‘মানিক ভট্টাচার্যর ফেলে যাওয়া জুতোয় পা গলাবেন না ‘ বর্তমান পর্ষদ সভাপতিকে পরামর্শ বিচারপতির
বাংলার জনরব ডেস্ক : ‘মানিক ভট্টাচার্যর (Manik Bhattacharya) ফেলে যাওয়া জুতোয় পা গলাবেন না ‘ বলে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের বর্তমান সভাপতি গৌতম পালকে পরামর্শ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের। পর্ষদ সভাপতির উদ্দেশ্যে বিচারপতির মন্তব্য ‘আমার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাতারাতি সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সময় টাকা থাকে। আইনজীবীদের পিছনে ৩০ লাখ টাকা খরচ করার সময় অসুবিধা হয় না। অথচ টেটের শংসাপত্র দেওয়ার সময় অর্থনৈতিক রীতিনীতির দোহাই দেওয়া হয় !’ ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ২০১৪ র পরীক্ষার্থীরা টেট শংসাপত্র পেয়ে যাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন গৌতম পাল।
২০১৪ প্রাথমিক টেটের সংশাপত্র সংক্রান্ত এক মামলায় আজ শুক্রবার আদালতে উপস্থিত ছিলেন গৌতম পাল। তখন তাঁকে উদ্দেশ্য করে এই মন্তব্য করেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। আইনজ্ঞ মহল বলছে, এক্ষেত্রে বিচারপতি বলতে চেয়েছেন, মানিক ভট্টাচার্য যে দুরকম ভূমিকা পালন করে গেছেন, অর্থাৎ একদিকে সবসময় বলে গেছেন সব নিময়মাফিক চলছে, অন্যদিকে দেখা গিয়েছে সব বেনিয়মে চলছে। সেই জায়গাটাই বর্তমান সভাপতিকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি।
নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় আগেই ED-র হাতে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক ও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য। সপরিবারে জেলে রয়েছেন তিনি। জেলবন্দি প্রাক্তন পর্ষদ সভাপতি ও তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে সম্প্রতি আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করে ED। নিয়োগ-দুর্নীতির তদন্তে বাজেয়াপ্ত করা ৫৬ কোটি টাকার সম্পত্তির মধ্যে প্রায় ৮ কোটির মালিক মানিক ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা ! মানিক ভট্টাচার্য, তাঁর পরিবার ও সংস্থার নামে থাকা ৭ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আদালতে রিমান্ড লেটারে দাবি করে ইডি।
পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, এই সমস্ত সংস্থাগুলির সঙ্গে মানিক ও তাঁর ছেলের সৌভিকের যোগ রয়েছে। ED-র তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, ডিএলএড-এ অফলাইন ভর্তির জন্য ৩ দফায় ২০১৮-২০২২, এই ৪ বছরে ২০ কোটি ৭৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা নেন মানিক ভট্টাচার্য। ২০১৮ থেকে ২০২০ সালে টাকার অঙ্কটা ছিল- ৪ কোটি ৭৭ লক্ষ ৪৫ হাজার। ED-র তরফে দাবি, ৩৫৩ টি কলেজে ভর্তির জন্য় ৯ হাজার ৫৪৯ জন পড়ুয়ার থেকে টাকা নেওয়া হয়।
নিয়োগ দুর্নীতি আবহেই গত বছর অগাস্ট মাসে প্রাথমিকে রদবদল হয়। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি হন কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য। সরিয়ে দেওয়া হয় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সদস্যদের। সরকার তৈরি করে ১১ সদস্যের নতুন অ্যাডহক কমিটি। নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি, অভীক মজুমদাররা প্রাথমিকের পরিচালন ব্যবস্থায় আসেন।
টেট ( TET ) নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জড়িয়েছেন মানিক ভট্টাচার্য। তাঁর জায়গাতেই বসানো হয় কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য গৌতম পালকে। দায়িত্ব নিয়েই স্বচ্ছতার আশ্বাস দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি বলেন, ‘কোনও কিছু লুকোবো না, কোনও অস্বচ্ছতা থাকবে না। টেট হবে প্রতিবছর, প্রত্যেকের অভিযোগ শুনব’।

