পঞ্চায়েত নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্য-জুড়ে রক্তের হোলি ! নিরব সিনহা ! সাত জনের অকাল মৃত্যুর পর দায়সারা মেসেজ ডিএম,এসপিদের!
বাংলার জনরব ডেস্ক : পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগের দিন থেকেই রাজ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত । শনিবার সকালে রাজ্যজুড়ে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে । গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু আজ শনিবার ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সাত জনের মৃত্যু হয় যার মধ্যে শাসক দলের ৫ জন । একজন সিপিএমের আর একজন বিজেপির । শনিবার সকাল থেকে যখন গোটা রাজ্য জুড়ে হিংসা, মুড়িমুড়কির মতো বোমাবাজির খবর আসছে,কিন্ত নির্বিকার রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা । নিরব রাজ্য নির্বাচন কমিশন । নির্বাচন শুরু হওয়ার চার ঘন্টা পর্যন্ত নিরব ছিলের রাজ্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন । সকাল ১০টার পর কমিশনের দফতরে এলেন রাজীব সিনহা। ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার, আউশগ্রাম, মানিকচকে খুন হয়ে গিয়েছেন ৭ জন। তার মধ্যে শাসক দল তৃণমূলেরই ৫ জন।
এই পরিস্থিতিতে যখন সংবাদ মাধ্যম কমিশনার কোথায় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ঠিক সেই সময় অর্থাৎ বেলা ১১টা নাগাদ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের (Election commission) পক্ষ থেকে সব জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে টেক্সট মেসেজ পাঠানো হল।সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর সেই মেসেজে বলা হয়েছে “জানি আপনারা সবাই আগুন নেভাতে আর অভিযোগ সামলাতে ব্যস্ত। তবুও বিরক্ত করছি। জেলা ধরে ধরে কোথায় কোন বুথে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে তার তালিকা দিন। ওই তালিকা স্পর্শকাতর ও স্পর্শকাতর নয় এমন শ্রেণিতে ভাগ করে দিন। কত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে সেই হিসাব চাইছি না।”
(All of you must be seriously busy in fire fighting and addressing complaints. Still bothering you. We need an info immediately from districts – name of booths where CAPF has been deployed and in position. Please divide the list into sensitive and non-sensitive categories. We don’t need quantum of force deployed.)

রক্তের হোলিতে যখন পঞ্চায়েত নির্বাচন চলছে ঠিক সেই সময় নির্বাচন কমিশনের দায়সারা গোছের মেসেজ বাংলার মানুষ আহত করছে । একটি সাংবিধানিক সাধারণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা দিতে পারছে, সেই সাংবিধানিক সংস্থার পদে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার কী রাজীব সিনহার আছে ? সেটা বাংলার মানুষ জানতে চায় । ইতিমধ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে অশান্তি হয়েছে তা নিয়ে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আর্কষণ করার সম্ভাবনা রয়েছে বিজেপি ও কংগ্রেস দলের ।
সবচেয়ে বড় কথা হলো শাসক দলের কর্মী-সমর্থকদেরও নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে মমতা প্রশাসন ও রাজ্য নির্বাচন কমিশন । শাসক দলের কর্মীদের যদি যথাযথ নিরাপত্তা দিতে না পারে কমিশন তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় ? বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “শাসক দলের পোষ্য রাজীব সিনহা কোথাও ঠিকমতো বাহিনী মোতায়েন করেনি। এই যে এত খুন হচ্ছে, রক্ত ঝরছে, এর জন্য দায়ী ওই লোকটাই। লাশের পাহাড়ের দিকে ও শকুনের মতো তাকিয়ে থাকবে”।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সাত জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে । পঞ্চায়েত নির্বাচন পর্যন্ত মৃত্যু মিছিল কোথায় গিয়ে শেষ হয় সেদিকেই নজর থাকবে আমাদের ।

