প্রচ্ছদ 

ঈদ-উল-ফিতর উৎসবে মুসলিমদের প্রতি মিল্লি নেতাদের আবেদন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

প্রিয় দ্বীনি ভাই,

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

আপনারা জানেন, সারা দেশে বেশিরভাগ রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে ভালো রকম ফাটল ধরেছে। দুর্বৃত্ত ও সমাজবিরোধীরা খোলাখুলিভাবে শান্তি ও ঐক্যকে বিনষ্ট করতে চাইছে। প্রায় প্রত্যেকদিন এখান-ওখান থেকে কিছু না কিছু অস্বস্তিকর খবর আসছে। ধর্মীয় উৎসব পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা এবং একতাকে লালন করে থাকে, কিন্তু তা এখন হিংসা-বিদ্বেষ ছড়ানোর মাধ্যম হয়েছে। রাজনৈতিক স্বার্থের প্রতিভূরা সমাজবিরোধী ও দুর্বৃত্তদের মাধ্যমে হিংসার বাতাবরণ সৃষ্টি করছে। এইসব আবহের মধ্যে রমযান শেষে ঈদের উৎসব কয়েকদিন পর অনুষ্ঠিত হবে। মুসলিমদের উচিৎ এমনভাবে ঈদ পালন করা, যাতে হার্দিক সম্পর্কের উন্নতি হয়, শান্তি ও মিত্রতার পরিবেশ বজায় থাকে। কোনও সমাজবিরোধী বা দুর্বৃত্ত যেন শান্তি বিঘ্নিত করতে সুযোগ না পায়। দেশের প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব, মুসলিম সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন মসলকের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের তরফ থেকে মুসলিমদের উদ্দেশ্যে নিম্নলিখিত নির্দেশনামা জারি করা হলঃ–

১) মহল্লায়-মহল্লায় মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সকলের সঙ্গে মিটিং করতে হবে। শান্তি কমিটির দ্বারা কাজ করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, যাতে দুর্বৃত্তরা অশান্তি সৃষ্টি না করতে পারে। যদি কেউ অশান্তি করে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে হবে।

২) প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে নিশ্চিত করতে হবে যে, শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে তারা কোনোমতেই দেবে না।

৩) রাজ্য, জেলা ও স্থানীয় স্তরে সকল ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে হবে। দেশে শান্তি বিঘ্নিত হবে এমন কোনো দুষ্টচক্র বা রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার আবেদন তাদের মাধ্যমে করতে হবে।

৪) ঈদগাহের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানাতে হবে। সম্ভব হলে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগাতে হবে।

৫) ঈদগাহে যাবার পথে এবং ঈদের নামায পড়ে ফেরার পথে মুসলিমরা যেন কোনো প্ররোচনার ফাঁদে পা না দেয়।

৬) ঈদগাহে এমন বক্তব্য না দেওয়া হয়, যাকে বিকৃত করার সুযোগ কেউ পেয়ে যায়। পরিষ্কার ভাষায় ও সতর্কতার সঙ্গে বক্তব্য রাখতে হবে। সকল ঈদগাহ কমিটি ও মসজিদ কমিটি উপরোক্ত কথাগুলো যেন মেনে চলে।

স্বাক্ষরকারীঃ

মাওলানা মুহাম্মদ রাবে’ হাসান নাদভী, প্রেসিডেন্ট – অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সনাল ল’ বোর্ড

মাওলানা সৈয়দ জালাল উদ্দিন উমরী, প্রেসিডেন্ট – শরীয়াহ কাউন্সিল

সৈয়দ সাদাতুল্লাহ হোসাইনি, আমীর – জামাআতে ইসলামী হিন্দ

ড. সাইয়েদ আলি মুহাম্মদ নাকভী, সহ-সভাপতি – অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সনাল ল’ বোর্ড

মাওলানা সাইয়েদ আরশাদ মাদানী, প্রেসিডেন্ট – জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ

মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রহমানী, জেনারেল সেক্রেটারি – মুসলিম পার্সনাল ল’ বোর্ড

মাওলানা মহসীন ত্বাকি, ইমাম ও খতিব – শিয়া জামে মসজিদ, কাশ্মীরি গেট

ড. জাফারুল ইসলাম খান, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট – অল ইন্ডিয়া মুসলিম মজলিশে মুশাওয়ারাত

মাওলানা জালাল হায়দার নাকভী, কনভেনর ও মুখপাত্র – অল ইন্ডিয়া শিয়া কাউন্সিল

মাওলানা আসগার আলি ইমাম মাহদী সালাফী, আমীর – মারকাযী জমিয়তে আহলে হাদীস হিন্দ

মাওলানা সুফিয়ান কাসেমী মুহতামিম, দারুল উলুম দেওবন্দ (ওয়াকফ)

ড. মঞ্জুর আলম, জেনারেল সেক্রেটারি – অল ইন্ডিয়া মিল্লি কাউন্সিল

মাওলানা সাইয়েদ মাহমুদ আসাদ মাদানী, প্রেসিডেন্ট – জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দ

মিস্টার নাভেদ হামিদ, প্রেসিডেন্ট – অল ইন্ডিয়া মুসলিম মজলিশে মুশাওয়ারাত

মাওলানা ইয়াসিন আখতার মিসবাহী, রাযা একাডেমী

ড. সৈয়দ কাসেম রসুল ইলিয়াস, সদস্য – অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সনাল ল’ বোর্ড

তাং ২৯ এপ্রিল ২০২২

প্রচারে:

জামাআতে ইসলামী হিন্দ, পঃবঃ


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ