প্রচ্ছদ 

প্রতিদিন শান দিতে হয় নিজেকে, তাহলে ভালো শিক্ষক হওয়া যায়। স্যান্ডফোর্ড-এর টিচার্স ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে বললেন আইএএস নুরুল হক

শেয়ার করুন

নায়ীমুল হকের প্রতিবেদন : শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা সব থেকে বড়, তাই আগামী দিনের ছাত্র সমাজকে গড়তে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উদ্দেশে বিশিষ্ট শিক্ষা প্রশাসক অবসরপ্রাপ্ত আইএএস শেখ নুরুল হক বলেন, ভালো শিক্ষক হতে গেলে বিষয়কে যেমন জানতে হয়, তেমনই নিজেকে উন্নীত করার আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকা খুব জরুরি।

প্রত্যেকদিন শিক্ষাদানের পর ভাবতে হয় আরো ভালোভাবে পাঠদান কী করে করা যায়। প্রতিদিন নিজেকে শান দেয় যারা, তাঁরাই ভালো শিক্ষক-শিক্ষিকা হন। রবিবার কলকাতার নিউটাউনে স্যান্ডফোর্ড ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে দক্ষিণবঙ্গের সরকারি এবং বেসরকারি বিদ্যালয় এর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে এক ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ এই কথাগুলি বলেন বর্তমানে জি ডি স্টাডি সার্কেল-এর চেয়ারম্যান শেখ নুরুল হক।

এদিন এই কর্মশালার প্রাথমিক পর্বে অষ্টম-নবম-দশম পড়ুয়াদের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল এক আকর্ষণীয় হাতে-কলমে বিজ্ঞান কর্মশালা। নাম দেয়া হয়েছিল “এসো মজায় শিখি বিজ্ঞান”। এই পর্বে অংশ নিয়েছিল বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা। কর্মশালার তত্ত্বাবধানে ছিলেন দুই প্রবীণ বিজ্ঞানী বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়াম এর প্রাক্তন অধিকর্তা সমর বাগচী এবং অধ্যাপক বি এন দাস। বিজ্ঞানের কঠিন পড়া তাঁদের স্পর্শে ছোট ছোট পরীক্ষার মাধ্যমে যেন হয়ে উঠছিল আনন্দময়। দৈনন্দিন ঘটনার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে নানা রকম ভাবে যুক্তি তথা বিজ্ঞানের ভিত কিভাবে মজবুত করতে হয়, তাই ছিল এদিনের কর্মশালের মুখ্য উদ্দেশ্য। থার্মোমিটার কোন নীতিতে চলে, বায়ুর পরিচলন ব্যবস্থা, বায়ুর চাপ কিভাবে কাজ করে, অভিকর্ষ এবং অভিকর্ষজ ত্বরণ, ভরকেন্দ্র বা সেন্টার অফ গ্রাভিটি, তরলের প্রসারণ, অবাধে পতনশীল বস্তুর যে ওজন থাকে না – এমন সমস্ত কিছু প্রমাণ একেবারে হাতেনাতে ছোট ছোট পরীক্ষার মাধ্যমে করে দেখান তাঁরা। ছাত্রছাত্রীরা নিজেরাও তা এক্সপেরিমেন্ট করে দেখে।

এ দিনের কর্মশালা প্রত্যক্ষ করতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদেরকে। ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহ দিতে সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন হাটগাছা হরিদাস বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক ড. পার্থসারথি দাস, হুগলির মশাট এ এম হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সুভাষচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। পড়াশোনাকে আনন্দময় করে তুলতে, ভীত মজবুত করতে এ ধরনের কর্মশালার কোনো বিকল্প হয় না। অল্প খরচে প্রতি বিদ্যালয়ে এ ধরনের ল্যাবরেটরি থাকা উচিত। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় এ ধরনের চিন্তা-ভাবনা হয়েছেও। তবে এ ধরনের হাতে-কলমে কর্মশালা শুধু আর চিন্তা ভাবনায় নয়, বরং শিক্ষক মহাশয়দেরকে শুরু করে দিতে হবে। এ ব্যাপারে স্যান্ডফোর্ড অ্যাকাডেমির এই কর্মশালা সকলকে উৎসাহিত করবে বলে তাঁরা তাঁদের মতামত ব্যক্ত করেন।

এদিন কর্মশালার শুভ সূচনা করেন বিশিষ্ট শিক্ষা আধিকারিক ও সুলেখক মেচবাহার সেখ। তিনি বিজ্ঞানমনস্কতার জন্য গোটা ছাত্রসমাজকে আহবান করেন। বিশেষ করে শিক্ষক সমাজকে তিনি আরো বেশি আত্ম অনুসন্ধানী হওয়ার জন্য মনঃনিবেশ করতে বলেন।

সুদক্ষ হাতে সমগ্র কর্মশালার সঞ্চালনা করেন দুই বিজ্ঞ শিক্ষক পান্থ মল্লিক এবং গৌরাঙ্গ সরখেল।

স্যান্ডফোর্ড ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ জসিমউদ্দিন মন্ডল বলেন শিক্ষার মান উন্নয়ন ঘটাতে বিশেষ করে শিক্ষক বন্ধুদের আরো বেশি সক্রিয় করে তুলতে বছরভর নানা রকম কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের দক্ষতার বিকাশে অ্যাপটিটিউড টেস্ট, মেধা অন্বেষা পরীক্ষা, অভিভাবকদের জন্য কাউন্সেলিং ইত্যাদি নানারকম কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে স্যান্ডফোর্ড ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তজুড়ে। যে বিপুল উৎসাহ নিয়ে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের মাননীয় প্রধান শিক্ষক এবং শিক্ষকেরা এগিয়ে এসেছেন তাতেও তাঁরা খুবই উৎসাহিত এবং অনুপ্রাণিত বলে জানিয়েছেন স্যান্ডফোর্ড-এর কর্ণধার জসিমউদ্দিন মন্ডল এবং তাঁর টিম।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ