জেলা 

সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার নন্দীগ্রামে তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান, চাঞ্চল্য জেলা জুড়ে

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূল পঞ্চায়েতের প্রধান গ্রেফতার। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ১ নং ব্লকের অন্তর্গত দাউদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শামসুল ইসলাম কে গতকাল শুক্রবার রাতে নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এই তৃণমূল গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে দুর্নীতি অভিযোগ রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বিভাগীয় তদন্তে সেই দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ার পর স্থানীয় বিডিও সুমিতা সেনগুপ্তের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এই পঞ্চায়েত প্রধানকে গ্রেপ্তার করেছে।

সূত্রের খবর, তৃণমূল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সামসুলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। গত জানুয়ারিতেই তাঁর বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টে মমলা করেছিলেন ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের তিন সদস্য। অভিযোগ ছিল, ব্যাংকে উচ্চপদে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও প্রধানের পদ দখল করে বসে আছেন সামসুল। এছাড়াও ওই এলাকার সরকারি গাছ কেটে সেই অর্থ আত্মসাৎ করা কিংবা সাবমার্সিবিল পাম্প না বসিয়েই কাজ শেষ হওয়ার বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ার মতো নানা অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

Advertisement

এইসব বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তাই প্রশাসনিক দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ওই পঞ্চায়েতের তিন সদস্য কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। সেই আবেদনের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনকে এ ব্যাপারে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। সেই তদন্তের রিপোর্ট জমা পড়ে হলদিয়া মহকুমা শাসকের কাছে। এরপর গত ৬ এপ্রিল নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের বিডিও (BDO) সুমিতা সেনগুপ্ত নন্দীগ্রাম থানায় গ্রাম পঞ্চায়েত সামসুল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতেই গতকাল, শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় সামসুলকে।

তবে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানকে গ্রেপ্তারের পর থেকে এলাকায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি শুরু হয়। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁর সমর্থকরা। এই আশঙ্কা আগেই করেছিল পুলিশ। তাই আগেভাগেই অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে অভিযুক্তকে। আজ, শনিবার তাঁকে হলদিয়া কোর্টে তোলা হবে। এমন পরিস্থিতিতে ৩ অভিযোগকারী পঞ্চায়েত সদস্য আব্বাস বেগ, চন্দনা পাণ্ডা ও নাজমা খাতুন আতঙ্কে ভুগছেন।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ