জেলা 

Lalan Sheikh Death Case: সিবিআই খুন করেছে আমার স্বামীকে পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করলেন লালনের স্ত্রী, রামপুরহাট সিবিআই ক্যাম্প ঘিরে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ, চরম ব্যাক ফুটে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা এজেন্সি

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক :সিবিআই হেফাজতেই খুন করা হয়েছে তার স্বামী লালন শেখকে  সিবিআই-এর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এই অভিযোগ দায়ের করলেন লালন শেখের স্ত্রী রেশমা বিবি। সিবিআই-এর আট আধিকারিকের বিরুদ্ধে রামপুরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন রেশমা বিবি।

এ বছরের ২১ মার্চ বগটুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় অন্যতম মূল অভিযুক্ত ছিলেন ভাদু শেখ ঘনিষ্ঠ লালন। বগটুই কাণ্ডের পর থেকেই ফেরার ছিল লালন। গত ৩ ডিসেন্বর লালনকে ঝাড়খণ্ডের পাকুড় থেকে গ্রেফতার করে সিবিআই। গত ৪ ডিসেম্বর প্রথমে তাঁকে ৬ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।

এর পরে গত ১০ ডিসেম্বর ফের লালনকে দ্বিতীয়বারের জন্য ৩ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। রামপুরহাটে পূর্ত দফতরের অস্থায়ী ক্যাম্প পান্থশ্রীতে সিবিআই-এর অস্থায়ী ক্যাম্পে রাখা হয়েছিল লালন শেখকে। সেখানে সিআরপিএফ-এর নজালরদারিতে রাখা হয় লালনকে। ওই ক্যাম্প অফিসের শৌচাগার থেকেই সোমবার লালনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই-ও।

আজই রামপুরহাট হাসপাতালে লালন শেখের দেহের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা। ময়নাতদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব।

অন্য়দিকে লালন শেখের রহস্য মৃত্যুর ঘটনায় তৎপর হয়েছে রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি-ও। লালন শেখের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে জেলা পুলিশের থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন সিআইডি আধিকারিকরাও। ময়নাতদন্তের সময়ও সিআইডি-র চার জন আধিকারিক উপস্থিত থাকবেন বলে খবর। এদিকে লালনের মা অভিযোগ করেন, ‘ছেলেটাকে এত মেরেছে যে ও সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিল না।’

আজ মঙ্গলবার সিবিআইয়ের শাস্তির দাবিতে রামপুরহাটের অস্থায়ী ক্যাম্পের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা।

বগটুই গ্রামের পূর্বপাড়ার বাসিন্দা সারুল শেখের কথায়, আমি হৃদরোগে আক্রান্ত। বগটুই কাণ্ডের পর গ্রামে অশান্তি হয়েছিল। এবার ফের বড় অশান্তির আশঙ্কার করছি। তিনি আরও জানান, সেদিন দেখলাম লালন স্বাভাবিকভাবে হেঁটেই গ্রামে এল। কিন্তু ইশারায়, আকার-ইঙ্গিতে ও বলছিল, সিবিআই ওর উপর মারাত্মক অত্যাচার করছে। যা দেখেশুনে আমার ভয় লাগছে। একই ধরনের কথা শোনা গিয়েছে গ্রামের আরেক বাসিন্দা হাসিনা বিবির গলাতেও। তিনি জানিয়েছেন, গত ২৭ থেকে ২৯ তারিখ গ্রামে এসেছে সিবিআই। ওঁর ছেলে আকাশ শেখকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল সিবিআই। তাঁর দাবি, “লালনের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু সেই রাতে তো আকাশ গ্রামেই ছিল না। সিবিআই তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে আতঙ্কে ও আর গ্রামে ফেরেনি।”

এদিকে লালনের সঙ্গে সিবিআইয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পে রয়েছে জাহাঙ্গির শেখ। লালনের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর বাবা মারফত শেখ সিবিআই ক্যাম্পে ছুটে যান। হাতজোড় করে সিবিআই আধিকারিকদের কাছে আরজি জানান, “লালনের মতো আমার ছেলেকে মেরে ফেলবেন না।” সবমিলিয়ে সিবিআই আতঙ্কে ভুগছে বগটুই গ্রাম। এদিকে স্বামীর মৃত্য়ুর পর আতঙ্কে ভুগছে রেশমা বিবি।

তবে গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় জটলা করেছেন গ্রামবাসীরা। সিবিআইয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পের বাইরে চলছে বিক্ষোভ। তাঁদের দাবি, সিবিআইয়ের শাস্তি হোক। জমায়েত করেছেন হাসপাতালের বাইরেও। এদিকে লালনের মৃত্যু নিয়ে মামলা দায়ের করতে চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। মামলা দায়েরের অনুমতি দিল আদালত।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ