চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মন্ডপে বিপর্যয়ে ঘোষক চিহ্নিত, দোষীদের ধরতে সিসিটিভি খতিয়ে দেখছে পুলিশ
সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনে মাইক্রোফোন হাতে ছিল কুশল মজুমদার ওরফে কালিয়ার। তিনিই দুর্ঘটনার পূর্ব মুহূর্তে দর্শনার্থীদের উদ্দেশে ঘোষণা করেছিলেন। অপর ধৃত সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টু এবং কালিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। এমনটাই লালবাজারের একটি সূত্রে খবর।
গত শুক্রবার সকালে গ্রেফতার হন চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোর ঘোষক কালিয়া। সে দিনই তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট প্রকাশ্যে এসেছিল। সেখানে তিনি দাবি করেছিলেন, পুলিশের এক জনের কথায় সম্ভাব্য দুর্ঘটনার কথা জানিয়ে মণ্ডপ থেকে সরে যেতে বলেছিলেন দর্শনার্থীদের। কোন পরিস্থিতিতে তিনি সেই ঘোষণা করেছিলেন, ইতিপূর্বে পুলিশের কাছে সে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) তাঁর বক্তব্য শুনেছে। এখন লালবাজার সূত্রে খবর, দুর্ঘটনার আগে সেন্টু কালিয়াকে বলেছিলেন যে, তিনি ‘ভিতরে যাচ্ছেন’। অর্থাৎ, পুজো কমিটির সদস্যদের বসবার জায়গায়। কালিয়া ঘোষকের দায়িত্ব নেন। কিন্তু কালিয়ার ঘোষণার সঙ্গে দুর্ঘটনার সময় এবং সম্পর্ক কতটা, সে ব্যাপারে আরও তদন্তের প্রয়োজন। আর এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ।
চোরবাগান মণ্ডপে বসানো হয়েছিল ৩০টি সিসি ক্যামেরা। পুলিশ চোরবাগানে বসানো সিসি ক্যামেরার দু’টি ডিভিআর বাজেয়াপ্ত করেছে। একটিতে ১৪টি ক্যামেরা এবং অন্যটিতে ১৬টি ক্যামেরার ফুটেজ থাকার কথা। সূত্রের খবর, এর মধ্যে একটি ডিভিআর থেকে মাত্র ১৩টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া গিয়েছে। বাকিগুলি আর পাওয়া যায়নি। কখন এবং কোন পরিস্থিতিতে ঘোষক দুর্ঘটনার আগে ঘোষণা করেছিলেন, তা তদন্ত করছে পুলিশ। তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে দুই ঘোষকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে চান তদন্তকারীরা। এ জন্য আদালতে আবেদন করা হবে বলে খবর।

