আত্মসমীক্ষা করতে বৈঠক করে তাদের প্রথমেই মনে রাখতে হবে এ রাজ্যের বাঙালি মুসলিম সমাজ কেন তাদের কাছ থেকে সরে যাচ্ছে তার উপরে সমীক্ষা করা। যদিও আমরা এটা জানি তাদের দলের মধ্যে এমন কোন নেতা বা কর্মী নেই যে এই কথাগুলো বলতে পারেন। তবে বাংলার জনরব এ কথাটুকু বলতে পারে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগ্রহী হন এই রাজ্যের বাঙালি মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোট ব্যাঙ্কে বা বাঙালি মুসলমানদের কাছে কিভাবে নিজের জনপ্রিয়তাকে বৃদ্ধি করবেন মমতা,তাহলে  পরামর্শ দিতে প্রস্তুত তবে তিনি তা কি করবেন সেটাই এখন হাজার কোটি টাকার প্রশ্ন।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ