চূড়ান্ত বেকারত্ব আর্থিক সংকট ও ঋণের দায়ে বিগত তিন বছরে ২৫ হাজারের বেশি ভারতীয় আত্মহত্যা করেছে সংসদে স্বীকার করে নিল মোদি সরকার, দেশ জুড়ে চাঞ্চল্য
বাংলার জনরব ডেস্ক : গত তিন বছরে আর্থিক সঙ্কটের কারণে ২৫ হাজারের বেশি ভারতীয় আত্মহত্যা করেছেন, গতকাল বুধবার সংসদে এই তথ্য পেশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আর এই তথ্য সামনে আসার পর দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দু’দিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, কংগ্রেসের আমলে তেমন কিছু হয় নি, কিন্তু দেখা যাচ্ছে বিগত তিন বছর ২৫ হাজার মানুষ মারা গেছে আর্থিক সংকটের কারণে।
গত কয়েক বছর ধরেই বেকারত্বের জ্বালা ও ঋণের নাগপাশে জর্জরিত দেশবাসী। সাম্প্রতিক অতীতে বারবার এই অভিযোগ করে এসেছেন বিরোধী নেতারা। এবার সেই দাবিতে সিলমোহর দিতে বাধ্য হল কেন্দ্র। সর্বকালীন রেকর্ড গড়েছে বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতির জেরে নাজেহাল দেশবাসী। সঙ্গে রয়েছে দেউলিয়া ও ঋণের বোঝা। সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক দুরবস্থার সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ২৫ হাজার ২৫১ জন। যার মধ্যে সর্বোচ্চ কোভিড বর্ষ অর্থাৎ ২০২০ সালে।
২০২০ সালে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৮ হাজার ৭৬১ জন আত্মহত্যা করেছেন। এঁদের মধ্যে তিন হাজার ৫৪৮ জনের এই চরম সিদ্ধান্তের নেওয়ার কারণ চাকরি হারানো। এদিন সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্যগুলি প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই। যেখানে দেখা যাচ্ছে বেকারত্বের কারণে ২০১৮ থেকে ২০২০ সালে আত্মহত্যা করেছেন যথাক্রমে ২৭৪১, ২৮৫১ ও ৩৫৪৮ জন। দেউলিয়া হয়ে অথবা ঋণের বোঝায় চাপা পড়ে আত্মাহুতি দিয়েছেন ৪৯৭০, ৫৯০৮ ও ৫২১৩ জন।
পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে এই তথ্য সামনে আসার পর মোদি সরকার বেশ খানিকটা বেকায়দায় পড়ে গেল বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী য অভিযোগ করে আসছিলেন তা কার্যত কেন্দ্রীয় সরকার গতকাল সংসদে স্বীকার করে নিল। এর প্রভাব ছুটি বিধানসভা নির্বাচনে দেখা যায় তাহলে তা বিজেপির কাছে মারাত্মক হতে পারে।

