প্রচ্ছদ 

ডিএ মামলায় হাইকোর্টের রায় ঐতিহাসিক, স্যাটেও আমরা জিতব : আইনজীবী সরদার আমজাদ আলী

শেয়ার করুন
  • 91
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম :  টানা ১৭ মাসে ৩৪টি শুনানীর শেষে আজ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবশিষ করগুপ্ত ও বিচারপতি শেখর ববি শরাফের ডিভিসন বেঞ্চ এক রায়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্য সরকারের কর্মচারীদের ডিএ পাওয়া অধিকার, তা রাজ্য সরকারের দয়ার দান নয় । এই মামলায় সরকারী কর্মচারীদের পক্ষের আইনজীবী সরদার আমজাদ আলি রায় বের হওয়ার পর একান্ত সাক্ষাৎকারে  বাংলার জনরবকে জানিয়েছেন, কলকাতা হাইকোর্টের এই রায় ঐতিহাসিক । সরকারী কর্মচারীদের কাছে এই জয়ও ঐতিহাসিক। তিনি বলেন, এই রায়ের পর রাজ্য সরকারের কর্মচারীদের কাছে এখন থেকে ডিএ আইনী অধিকারের মধ্যে পড়ে গেল । এতদিন ধরে রাজ্য সরকার হাইকোর্ট তো বটেই এমন কী স্যাটেও সওয়াল করেছিল ডিএ রাজ্য সরকারের অধিকার নয়, এটা দয়ার দান।

হাইকোর্টে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল দাবি করেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের বহুদিনের একটা রায় দেখিয়ে যে ডিএ সরকারী কর্মচারীদের অধিকার নয় । বিশিষ্ট আইনজীবী সরদার আমজাদ আলী বলেন, আমরা অ্যাডভোকেট জেনারেলের এই সওয়ালের জবাব দেওয়ার জন্য ২০০৯-র রোপা আইন যা দেশের সংবিধানের ৩০৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে রাজ্য সরকার করেছিল তা তুলে ধরে আমরা হাইকোর্টকে বলেছিলাম এই আইন অনুসারে ডিএ রাজ্য সরকারের দয়ার দান নয়, বরং আইনী অধিকার। আমাদের সওয়ালকে মহামান্য আদালতের দুই বিচারপতি কার্যত স্বীকারে করে নিয়ে ডিএ সরকারী কর্মচারীদের অধিকার বলে রায় দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমার কাছে এই মামলা প্রথমে নিয়ে আসেন, আইএনটিইউসি-র নেতা রমেন পান্ডে এবং রাজ্য সরকারী কর্মচারীদের নেতা মলয় মুখোপাধ্যায় । আসলে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের কর্মচারীদের জন্য প্রতি দশ বছর অন্তর পে কমিশন বসে থাকে। সেই পে কমিশনের রিপোর্টে ডিএ দেওয়ার প্রসঙ্গটা থাকে । সেখানে দেশের কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স অনুসারে ডিএ দেওয়ার কথা বলা হয় । কিন্ত দেখা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ক্ষমতায় আসার পর ডিএ দেওয়ার যে সিস্টেম বছরে দুবার তা মাত্র একবার দিতে থাকে । এরফলে কেন্দ্র এবং রাজ্যের ডিএ-র মধ্যে পার্থক্য অনেকটা বেড়ে গেল । সেই সময় রমেন পান্ডে এবং মলয় মুখোপাধ্যায় আমার কাছে আসেন এবং এবিষয়ে মামলা করা যায় কিনা তা নিয়ে আলোচনা করেন। এদের সঙ্গে কথা বলে রাজ্য সরকারের নিয়ম অনুসারে আমি স্টেট অ্যাডমিনিস্টেটিভ ট্রাইবুন্যালের কাছে আবেদন করি ,ডিএ বৈষম্য নিয়ে । সরদার আমজাদ আলী বলেন , কিন্ত স্যাট এই মামলায় পরিস্কার জানিয়ে দেয় যে ডিএ সরকারী কর্মচারীদের অধিকার নয়। এটা সম্পূর্ণ রাজ্য সরকারের মর্জির উপর নির্ভর করে । স্যাটের এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের ডিভিসন বেঞ্চে আবেদন করি। সেখানে ১৭ মাস ধরে ৩৪ টি শুনানী হওয়ার পর আজ বিচারপতি দেবাশিষ করগুপ্ত ও বিচারপতি ববি শরাফের ডিভিসন বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন।

আবার আপনাদেরকে স্যাটের কাছে হাইকোর্ট পাঠাল কেন ? এই প্রশ্নের উত্তরে দুঁদে আইনজীবী সরদার আমজাদ আলী বলেন,এই মামলার তিনটি দিক ছিল। এক, ডিএ যে ‘দয়ার দান’ নয়, তা প্রমাণ করা। সেই প্রশ্নে জয় হয়েছে রাজ্য সরকারি কর্মীদের। কারণ হাইকোর্ট রায় দিয়েছে, রাজ্যের ইচ্ছায় নয়, বরং আইনী অধিকারে ডিএ পাবে রাজ্য সরকারের কর্মচারীরা।

দ্বিতীয়ত, রাজ্য সরকারী কর্মীরা কি কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মীদের সমতুল মহার্ঘভাতা পাবে। তা স্থির করার জন্য স্যাটকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। দুমাসের মধ্যে স্যাটকে বিচার করে রায় দিতে হবে। আইনজীবী সরদার আমজাদ আলী এ প্রসঙ্গে বলেন কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছে, দেশের কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স অনুসারে কেন্দ্র রাজ্যের সমান ডিএ হওয়া উচিত কিনা তা বিচার করে দেখতে স্যাটকে বলেছে। অর্থাৎ দেশের মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সমান ডিএ দেওয়া যায় কিনা তা বিচার করে দেখতে বলেছে। আর এর সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে নির্দিষ্ট সময় । এর মধ্যেই সিদ্ধান্ত জানাতে হবে স্যাটকে।

আমজাদ সাহেব বলেন ,আর তৃতীয়ত, রাজ্যের যে সমস্ত কর্মী চেন্নাই বা বঙ্গভবনে কর্মরত, তারা কেন্দ্রের সমহারে ডিএ পাচ্ছে। অথচ রাজ্যের কর্মরত কর্মীরা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কেন এমন  নিয়ম। এনিয়ে স্যাটের কাছে আবেদন করতে পারেনি রাজ্য সরকারের কর্মীরা । কারণ স্যাট প্রথমেই জানিয়ে দিয়েছিল, ডিএ রাজ্য সরকারের কর্মচারীদের অধিকার নয়, রাজ্যের ইচ্ছার উপর ডিএ দেওয়া, না দেওয়া নির্ভর করে। সরকারী কর্মীদের দাবি মেনেই, হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই বৈষম্য মূলক বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারী কর্মীরা আবেদন করতে পারবে ট্রাইবুনালে।

আইনজীবী আমজাদ আলি এই প্রসঙ্গে বলেন, স্যাট এর আগে আমাদের কোন কথা না শুনে জানিয়ে দিয়েছিল ডিএ রাজ্য সরকারী কর্মীদের অধিকার নয় । আজকের রায়ের পর স্যাট একথা বলতে পারবে না। এক প্রশ্নের উত্তরে সরদার আমজাদ আলী বলেন, দেশের সংবিধান অনুসারে সম-কাজে সম বেতন দেওয়া বাধ্যতামূলক । পরাধীন ভারতবর্ষে সম কাজে বেতন বৈষম্য ছিল বলে আজও থাকবে এটা চলবে না। কারণ দেশের নাগরিক ও সরকারের কাছে সংবিধানই শেষ কথা বলে । আর এ থেকেই আমাদের প্রত্যাশা স্যাটেও আমরা জয়ী হব।

 

 

 

 

 


শেয়ার করুন
  • 91
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment