জেলা 

ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি খুলে দিন, ২০০ কর্মীর বেতন দিতে পারিনি বিচারকের কাছে কাতর আর্জি অনুব্রতের

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : শরীর ভালো না থাকলেও বীরভূমের প্রতি টান তাকে এখনো ভাবাচ্ছে। কারণ তাঁর চালকলের ২০০ জন শ্রমিকের এখনো বেতন হয়নি বেতন তিনি দিতে চান! কিন্তু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে রেখেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। তাই আজ দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল শুনানিতে অংশ নিয়ে আসানসোলের সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে বিচারককে বললেন দয়া করে ব্যাংক অ্যাকাউন্টটা খুলে দিন। আমার কর্মচারীদের বেতন দিতে পারিনি। তাদের বেতনের ব্যবস্থা করতে হবে।বললেন অনুব্রত মণ্ডল বীরভূমের দোদন্ড প্রতাপ তৃণমূল নেতা। কয়েক মাস আগেও যিনি ছিলেন বীরভূম জেলার অবিসংবাদী নেতা। সেই অনুব্রত মণ্ডল আজ আসানসোলের বিশেষ আদালতে এই আবেদন করলেন বিচারকের কাছে। বিচারক সব শুনে বললেন আপনি বললেই তো আর আমি এটা করতে পারি না আবেদন করুন বিষয়টি বিবেচনা করে দেখব।

দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল শুনানিতে অংশ নিয়েছিল অনুব্রত মণ্ডল ছাড়াও তার দেহরক্ষী সেহগাল হোসেন। এদিন বিচারক শুনানির প্রথমেই অনুব্রত মণ্ডলকে জিজ্ঞাসা করেন তার শরীর কেমন আছে তিনি বলেন ভালো নেই।

Advertisement

বিচারক রাজেশ চক্রবর্তী অনুব্রতের বক্তব্য শোনার পর তাঁর শারীরিক অসুবিধার বিষয়টি জেল কর্তৃপক্ষ যাতে নজরে রাখেন, সে জন্য জেল সুপারকে চিঠি পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন বিচারক।

বৃহস্পতিবার আসানসোল বিশেষ সিবিআই আদালতে গরু পাচারকাণ্ডে অভিযুক্ত অনুব্রত এবং তাঁর প্রাক্তন নিরাপত্তারক্ষী সহগল হোসেনের ভার্চুয়াল শুনানি ছিল। তিহাড় জেল থেকে উপস্থিত ছিলেন দু’জনেই। অনুব্রতকে দেখে বিচারক তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘‘আপনাকে খুব ক্লান্ত লাগছে। অনুব্রতবাবু, কেমন আছেন?’’ অনুব্রত জবাব দেন, ‘‘শরীর ভাল নেই। সব রকম অসুবিধা হচ্ছে।’’ বিচারক বলেন, ‘‘ডাক্তার দেখছে তো ?’’ কেষ্ট তখন উত্তর দেন, ‘‘ডাক্তার দেখাচ্ছি। জেলের মেডিক্যাল ওয়ার্ডে পড়ে আছি।’’ বিচারক বলেন, ‘‘বুঝতে পারছি।’’

এর পর বিচারক সহগলকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘‘তোমার গয়না রিপোর্ট অর্ধেক এসেছে।’’ তার পর সরকারি আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, ‘‘গয়নার রিপোর্টটা কী হল?’’ সরকারি আইনজীবী উত্তর দেন, ‘‘তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছি।’’ এর পর বিচারক সহগলকে বলেন, ‘‘আমি বিষয়টি দেখছি। অনেক দিন ধরেই বিষয়টা ঝুলে আছে। এ বার দ্রুত ব্যবস্থা হবে।’’ তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর সরকারি আইনজীবী বলেন, ‘‘স্যর ওঁর সঙ্গে কথা হয়েছে। পরবর্তী শুনানির দিনই সম্পূর্ণ রিপোর্ট জমা করা হবে।’’

সহগলের প্রসঙ্গ শেষ হতেই অনুব্রত বলে ওঠেন, ‘‘স্যর চালকলের অ্যাকাউন্টটা ডিফ্রিজ (খুলে) দিন।’’ বিচারক তখন জিজ্ঞাসা করেন, ‘‘কোন চালকল?’’ অনুব্রত জবাব দেন, ‘‘ভোলেব্যোম চালকল। ওই দু’টি অ্যাকাউন্ট যেন খুলে দেওয়া হয়। শ্রমিকেরা বেতন পাচ্ছেন না। ২০০ শ্রমিক আছে। বহু জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে।’’

বিচারক তখন বলেন, ‘‘আপনার মুখের কথায় আমি কোনও অ্যাকাউন্ট তো খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারি না। আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করুন। আপনার এবং সিবিআই দু’পক্ষের কথা শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’ বৃহস্পতিবার অবশ্য অনুব্রত এবং সহগল, দু’জনের কারও আইনজীবী ছিলেন না। এর পর বিচারক ৭ জুন পরবর্তী শুনানি হবে বলে নির্দেশ দেন।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ