বৌদ্ধিক আলোচনায় সমৃদ্ধ বাংলার জনরবের বার্ষিক ভার্চুয়াল সাহিত্য অনুষ্ঠান
সংবাদদাতা বাংলার জনরব: গত ১৪ আগস্ট ২০২২ রবিবার নিউজ পোর্টাল বাংলার জনরবের বার্ষিক ভার্চুয়াল সাহিত্য অনুষ্ঠান তাৎপর্যপূর্ণ বৌদ্ধিক আলোচনায় মুখর হয়ে উঠেছিল আমন্ত্রিত বিশিষ্ট আলোচকদের প্রাণখোলা কথামালায়। আলোচনার বিষয় ছিল ‘ সমাজ সংস্কারে সাহিত্যের অবদান’। এতে অংশ নিয়েছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক হিস্ট্রি এ্যন্ড কালচারের প্রোফেসর ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ, গুয়াহাটি প্রাগজ্যোতিষ কলেজের অধ্যাপক ড. জ্যোতির্ময় সেনগুপ্ত এবং ক্যালকাটা গার্লস কলেজের অধ্যাপিকা ড. যূথিকা পান্ডে।
ঠিক এক বছর আগে সাহিত্যের তেমনই একটি বিষয় নিয়ে বাংলার জনরবের সাহিত্য বিভাগের ভার্চুয়াল সাহিত্য অনুষ্ঠানের সূচনা হয়েছিল। সেদিনও আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন প্রোফেসর মাহফুজুর রহমান আখন্দ এবং ড. জ্যোতির্ময় সেনগুপ্ত। আজকের অনুষ্ঠানে তাঁদের সঙ্গে ড. যূথিকা পান্ডেকে পেয়ে আমরা গর্বিত। সঙ্গে পেয়েছি বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞা তনুশ্রী দে কে। স্বাগত ভাষণে কথাগুলি বলেন পোর্টালের সম্মানীয় সম্পাদক সেখ ইবাদুল ইসলাম।

পোর্টালের সাহিত্য সম্পাদক গল্পকার সেখ আব্দুল মান্নানের সঞ্চালনায় এদিন গাম্ভীর্যপূর্ণ আলোচনার আগে শিল্পী তনুশ্রী দে সুকন্ঠে পরিবেশন করেন দুখানি কালজয়ী গান । সঞ্চালক মান্নানের ভারতের ৭৬ তম স্বাধীনতা দিবসের পূর্ব রাতে আয়োজিত ওই সাহিত্য অনুষ্ঠানের অতিথিদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে সাহিত্য সমাজকে প্রভাবিত করে – এই দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলায় নবজাগরণে রামমোহন রায়ের ভূমিকা ও তাঁর সাহিত্যের কথা উল্লেখ করেন। আলোচনার শুরুতে ড. জ্যোতির্ময় সেনগুপ্ত বলেন বিশ্বের বরেণ্য সাহিত্যিকদের সাহিত্য অবশ্যই সমাজ সংস্কারে সহায়ক। তবে এখন তা কিভাবে হচ্ছে তার বিশ্লেষণ সাপেক্ষ। প্রসঙ্গত তিনি বলেন এখন মাতৃভাষা বাংলায় পড়াশোনা বা চর্চা রীতিমত প্রশ্নচিহ্নের মুখে। ইংরেজি ক্রমশঃ গ্রাস করছে গোটা সমাজকে।নানা প্রতিকূলতার মধ্যে আজ যা কিছু সাহিত্য সৃষ্টি হচ্ছে তার পাঠক কোথায়। সুতরাং এই সময়ে সমাজ সংস্কারে সাহিত্য কী অবদান রাখতে পারে তা অনুমান করতেই পারি!
অধ্যাপিকা যূথিকা পান্ডে ড. জ্যোতির্ময়ের সঙ্গে সহমত পোষণ করে বলেন – মিডিয়ার যুগে ছাত্রদের সাহিত্য সম্পর্কে বোঝাতে গেলেই তারা শুনে পড়ে অনুধাবন না করে ডাউনলোড সাহিত্যের প্রতি বেশি আগ্রহী। এ এক মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা। তিনি বলেন আশার কথা এই যে করোনার জন্য বন্ধ থাকা গত দু’বছর পর এবারের বইমেলায় অনেক বই বিক্রি হয়েছে।
অধ্যাপিকা পান্ডের এই যুক্তি কে সামনে রেখে প্রোফেসর মাহফুজুর রহমান আখন্দ নির্ধারিত বিষয়ের আলোচনায় আশা ব্যক্ত করেন। তিনিও বলেন হ্যাঁ, এবার বাংলাদেশে ঢাকা বইমেলাতেও প্রচুর বই বিক্রি হয়েছে। তিনি বিচার বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে এবার পাঠকেরা সস্তা চটকদারি বইপত্রের পরিবর্তে বুদ্ধিবৃত্তিক বইপত্রই বেশি কিনেছে। সুতরাং হতাশার জায়গা নেই। সময়ের সাথে সাযুজ্য রেখেই নৈতিক দায়িত্ব সহকারে সাহিত্য সৃষ্টি হলেই সে সাহিত্য বর্তমান প্রজন্ম গ্রহণ করবে।
ড. আখন্দের কথা প্রসঙ্গে ইবাদুল ইসলাম সম্প্রতি কলকাতায় প্রকাশিত ইসমাইল দরবেশের উপন্যাস ‘ তালাশনামা’র কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন প্রকাশের সাথে সাথে ওই উপন্যাসের প্রথম সংস্করণ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় সংস্করণও শেষের পথে । তিনি বলেন উপন্যাসের বিষয়বস্তু সমাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কযুক্ত বলেই এমনটা সম্ভব হয়েছে।
পরিশেষে সঞ্চালক আব্দুল মান্নান বলেন এই প্রযুক্তির যুগে আজও স্কুল কলেজে যে সাহিত্য পড়ানো হয় তার সিংহভাগই পাঁচ ছ’দশক আগের সৃষ্ট সাহিত্যই। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখনও সাহিত্য তেমন সৃষ্টি হয়নি বলা যায়। তথাপি আমরা আশাবাদী সমাজ সংস্কারে সাহিত্যের অবদান আগে যেমন ছিলো, এখনও আছে আগামীতেও থাকবে।

