মুর্শিদাবাদের তিন জনের পর এবার নদীয়ার চাপড়ায় তৃণমূল কর্মীকে খুন করল দুস্কৃতিরা , মমতা প্রশাসন শাসকদলের সমর্থকদের নিরাপত্তা দিতেই ব্যর্থ!
বাংলার জনরব ডেস্ক : পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনে শুধু যে বিরোধীরা আক্রান্ত হচ্ছে তা নয় , শাসক দলের কর্মীরাও খুন হচ্ছেন, সকালে মুর্শিদাবাদ থেকে তিন জন তৃণমূল কর্মীর খুনের খবর পাওয়া গেছে । রেজিনগর, বেলডাঙা ও খড়গ্রামে তিন জন তৃণমূল কর্মী খুন হয়েছেন বলে জানা গেছে । অন্যদিকে আজ শনিবার পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন নদীয়ার চাপড়ায় খুন করা হলো এক তৃণমূল কর্মীকে । চাপড়ার কল্যাণদহে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। শাসকদলের দাবি, দলবদ্ধ ভাবে ভোট দিতে যাওয়ার সময় তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলা চালান কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকেরা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওই তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনায় ১১ জন তৃণমূল কর্মী গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে চাপড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভর্তি করানো হয়। সেখানেই আমজাদ হোসেন নামে এক তৃণমূল কর্মীকে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। যদিও বাম-কংগ্রেস নেতৃত্বের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে চাপড়ার তৃণমূল বিধায়ক রুকবানুর রহমান বলেন, ‘‘তৃণমূল সমর্থক ভোটারেরা ভোট দিতে যাওয়ার সময় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় কংগ্রেসের দুষ্কৃতীরা। সন্ত্রাস করে এলাকার দখল করতে চাইছে কংগ্রেস। তবে মানুষ নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার বুঝে নেবে।’’

অন্য দিকে, কংগ্রেসের দিকে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা কংগ্রেসের নেত্রী সিলভি সাহা। তিনি বলেন, ‘‘চাপড়ায় অবাধে ভোট লুট চলছে। কোথাও পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনী নেই। আমাদের কর্মীদের মারধর করে এলাকা ছাড়া করার চেষ্টা চলছে। তৃণমূল সন্ত্রাস করে বিষয়টি অন্য দিকে ঘোরাতে এই মিথ্যে অভিযোগ করছে।’’
প্রশ্ন উঠেছে, বিরোধী দলগুলি আক্রান্ত হওয়াটা স্বাভাবিক বিষয় । কারণ বিরোধী দল হিসাবে এরা সেভাবে প্রশাসনের সাহায্য পায় না । শাসক দলের কর্মীরা কেন আক্রান্ত হচ্ছেন ? এটাই সাধারণ মানুষের প্রশ্ন । তাহলে কী মমতা প্রশা্সন নিজের দলীয় কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে । আর ব্যর্থতার কারণেই এই রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই বিরোধীদের প্রশ্ন তোলার অবকাশ তৈরি হল।

