শুভেন্দুর গড়ে কুণাল ঘোষ! পঞ্চায়েত নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরে কী তৃণমূলকে সাফল্য এনে দিতে পারবেন?
বাংলার জনরব ডেস্ক : পূর্ব মেদিনীপুরের পঞ্চায়েত নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দেওয়া হল কুনাল ঘোষকে। শুভেন্দু অধিকারীর জেলা বলে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুরের দায়িত্ব নিয়ে কী সফল হতে পারবেন কুণাল ? এই মুহূর্তেই পূর্ব মেদিনীপুরের তৃণমূলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে অখিল গিরিকে হঠাৎ করেই সরিয়ে দেওয়ার ফলে দলীয় গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে। আজ মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর থেকেই পূর্ব মেদিনীপুরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুণালকে। আসন্ন পঞ্চায়েত ভোট এবং হলদিয়ার পুরনির্বাচনকে পাখির চোখ করে কুণালকে এই ‘বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট’ দেওয়া হল বলে তৃণমূল সূত্রের খবর। তৃণমূল সূত্রের খবর, এ জন্য হলদিয়ায় একটি বাড়িও ভাড়া নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবারই আনুষ্ঠানিক ‘গৃহপ্রবেশ’ হলদিয়ার সেই বাড়ির।
এ প্রসঙ্গে কুণাল বলেন, ‘‘আমি দলের অনুগত এবং খারাপ সময়ের সৈনিক। দল যখন যে দায়িত্ব দিয়েছে কখনও পিছিয়ে আসিনি। এ বারও পিছিয়ে আসার প্রশ্ন নেই। সংগঠন দেখার কাজটা মূলত জেলার দায়িত্বে থাকা লোকজনই করবেন। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে পূর্ব মেদিনীপুরে সকলের মধ্যে সমন্বয় সাধনের কাজ করতে বলেছেন। সর্বস্ব দিয়ে তাই করব।’’
নন্দীগ্রামে বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে গিয়ে মমতার নির্বাচনী এজেন্ট শেখ সুফিয়ানের মানভঞ্জনেও কুণালের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। প্রসঙ্গত, দলীয় কোন্দলে বিরক্ত সুফিয়ানের ‘অভিমান’ ভাঙাতে সটান তাঁর বাড়িতেই চলে গিয়েছিলেন কুণাল। সুফিয়ানকে সঙ্গে করেই বিজয়ার অনুষ্ঠানের মঞ্চেও পৌঁছন তিনি। এ ছাড়াও শুভেন্দুর জেলার একাধিক বিজয়ার অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন কুণাল। এ বার সেই জেলার দায়িত্ব দেওয়া হল তাঁকে।
তবে কুণাল ঘোষ কী পারবেন পূর্ব মেদিনীপুরের তৃণমূলের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ! এটা এক কঠিন কাজ। কারণ পূর্ব মেদিনীপুরের অস্মিতার সঙ্গে কুনাল ঘোষ কতটা নিজের তিন মেলাতে পারবেন তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। পূর্ব মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র না হলে ওই জেলায় রাজনৈতিক সাফল্য পাওয়া খুব কঠিন হয়ে যায় ।

