কলকাতা বিনোদন, সংস্কৃতি ও সাহিত্য 

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা উপলক্ষে একুশের ভাবনার বিশেষ অনুষ্ঠান

শেয়ার করুন

সংবাদদাতা,বাংলার জনরব : সাহিত্য সংস্কৃতি সমাজ সংস্কারক মূলক সংস্থা ‘একুশের ভাবনা’র উদ্যোগে বিগত কয়েক বছর যাবৎ বিভিন্ন সাহিত্য অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সংস্থার সম্পাদক ভাষাবিদ উর্দু সাহিত্যের বাংলা অনুবাদক বদরুদ্দোজা হারুন, সহ সম্পাদক সেখ আব্দুল মান্নান এবং বাবলা শহীদ আবুল বরকত স্মৃতি রক্ষা কমিটির সম্পাদক সৈয়দ সিয়াদত আলীর সহযোগিতায় গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ রবীন্দ্র সদন পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি সভাঘরে অনুষ্ঠিত হলো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ৭ম বর্ষ বিশেষ সাহিত্য অনুষ্ঠান। যে অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল ‘আন্তর্জাতিক বাংলা মাতৃভাষা দিবস ও ভাষা শহীদ আবুল বরকত’ বিষয়ক আলোচনা, গান, কবিতা ও অনুগল্প পাঠ। যাতে অংশ নিয়েছিলেন কলকাতা শহরের কয়েকজন স্বনামধন্য বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সঙ্গীত শিল্পী।

ওয়েস্ট বেঙ্গল সেটেলমেন্ট কানুনগো সমিতির প্রাক্তণ সম্পাদক মানিক্য নারায়ণ রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম পর্বের আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ গ্রহণ করেন দৈনিক সবার খবর পত্রিকার সম্পাদক কিংশুক ভট্টাচার্য, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাক্তণ সচিব আরফান আলী বিশ্বাস, অবসরপ্রাপ্ত ডব্লু বি সিএস অসিত কুমার দাস, রঞ্জিত কুমার মাইতি, শুভেন্দু চৌধুরী ও পত্রিকা সম্পাদক বদরুদ্দোজা হারুন।

Advertisement

দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার প্রফেসর ড. সুরঞ্জন মিদ্দে, অনুবাদ পত্রিকার সম্পাদক বিতস্তা ঘোষাল, এই সময়ে বাংলার জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক জারিফুল হক, বিশিষ্ট সাহিত্যিক সামসুজ জামান ও অনুবাদ পত্রিকার সহ সম্পাদক বিবেক চ্যাটার্জী।

আমন্ত্রিত বিশিষ্ট জনেরা উল্লিখিত বিষয়কেন্দ্রীক সবিস্তারে আলোচনা করলেও ব্যতিক্রমী আলোচনা করেন ড. সুরঞ্জন মিদ্দে, জারিফুল হক ও সামসুজ জামান।

এদিন আমন্ত্রিত অতিথি ঔপন্যাসিক জারিফুল হক তাঁর বক্তব্যে ‘আন্তর্জাতিক বাংলা মাতৃভাষা দিবস হিসেবে কেন একুশ ফেব্রুয়ারি পালন করা হয়, অন্য দিন নয় কেন?’ এই বিষয়ে বৌদ্ধিক আলোচনা করেন। সাহিত্যিক সামসুজ জামান আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে প্রাঞ্জল আলোচনা করেন। যেহেতু তিনি কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন আন্দামানে শিক্ষকতার চাকরিতে নিযুক্ত ছিলেন।

বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক গল্পকার সৈয়দ রেজাউল করিম একটি স্বল্প পরিসরের গল্প পাঠ করে অনুষ্ঠানের মানকে উন্নত করেন।

এদিন বৈচিত্রে ভরপুর অনুষ্ঠানের সূচনায় চারণ কবি জগবন্ধু সাহার ‘আবাই ফিরে আয়’ মর্মস্পর্শী দীর্ঘ কবিতাটি আবৃত্তি করে অনুষ্ঠানের সুর বেঁধে দেন ইদানীং নাট্যোগোষ্টীর সভাপতি তথা বিশিষ্ট লেখিকা সবিতা বেগম। বাবলা আবুল বরকত স্মৃতি রক্ষা কমিটির সম্পাদক সৈয়দ সিয়াদত আলীর একটি সুশ্রাব্য লিখিত প্রতিবেদন পাঠ করে অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করেন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব তথা সাহিত্যিক জয়ন্ত রসিক।

এদিন অনুষ্ঠানে পরিবেশিত একগুচ্ছ কবিতা ও গান অনুষ্ঠানকে উপভোগ্য করে তোলেন উপস্থিত কবি ও সঙ্গীত শিল্পীরা। কবিতা পাঠ করেন বন্দনা মালিক, হাবিবুর রহমান, মহ: আল্লারাখা, শাহানা জামান, আনোয়ার হোসেন, তারাপদ ধল, সুতপা মুখোপাধ্যায়, আরতি দে, রূপালী বিশ্বাস, তনিমা মুখোপাধ্যায়, অপর্ণা হালদার প্রমুখ। সঙ্গীত পরিবেশন করেন. রঞ্জিত কুমার মাইতি, শুভেন্দু চৌধুরী, সংযুক্তা বোস, ডালিয়া দত্ত প্রমুখ।

এদিন আভিজাত্যে পূর্ণ সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক সেখ আব্দুল মান্নান, মঞ্জুলিকা মুন্সী ও সুস্মিতা দাস।

 

 

 

 

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ