ফল ঘোষণার পর, নানুর ও হাওড়ায় খুন তৃণমূল কর্মী, জেলায় জেলায় অশান্ত! শান্তি রক্ষা করার প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান ব্যর্থ
বীরভূমের নানুরে ভোট-পরবর্তী ‘হিংসা’র বলি এক। নানুরে এক তৃণমূলকর্মীকে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল। মৃতের নাম আবির শেখ। পরিবারের অভিযোগ, আবিরকে রাস্তায় একা পেয়ে বিজেপিকর্মীরা ঘিরে ধরে তাঁকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ।
বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চম্পাহাটির পঞ্চায়েত অফিসে উত্তেজনা ছড়াল। অভিযোগ, মঙ্গলবার সকালে বিজেপি কর্মীরা দলীয় পতাকা লাগিয়ে বাঁশ দিয়ে ঘিরে ওই অফিসের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেন। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের ফুলতলা দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, সীতাকুণ্ড মোড়ে অবস্থিত ওই কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে সেখানে বিজেপির দলীয় পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়।
শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের ওয়ার্ডেই তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল। শুধু গৌতমের ওয়ার্ড ৩৩ নম্বরে তাঁর দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠল। কার্যালয়ে ভিতরে থাকা টেবিল, চেয়ার ভেঙে দেওয়া হয়। স্থানীয় তৃণমূল কর্মী মানস ভৌমিক বলেন , ‘‘বিজেপিআশ্রিত গুন্ডাবাহিনী আমাদের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। যাদের এখনও সরকার গঠন হয়নি , তাদের এই পরিস্থিতি।’’ কার্যালয়ের বাইরে লাগানো তৃণমূলের পতাকা খুলে নেওয়ার অভিযোগ। যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি নেতা সুজয় বিশ্বাসের কথায়, “এ সব বিজেপি কাজ নয়। আমাদের দলীয় নেতৃত্ব এমন কোনও নির্দেশ দেয় না। যাঁরা রাতারাতি মুখে আবির মেখে বিজেপি হতে চাইছেন, তাদের কাজ এ সব।’’
রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কৃষ্ণনগরের বাদকুল্লা মোড় এলাকা। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয় দখল করে সেখানে বিজেপির পতাকা টাঙিয়ে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। শুধু দখলই নয়, কার্যালয়ের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং শেষে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ। তৃণমূলের দাবি, বিজেপিআশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, ঘটনার সময় কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ করেনি। যদিও এই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।
হাওড়ার উদয়নারায়নপুরে বিজেপির কর্মী সমর্থককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, মৃতের নাম যাদব বর (৪৮)। পরিবারের দাবি, যাদব বিজেপি সমর্থক। ভোটের ফল স্পষ্ট হতেই অন্যদের সঙ্গে আনন্দে মেতেছিলেন তিনি। বেরিয়েছিলেন মিছিলেও। অভিযোগ, রাত ১১টা নাগাদ বাড়ি অদূরে যাদবকে তুলে নিয়ে যান কয়েক জন। তার পরে তাঁকে মারধর করা হয়। ধারালো অস্ত্রের কোপ মারা হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে উদয়নারায়ণপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হতেই দিকে দিকে শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ। কলকাতা পুলিশ সমাজমাধ্যমের পাতায় কড়া নজর রেখেছে। ভুয়ো খবর ছড়ানো হলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই বাঁকুড়ার বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির খবর মিলেছে। তৃণমূলের কার্যালয়গুলির ‘দখল’ নেওয়া শুরু করেছে বিজেপি, অভিযোগ এমনই। শুধু তা-ই নয়, তৃণমূলের বেশ কয়েকটি কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগও উঠেছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ভাল ফল করলেও এতদিন তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত ছিল বাঁকুড়া। তবে সোমবার ভোটের ফলপ্রকাশের পর দেখা যায় বাঁকুড়ার ১২টি বিধানসভা আসনেই জয় বিজেপির। তার পর থেকেই বাঁকুড়ায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা তৃণমূলের কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ উঠছে। বাঁকুড়া শহরের একের পর এক কলেজে হানা দিয়ে ছাত্র সংসদ রুমগুলির ‘দখল’ নিল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)।
মঙ্গলবার সাত সকালেই বাঁকুড়ার পাঁচবাগা মোড়ে তৃণমূলের টোটো সংগঠনের কার্যালয়ে হানা দিয়ে ভাঙচুর চালানোর চেষ্টা বিজেপির। একই ভাবে হামলা চালানো হয় বাঁকুড়ার গোবিন্দনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় থাকা তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসির কার্যালয়ে। ওই কার্যালয়ের সামনে থাকা আইএনটিটিইউসির পতাকা খুলে টাঙিয়ে দেওয়া হয় বিজেপির পতাকা।
রাত থেকে অশান্ত চলছিল নানা জায়গায়। রুবি এলাকায় তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে।
পশ্চিমবঙ্গে ভোট মিটতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়। বাড়ি ভাঙচুর, মারধরের অভিযোগ উঠেছে নানা জায়গায়। তৃণমূলের অভিযোগ, ভাঙড়ে বিজয়ী আইএসএফের নেতা-কর্মীরা রাতভর তাণ্ডব করেছেন বিভিন্ন এলাকায়। ভোট-পরবর্তী হিংসায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে নিমকুড়িয়া গ্রামে। বেঁওতায় তৃণমূল নেতার বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। তৃণমূল করার ‘অপরাধে’ বাড়িতে ঢুকে মহিলা-সহ একটি পরিবারের সমস্ত সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

