স্ক্রিন টাইম নয়, বাড়ুক কাগজের বই পড়ার অভ্যাস
*স্ক্রিন টাইম নয়, বাড়ুক কাগজের বই পড়ার অভ্যাস*
স্ক্রিন টাইম বেড়েই চলেছে, সঙ্গে বাড়ছে মানসিক অবসাদ।
তবে, কী করা!মনস্তাত্ত্বিক এক গবেষণায় জানা যাচ্ছে, বই আপনাকে এই অবসাদ থেকে মুক্তি দিতে পারে। শুনলে একটু আশ্চর্য হবেন বই কী!
বইয়ের পৃষ্ঠার সঙ্গে আঙ্গুলের স্পর্শ এবং নতুন-পুরোনো পাতার সুঘ্রাণ মস্তিষ্ককে গভীরভাবে শান্ত করে, এমনকি মনোযোগের ক্ষমতাও বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ!
সত্যিই কী তাই? কিন্তু এর যুক্তি কী?
আমরা যখন কাগজের বই পড়ি, তখন আমাদের হাত বুঝতে পারে আমরা বইয়ের কতটুকু অংশ পড়েছি আর কতটুকু বাকি আছে। পাতার এই ফিজিক্যাল স্পেস আমাদের মস্তিষ্ককে একটি ‘মানসিক মানচিত্র’ তৈরি করতে সাহায্য করে যা বাস্তবের সঙ্গে সামঞ্জস্যশীল করে। ফলে আমরা আনন্দ পাই, মনেও থাকে।
এবার আসি পৃষ্ঠার সুঘ্রাণ প্রসঙ্গে। আমাদের নাক অর্থাৎ ঘ্রাণ ইন্দ্রিয় সরাসরি মস্তিষ্কের ইমোশনাল সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত। বইয়ের পাতার সুঘ্রাণ বা ‘লিব্রিচোর’ যখন আমাদের নাকে পৌঁছায়, তখন মস্তিষ্ক একে কোনো বিপদের সংকেত হিসেবে দেখে না। বরং এটি অতীত কোনো ভালো স্মৃতি, শান্ত পরিবেশ বা সুরক্ষার অনুভূতিকে জাগিয়ে তোলে, যা চোখের পলকে কর্টিসল (মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী হরমোন) কমিয়ে মনকে শান্ত করে।
স্ক্রিনে পড়ার সময় আমাদের অবচেতন মন সবসময় এই বুঝি নোটিফিকেশন এসে পড়ল, উদ্বেগের মধ্যে থাকে, যাকে বলা হয় ‘কগনিটিভ ওভারলোড’ বা মানসিক ক্লান্তি। কিন্তু কাগজের বই পড়ার সময় এ ধরনের কোনো ডিস্টার্ব বা উদ্বেগের প্রশ্ন থাকে না, ফলে মস্তিষ্ক একক কাজে মনোনিবেশ করতে পারে, যা মনোযোগের ক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
সৌজন্যে : ম্যাথস ফোরাম, কলকাতা

