কলকাতা 

কলকাতায় সর্বধর্ম সমন্বয়ে ‘ঈদ মিলন’ উৎসবে চাঁদের হাট

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : দেশ যখন সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পে জর্জরিত, ঠিক সেই সময়ই পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের উপলক্ষে সর্বধর্ম সমন্বয় ঈদ মিলন উৎসব পালিত হলো কলকাতায়। বুধবার কলকাতায় জামাতে ইসলামী হিন্দ এর উদ্যোগে বিভিন্ন ধর্মের ধর্ম গুরুদের নিয়ে ঈদ মিলন উৎসবের আয়োজন করা হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে সমস্ত ধর্ম গুরুদের উপস্থিতিতেেে চাঁদের  হাটের নেয়। এদিন কবিতা,গান ও আবৃত্তির মাধ্যমে সুস্থ সাংস্কৃতিক মঞ্চ তৈরি হয়ে ওঠে। উপস্থিত বক্তারা দেশের বর্তমান হিন্দুত্ববাদী সরকারকে কঠোর সমালোচনা করেন। গুটিকয়েক সম্প্রদায়িক হানাহানিতে বিশ্বাসীরা কোনদিনও বৃহৎ সংখ্যক শান্তি প্রিয় মানুষের বিরূদ্ধে সফল হতে পারবেনা বলে মতব্য করেন অনেকেই। পাশাপাশি শান্তি প্রিয় মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

এদিনের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য ও অধ্যাপক, অধ্যাপিকাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতে সাধারণ মানুষের করনীয় কি তা তুলে ধরেন।

Advertisement

১,

ঈদ মিলন উৎসবে জীবনে প্রথমবার এসেই খুবই আনন্দ উপলব্ধি করেছেন বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক দীপঙ্কর দে, তিনি বলেন প্রতিবছর ভিন্ন ধর্মের মানুষদের নিয়ে এই মিলন উৎসব পালন করার জন্য আমাদের প্রত্যেকেই সামনে এগিয়ে আসতে হবে।..

২,

রমজান মাস সারা বছর প্রশিক্ষণের মাস। রোজার মধ্য দিয়ে গরিবের ক্ষুধার কষ্ট সহজেই আমরা উপলব্ধি করতে পারি বলে মন্তব্য করেন জামাতি ইসলামী হিন্দের সদস্য আবুল কাসেম, তিনি রমজান মাস নিয়ে কি বলেছেন শুনে নেবো,,,,

৪,

সর্ব ধর্মের মানুষ নিয়ে ভারত বর্ষ গঠিত। হিন্দু রাষ্ট্র গঠনে বিজেপি ও আরএসএস-এর অলীক স্বপ্ন কোনদিন পূরণ হবে না বলে মন্তব্য করেন কৃত্তিবাস ,,,,

৫,

বিজেপি হিন্দুধর্মকে গডসে বাদী ও গান্ধী বাদী দু ভাগে ভাগ করে দিয়েছে। হিন্দু ধর্ম প্রকৃত রূপ কে বিকৃত করে তুলছে বর্তমান সরকার। মুসলিমদের আজান, হিজাব ইস্যু যতটা প্রভাব পড়বে তার থেকে বেশি হিন্দু ধর্মের প্রকৃত রূপ ধ্বংসের মুখে। জয় শ্রী রামের নামে অন্য ধর্মের উপর আঘাত হানছে,ফলে যা ইতি মধ্যে সারা বিশ্বে হিন্দু ধর্ম কালিমা লিপ্তের পথে বলে মন্তব্য করেন আব্দুল আজীজ,,,,

৬, বন্দী মুক্তি কমিটির সভাপতি ছোটন দাস বলেন,

সম্প্রতি আরএসএস প্রতিনিধিদলের পরিকল্পনার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। সেখানে আগামী দিনে অ-

হিন্দুদের কিভাবে আক্রমণ করা হবে তার ব্লু প্রিন্ট তৈরি করে ফেলেছে। অ-হিন্দুদের উপরে বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে ভারতে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি বলেন হিটলারের অত্যাচারী শাসন যেমন স্থায়ী ছিল না ঠিক তেমনি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সর্ব ধর্মের মানুষের ঐক্যবদ্ধতাই আরএসএসের অলীক স্বপ্ন হিন্দু ধর্মকে উৎখাত করে দেবে।

৭,

বৌদ্ধ, জৈন ও শিখ ধর্ম ভারতবর্ষেই তৈরি। এখানে আরএসএসের স্বপ্ন হিন্দুরাষ্ট্র তৈরি করা তা কোনোভাবেই সফল হবে না বলে মন্তব্য করেন খ্রিস্টান পাদ্রী সঞ্জীব।

৮,

দেশের অর্থনৈতিক ব্যাবস্থা পুঁজিবাদীদের হাতে চলে গিয়েছে সেদিকে লক্ষ্য রেখে প্রকৃত অর্থে ভারতবর্ষের নাগরিক অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীনতা পায়নি বলে ভবানীপ্রসাদ মজুমদারের লেখা স্বাধীনতার মানে কবিতা উপস্থাপন করেন সঙ্গীত শিল্পী প্রদীপ,

৯,

শত বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই ভারত বর্ষ। যেখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের ধর্ম পালন করতে কোনদিনও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় নি। একসময় আযানের শব্দ কতইনা মিষ্টি লাগত। আজ হিন্দু ধর্ম বাঁচানোর নামে যে সাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তি তৈরি করা হচ্ছে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না। পুরানো দিনের কথা স্মৃতিচারণ করেন ডাক্তার কেয়া গুপ্তা..

১০,

এদিনের অনুষ্ঠানের মাঝে বিখ্যাত গজল “পৃথিবী আমার আসল ঠিকানা নয়” উপস্হাপন করেন জামাতি ইসলামী হিন্দের অফিস সেক্রেটারী সাবির,,,

১১,

নিজেদের আত্মসমালোচনার সঙ্গে সঙ্গে মানব ধর্মে দীক্ষিত হয়ে তা ভারত বর্ষ তথা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন বৌধ ধর্ম গুরু অরুণ জ্যোতি ভিক্কু,,

১২,

সাম্প্রদায়িক শক্তিকে কোনভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না, আগামী দিনে এই ঈদ মিলন উৎসবের মতো সম্প্রীতির বার্তা সকল ধর্মগুরুকে ব্যবস্থা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন কবি প্রসুন ঘোষ,,,,

১৩,

অবশেষে সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের অধ্যাপিকা জয়তী বসু রবি ঠাকুরের গানের মাধ্যমে মহান ঈদ মিলন উৎসবের অনুষ্ঠানটি শেষ হয়,,,,

 

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ