পরিচালন সমিতির নিয়োগকৃত মাদ্রাসার শিক্ষক শিক্ষিকাদের সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখবে সুপ্রিম কোর্ট, ২ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি, মাদ্রাসা শিক্ষক শিক্ষিকাদের বঞ্চনার অবসান হবে দাবি মামলাকারীদের আইনজীবী আবু সোহেলের
বুলবুল চৌধুরি: দেশের শীর্ষ আদালত বারবার রাজ্যের সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরকে পরিচালন সমিতির নিয়োগকৃত মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন চালু করার নির্দেশ দিলেও দফতর সেই নির্দেশ কার্যকর করেনি। গতমাসে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট রাজ্যের সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরকে নির্দেশ দিয়েছিল অবিলম্বে বেতন চালু করার। সেই সঙ্গে নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল পরিচালন সমিতি কর্তৃক নিয়োগকৃত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা রাজ্য সরকারের ঘোষিত নির্দেশিকায় শিক্ষকতা যোগ্যতার সঙ্গে মিল হচ্ছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখেই বেতন চালু করতে হবে।
কিন্তু রাজ্যের সংখ্যালঘু দফতর সেই কাজটি না করে ক্রমাগত এইসব বেকার যুবক যুবতীদের নানাভাবে হেনস্থা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি হয়। মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয় বারবার বলা সত্বেও রাজ্যের সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না ।সুতরাং আগামী ৩১ শে অক্টোবরের মধ্যে যে সকল শিক্ষক শিক্ষিকা মাদ্রাসা পরিচালন সমিতির দ্বারা নিয়োগ পেয়েছেন তাদের সমস্ত কাগজপত্র দেশের শীর্ষ আদালতে জমা দিতে হবে।
দেশের শীর্ষ আদালত এই বিষয়ে আগামী ৩ নভেম্বর রায় প্রদান করবে, প্রত্যেকটি শিক্ষক শিক্ষিকার যোগ্যতা সম্পন্ন কাগজপত্র খতিয়ে দেখার পর স্বয়ং সুপ্রিম কোর্ট এই রায় ঘোষণা করবে বলে আজকের শুনানিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমান প্রধান বিচারপতি চাইছেন সংখ্যালঘুদের অধিকারকে সুরক্ষিত করতে সুপ্রিম কোর্ট সেই কাজ দক্ষতার সঙ্গে করে চলেছে বলে ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমনকি আজ হিজাব মামলাতেও দেখা গেল সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি খন্ডিত রায় প্রদান করেছেন।
কারণ এক বিচারপতি মনে করছেন কর্ণাটক হাইকোর্ট হিজাব মামলায় যে রায় প্রদান করেছে স্কুল কলেজ সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব নয় সেই প্রতিষ্ঠানের পোশাকই পড়তে হবে অন্যদিকে আরেক বিচারপতি মনে করছেন সংখ্যালঘুদের যে সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে সেই অধিকারকে কার্যকরী করতে হবে। সুতরাং হিজাব সংখ্যালঘু মেয়েদের অধিকার বলে তিনি রায় প্রদান করেছেন। এর ফলে দুটি রায় দু’রকম হওয়ার কারণে প্রধান বিচারপতির এজলাসে এই রায় পৌঁছেছে এবার প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্ত নিবেন কার পক্ষে রায় প্রদান করবেন মনে করা হচ্ছে সাংবিধানিক অধিকারের পক্ষেই এই রায় প্রদান করা হতে পারে।
আজকের শুনানি সম্পর্কে পরিচালন সমিতির পক্ষে মামলাকারী আইনজীবী আবু সোহেল জানিয়েছেন, আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে এই মামলার সমাপ্তি হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হয়ে থাকা পরিচালন সমিতির দ্বারা নিয়োগকৃত মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকারা তাদের বঞ্চনার অবসান হতে চলেছে। কারণ বারবার রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা অধিকর্তাকে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিলেও সেই নির্দেশ তারা পালন করেননি। ফলে আজ সুপ্রিম কোর্ট নিজের হাতে বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইনশাল্লাহ আমরা অবশ্যই বিচার পাবো ইনশাল্লাহ আমরা ইনসাফ পাব আইনজীবী আবু সোহেল মন্তব্য করেছেন।

